নোটবন্ধীতে দিদির এত জ্বালা কীসের?

aa-Cover-bij1vc5i5aid8a39522bvd7lt6-20161129131631.Medi৫০০ ও ১০০০টাকার নোট বদলের সিদ্ধান্তে ভারত জুড়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভের পারদ ক্রমশ বেড়েই চলেছে।গত ৮ই নভেম্বর নরেন্দ্র মোদী নোট বাতিলের ঘোষণা করার পর থেকেই ভারতীয় রাজনীতির চালচিত্র পাল্টে যায়। পশ্চিমবঙ্গের  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কট্টর সিপিএম বিরোধীও নোট বাতিলের ইস্যুতে ডিগবাজি খেয়ে রাতারাতি সিপিএম লাভার হয়ে গেলেন।বললেন, নোট বদলের ইস্যুতে সিপিএমের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে যেতেও তিনি পেছপা হবেন না।তার এই ডাকে কমরেডরাও সাড়া দিলেন।তবে যৌথ আন্দোলনের পথে নয় কারণ এতে সমস্যা আছে।অনেকটা টগর বোস্টুমির স্টাইলে।ঘর করতে দিয়েছি কিন্তু হেঁশেলে ঢুকতে দিইনি।মমতার এই ডাকে সিপিএম যে সাড়া দেবেন সেটা আগাম অনুমান করা গিয়েছিল।কারন ৩৪ বছর কমরেড দাদাদের বঙ্গ লুটপাট করার কালো টাকা যে এখনো তাদের ভল্টে জমা আছে।

শুধু পশ্চিমবঙ্গ কেন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ভেদাভেদ ভুলে নোট বাতিলের বিরুদ্ধে এক হয়ে মোদী সরকারের সমালোচনা করছেন।এর বড় কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোকে নেপথ্যে অবস্থান করা কালোটাকার মালিকরা।রাজনৈতিক দলগুলো মুলত এই কালোটাকার কারবারিদের অর্থের যোগানে চলে।মোদীর নোটবন্ধীর ফলে সবচাইতে বেশি সমস্যায় পড়েছেন এই কালোটাকার কারবারিরা।কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না এই রাজনৈতিক দলগুলো কদিন আগেও কালো টাকার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল।মোদী কেন বিদেশের ব্যাংক থেকে ভারতীয়দের গচ্ছিত টাকা দেশে ফিরিয়ে আনছেন না।কেন দেশের কালো টাকার মালিকদের গ্রেফতার করছেন না।রাতদিন এসব নিয়ে সবচাইতে বেশি মোদীর সমালোচনা করতেন রাহুল গান্ধির মত কংগ্রেসি নেতারা। আজ যখন কালো টাকার বিরুদ্ধে মোদী যুগান্তকারী এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে,তখন সেই সব তথাকথিত নেতারা আজ মোদীর ওপর ক্ষুব্ধ কেন? কোথায় নরেন্দ্র মোদীকে সাধুবাদ দেবেন তা নাকরে পারলে মোদীর বিরুদ্ধে এক হাত নেন।

Mamata-Modi-1

ভারতে ব্যাপক মাত্রায় কালো টাকা ছড়িয়ে আছে। এটা বিভিন্ন জরিপে ও গবেষণায় পাওয়া গেছে। এসব কালো টাকা সন্ত্রাসে ব্যবহার হয়। মাদক ও পণ্য পাচারেও ব্যবহার হয়। সন্ত্রাসে যে কালো টাকা ব্যবহার হচ্ছে তার প্রমাণ পাওয়া গেল জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যে।অশান্ত জম্মু-কাশ্মীরে নোট বদলের ঘোষণার পর থেকে পাথর নিক্ষেপকারীদের কর্মকাণ্ড বন্ধ।তাদের কাউকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।পাকিস্তানের মদদপুষ্ট জঙ্গিরা জম্মু-কাশ্মীরে   তরুনদের ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট দিয়ে পুলিশকে পাথর মারার জন্য উসকানি দিত,নোটবন্ধীর ফলে তাদের হাত এখন মোদীর এক ঘোষণায় ফাঁকা।ম্যাজিকের ন্যায় বিগত ৮ই নভেম্বরের পর থেকে  কাশ্মীরে পুলিশকে পাথর নিক্ষেপের একটি ঘটনাও ঘটেনি।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার। হঠাৎ ঘোষণা দিয়ে মুদ্রা বাতিলের সিদ্ধান্ত এই প্রথম নয়। এর আগেও একই ঘটনা মনমোহন সিং সরকারের সময় ঘটেছিল। সেবার  ৫০ পয়সার মুদ্রা ঘোষণা দিয়ে বাতিল করে মনমোহন সরকার। তখন কিন্তু এ নিয়ে কোনও হৈ চৈ হয়নি। আজ হচ্ছে , এর কারণ অনেকগুলো তবে বড় যে কারণ গুলো মোটা দাগে দেখা যাচ্ছে সেগুলো হচ্ছে ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোতে কালো টাকার অর্থায়ন।

mamata-akhilesh-759

ভারতের কালো টাকার মালিক তারাই যারা কারি কারি টাকা ব্যাংকের হিসাবে না রেখে নিজেদের বাসভবনে ও গুপ্ত জায়গায় লুকিয়ে রাখে। আয়কর ফাঁকি দিতেই এসব করে কালোটাকার মালিকরা। সাধারণ লোক বাসা বাড়িতে কারি কারি টাকা রাখে না। তাই নোট বাতিলে তাদের সমস্যা হবার কথা নয়। সমস্যা হবার কথা যারা কালো টাকা জমিয়ে রাখে। এখন তারাই পড়ছে বিপদে। কারণ জমানো কালো টাকা ব্যাংকে নিয়ে গেলে প্রশ্ন উঠবে এই টাকাগুলোর উৎস কি। আর তাতেই কালো টাকার মালিকদের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে যাবে।কৃতকর্মের জন্য নির্ধারিত শাস্তি তো আছেই সঙ্গে  মান- সম্মান ও  ক্ষমতা সবই যাবে। সাধারণ মানুষের হাতে মাষের শেষেই সরকারি টাকা আসে।আর সেই টাকা ভেঙে ভেঙে খরচ করেন আম আদমি। সেই হিসেবে অল্প পরিমাণ টাকা বদল কোনও বিষয়ই না। সরকার আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত টাকা বদলের সুযোগ দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে পুরানো নোট বদল করে নতুন নোট নেয়া কোনও ব্যাপারই না। কিন্তু তারপরও দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ বন্ধ করার জোর আবেদন জানাচ্ছে।

আর এতে অগ্রণী ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। চিট ফাণ্ডের টাকা আত্মস্যাত করার অভিযোগে মমতা সরকার আগেই সবার কাছে সমালোচিত। এই চিটফাণ্ডের টাকা সিপিএম, তৃণমূলের নেতাদের  প্রত্যেকের পেটেই আছে এবং কালোটাকা হিসেবেই সেগুলো আছে। এখন মোদীর ঘোষণায় সারদা কেলেঙ্কারির নায়কদের টাকা, নারদ কেলেঙ্কারির নায়কদের টাকা সব যে হাওয়া হয়ে গেল।এতদিন যক্ষের ধনের মত  টাকা পাহারা দিলাম এখন যে সব যায় যায়।

এভাবে বিহারের লালু ও নীতিশের মদ বেচার ও অপহরণ বানিজ্যের কালো টাকা, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়ালের  বিদেশি সংস্থা থেকে এনজিওর নামে পাওয়া কালো টাকা, উত্তর প্রদেশে মুলায়েম সরকারের কালো টাকা, সবই যে ধ্বংসের পথে। মোদীর বিরুদ্ধে জে এদের ক্ষোভ বেশি হবে তা বলাই বাহুল্য । অথচ এসব রাজনৈতিক দলগুলির কাছ থেকে আমরা অনেক দায়িত্বশীল ভুমিকা আশা করেছিলাম।দেশের ভেতর কালো টাকার মালিকদের ধরার এই উত্তম পন্থার প্রশংসাই করা উচিত ছিল তাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *