—–‘পঞ্চায়েত প্রহসনের পর’—–

669342-cpim-attackedমেরামত করার একটু চেষ্টা হল বটে,কিন্তু রক্তের স্রোত বয়ে গেল।আই পি এল চলতে চলতেই, পঞ্চায়েত ভোট নতুন ‘সাফ গেমস’ এর হুইশল দিয়ে গেল।’সাফ’কে কেন্দ্র করে গ্রাম গঞ্জের বাকরি লেপা উঠোনে রক্তের স্রোত বয়ে গেল।রক্তেই ধুয়ে মুছে সাফ।ভদ্রস্থ ‘ভেটেরান ক্যালকাটান’রা হাহাকারটুকুও করলেন না।বিদ্বজ্জনরা নিদেন পক্ষে একটি মোমবাতি মিছিল বের করলেন না,প্রকাশ্য দিবালোকে গনতন্ত্রের হত্যার প্রতিবাদে।কচুরীপানার মত ঠেলে সরিয়ে নির্বাচন কমিশন কিছুটা লোকদেখানো চেষ্টা করেছিল বটে,সরেও গেল নীরবে।আবার পুনর্মূষিক ভব।

পুরোটাই রিপিট টেলিকাস্ট।আমরা বিব্রত ছিলাম তেলের দর নিয়ে,ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা নিয়ে,কাশ্মীরের উগ্রপন্থা নিয়ে,সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে,ভাগাড়ের মাংস খাওয়া নিয়ে,কে কে আরের অবনমন নিয়ে,বৃটেনের যুবরাজের বিয়ে নিয়ে,রবি ঠাকুরের জন্মদিন নিয়ে,উন্নাও,কাঠুয়া এই সব ‘সিরিয়াস’ আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বিষয় নিয়ে।সেখানে এই সামান্য ‘পঞ্চায়েত ইলেকশন’ নিয়ে গোলা পাবলিকও যে এত ঘেউ ঘেউ করবে,সেটা বোধহয় নবান্ন আগে থেকে উপলব্ধি করতে পারেনি।রাজ্যের উপর দিয়ে হুজুগ আর উন্নয়নের ওয়েভ চলছে।এমনই ঝড় (আঁধি বললেও চলে)যে চোখে ধুলো ঢুকে যায়।সত্যিই চোখে ধুলো দিয়ে উন্নয়ন কি করে করা যায়,তা আগামী দিনে আর্কাইভে স্থান পাবে।

জীবিকা নেই,হাসপাতালগুলো মৃত্যুর পীঠস্থান,কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য হাহাকার,একের পর এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিজেদের পাততাড়ি গুটিয়ে সরে পড়ছে,অটো টোটো ট্যাক্সির দাপটে পথচারী যাত্রীদের প্রাণ ওষ্ঠাগত, সেই সময়ে সংবাদের শিরোনামে পঞ্চায়েত ভোট চলে আসাটা কি খুব জরুরী ছিল?আরে বাবা,খেলা দেখো,ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ঘুরে ঘুরে ছবি দেখো,পাড়ায় পাড়ায় ম্যারাপ বেঁধে রবীন্দ্র জয়ন্তী করো,তলিয়ে থাকো,হুজুগে থাকো,সহজে মাথা তোলার ঝুঁকি নেওয়ার দরকার কি?

শাস্ত্রে বলেছে মৃত্যু উত্তীর্ণ হতে গেলে মৃত্যুর মধ্যে দিয়েই যেতে হয়।সমবেত দুর্নীতির মধ্যে দিয়ে চলতে চলতে সেটাই বড় বাস্তব ঠেকে।লোক দেখানো স্টিয়ারিং হাতে নিয়ে পাবলিকের জীবন গাড়ির চাকা পিছনে গড়াচ্ছে।জোড়াতালি গোঁজামিলের প্রশাসন আরক্ষ প্রতিরক্ষায় বিস্তর ঢক্কানিনাদ করে চলেছে,কিন্তু আমাদের আঙুলের ডগা থেকে, চুলের গোড়া পর্যন্ত আতঙ্কের সিরসিরানি।মুষ্টিমেয় নীতিভ্রষ্ট,চরিত্রহীন,সমাজবিরোধী, রাষ্ট্রঘাতকের কলমে রচিত রাজ্যের প্রগতিচিত্রের নিচে অনেক খানাখন্দ, অনেক কারচুপি,বিস্তর গরমিল।কথায় বেড়েছে।রাজ্য মাথায় বাড়েনি।

আজ থেকে জৈষ্ঠ্য মাস শুরু।কাল ছিল অমাবস্যা।আজ থেকে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের রমজান মাস শুরু।তারই মাঝে “মারের সাগর পাড়ি” দেবার এমন উদগ্র বাসনা কেন?ক্ষতবহুল বঙ্গজীবনে রঙ্গতামাশার হাজারো উপকরণ আছে।গনতন্ত্র কে আদর করে যান,শুঁকে যান,খবর্দার ভুলেও আত্মস্থ করার চেষ্টা করবেন না।সর্বক্ষেত্রে বামনত্বের ছাপ স্পষ্ট।মজে থাকুন।বহুমাত্রিক ব্যামো,বর্ণময় আঁতলামো আর ন্যাকামোয় মজে থাকুন।চারপাশে এত হাসিখুশি মানুষ,ধর্ম না মানেন,ভেক তো ধরতেই পারেন! ফরমাশ খাটা মানুষের একি রূপ?

নীরবতা চেপে চলা মানুষ,প্রশাসনের ক্ষমতায় লগ্নীকারী মানুষ, স্লোগানের কোরাসে গলা মেলানো মানুষ আত্মবিস্মৃতি থেকে জেগে উঠছে,বুথে বুথে সমবেত প্রতিরোধ সংগঠিত হচ্ছে।আপাতমূর্ছিত মানুষের দেহে প্রাণের লক্ষণ ফিরে আসছে,পাড়ায় পাড়ায় ঘুমপাড়ানি গানের দিন শেষ হয়ে আসছে,পিঠ চাপড়ানি আর মধুর সোহাগ বলে মনে হচ্ছে না।চৈতন্য সক্রিয় হচ্ছে।ভেতরে বাইরে পুড়তে পুড়তে ছাই হয়ে গেছে বলে যারা ভেবেছিল,সেই ছাই এর তলাকার আগুন কারও চোখে পড়েনি।খেলা তাই এবার আগুন নিয়েই।এই আগুন কেবল জ্বালায় না।জ্বালানী তে রূপান্তরিত হয়।সম্প্রতি যে ধিক্কার উঠছে সমাজের নানা স্তর থেকে,এই নখদন্তহীন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে,ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে,পঞ্চায়েত নির্বাচনের বিরুদ্ধে,তাকে আমরা অভিনন্দন জানাই।বোধ এবং বোধির মুক্তির আনন্দে শামিল হই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *