‘Merry Kom’ অবসর নিচ্ছেন…

mary-kom-medal-winnerরিও অলিম্পিক থেকে ছিটকে গিয়ে ‘মেরি কম’ কি অবসরের কথা ভাবছেন! পাঁচ বারের বিশ্বজয়ী মহিলা বক্সার ‘মেরি কম’ ষষ্ঠ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ লড়তে গিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে হেরে যান।হারের কারন জিজ্ঞাসা করলে মেরি খুব নিরুত্তাপ গলায় উত্তর দেন- জিতলে নতুন কি হতো? আপনারা সংবাদপত্রে বড় করে ছবি ছাপাতেন, কয়েকদিন আপনাদের লেখার রসদ হতাম, এর থেকে বেশী তো কিছু হতো না। আমি আমার টার্গেটে অটল। অলিম্পিকে সোনা জেতাটাই আমার বক্সার জীবনের লক্ষ এবং ওই মেডেলটা আমি গলায় ঝুলিয়ে তার পর বক্সিং থেকে অবসর নেব। মেরির কথা গুলো ফোনে শুনছিলাম আর ভাবছিলাম।এখন মেরির বয়স তেত্রিশ।তিন সন্তানের জননী। বক্সিং এর মতো শরীর নির্ভর খেলায় মেরির যতই মনের জোর থাকুক শরীর সাথ না দিলে অভীষ্ট লক্ষে পৌঁছান এক কথায় অসম্ভব। মেরি কি এটা বোঝে না! নাকি বুঝেও মেরির অহঙ্কার বাস্তবটা স্বীকার করতে বাধা দিচ্ছে!-কোনটা?

mary-kom-boxer_650x400_71453440340

মেরির উদ্ধত স্বভাব আর অহঙ্কারের আভাস কিছুটা পাওয়া গিয়েছিল হরিয়ানার মহিলা বক্সার পিঙ্কি জাংড়ার কাছে। ছাব্বিস বছর বয়সী এই বক্সার জাতীয়স্তরে মেরিকে দুবার হারানোর পর উল্লাস করে বলছিল- “বহুত বাড় গিয়া থা, খুদকো লেডি মহম্মদ আলি শোচনে লাগা থা। অফিসিয়াল শে লে কর টিমমেট সবকা সাথ বহুত বুরি ত্রিকেসে পেস আতা থা”। হয়তো পিঙ্কির কথার সত্যতা আছে আবার নাও থাকতে পারে। খেলোয়াড়দের ভেতর এমন আকচা আকচি লেগেই থাকে। ভারতে মেরি কম আইকন, মনিপুরের মতো পিছিয়ে পড়া রাজ্য থেকে এসে নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমে দেশে-বিদেশে যে সন্মান অর্জন করেছে বাকি খেলোয়াড়রা ঈর্ষাকাতর হবে এটাই স্বাভাবিক।অর্থ, সন্মান, পতিপত্তি সবই পেয়েছেন ‘মেরি কম’। ভারতে ‘মিলখা সিং’ ছাড়া আর কারোর জীবনী নিয়ে সিনেমা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আজকের ভারতে ‘মেরি কম’ এতটাই জনপ্রিয়।

1362652884

নুন আনতে পান্তা ফুরয় পরিবারে আজ বক্সিং এর দৌলতে সবই আছে। ইম্ফলে ভুমিকম্প হওয়ার পর মেরি নিজের বাড়ীর ছবি হোয়াটস অ্যাপে পাঠিয়েছিল,দেয়ালে দেয়ালে ফাটল ধরেছে কিন্তু বাড়ীটা তাক লাগানোর মতো। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ী যতটা না মন খারাপ করতে পেরেছে তার চেয়ে বেশী করেছে বহুদিনের অনুশীলনের সঙ্গী পাঞ্চিং ব্যাগ আর বক্সিং গ্লাভস হারিয়ে যেতে।

09-1433851285-mary-koms-animated-avatar-to-be-indias-first-girl-superhero

‘মেরি কম’ আজ সাংসদ। রিও থেকে ছিটকে গিয়ে মন দিয়েছে নিজের একাডেমীর কাজে। সাংসদ কোটার টাকা খরচ করে বিদেশ থেকে আধুনিক সরঞ্জাম আনিয়েছেন।আধুনিক তালিম দিচ্ছেন একঝাঁক ক্ষুদে বক্সারদের। বক্সিং এর বাইরে সামাজিক কাজেও মন দিয়েছেন। মনিপুরের পিছিয়ে পড়া মেয়েদের পাশে দাঁড়িয়েছেন,চেষ্টা করছেন কি করে মনিপুরের এই পিছিয়ে পড়া মেয়েদের রোজগারের বিলি ব্যবস্থা করে দেওয়া যায়। এসব কর্মকাণ্ড দেখার পর মনে হতেই পারে, তাহলে ‘মেরি কম’ কি অলিম্পিকে সোনা জেতার লক্ষ থেকে সরে এলো! মেরি প্রকাশ করছে না কিন্তু হয়তো বুঝেছে তেত্রিশ বছর বয়সে অলিম্পিকে সোনা জেতার স্বপ্ন দিবাস্বপ্নের সমতুল্য। তাই কি নিজে যেটা পারলেন না সেই স্বপ্নটাই বাস্তবায়িত করতে চলেছেন দেশকে আগামী প্রজন্মের একঝাঁক মেরি কম উপহার দিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *