Lolit-Bijoy Roth Rukhbe Kara?by DG talks.

lalit-modi-with-vijay-mallyaচরিত্র গঠন করতে একসময় নিজ সন্তানদের খেলার মাঠে পাঠাতেন বাবা-মা’ রা, স্বাস্থ্য উদ্ধার হত,এখন চরিত্র গঠন হয় কমই- চরিত্র হননই বেশী হয়। মানুষ করে একাজ!কখনও সরাসরি, কখনও বিজ্ঞানকে আশীর্বাদ না বানিয়ে অভিশাপের মতন হাতিয়ার করে। যার প্রতিফলন পাওয়া যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, কলঙ্কিত হচ্ছে মাঠ- ময়দান, কালি মাখছে খেলার চত্বর। চোখ খুলে নজরে পড়ছে মুখোশ আঁটা একরাশ চরিত্র। প্রচারের হ্যালোজেনের আলোতে একসময় যারা ছিলেন ‘সেলিব্রিটি’, প্রচারের ফ্লাডলাইটের আলোর বন্যায় তারাই গিরগিটি- খলনায়ক।

imagesললিত মোদী আর বিজয় মালিয়া – এমনই দুই চরিত্র। মুম্বাই বাসি ব্যবসায়ী ললিত মোদীকে খেলার মাঠে ক’জন চিনতেন? ‘মোদী এন্টারটেইনমেন্ট’ কিংবা ‘মোদী এন্টারপ্রাইজ’ এর আর পাঁচটা বড়কর্তা বা মালিক, কেউ চিনতো না,দিল্লিতে জন্ম,মুম্বাইতে রাজ রাজত্ব,অনেকটাই কিং খান ‘শাহরুখ’ খানের কাহিনী গাঁথা।কিন্তু শহর ভিত্তিক ইস্যুতেই মিল।এমনকি ‘কিং খান’ কে দিয়ে কিভাবে আইপিএলে কলকাতা দল কিনিয়েছিলেন- বিতর্কিত এই টুর্নামেন্টের কমিশনার মোদী। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের দুতি রাজ্জ্য সংস্থায় প্রথম সারির কর্তা ছিলেন।রাজস্থান ও পাঞ্জাবের।বিজেপির রাজনীতির ব্যাপারিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল।আছেও নিসছয়।রাজস্থানে বসুন্ধরা রাজে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ললিত মোদীকে সকলে চিনতেন ‘সুপার সিএম’ বলে।জয়পুরে ক্রিকেট ম্যাচ কভার করতে গিয়ে একাধিকবার মোদীর সঙ্গে কথা হয়েছে।কখনও মাঠের নানান অংশে আবার কখনও স্টেডিয়ামের পাশে অত্যাধুনিক ইনডোর ক্রিকেট কোচিং সেন্তারে,কিংবা ঝাঁ চকচকে ড্রেসিংরুমের একপাসে।প্রতিবার তার শরীর থেকে ঠিকরে বেরুতে দেখেছিঃ আমাকে দেখ’ রশ্মি। চোস্ত কথাবার্তায়, গলফ কোর্সে যে ছোট ব্যাটারি চালিত গাড়ী ব্যবহার হয়,মান সিং স্টেডিয়ামে তিনি ঘুরতেন সেই গাড়ীতে চড়ে। এই কলার তোলা রংবাজিতে আইপিএলে বেশ রংচং ই লাগছিল।তাক লাগানো ক্রিকেত!সঙ্গে হাই ভোল্টেজ বলিউডি সেলিব্রিটি

king

ইমেজ।সঙ্গে গ্ল্যামার,২০১০ এ কোটি টাকা নিয়ে লড়াই শুরু, মোদী দুষলেন কংগ্রেস মন্ত্রী শশী থারুরকে, মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয় থারুরকে।সেবার আইপিএল শেষ হতে নোংরা পলিটিক্স শুরু ক্রিকেতে।বিসিসিআই থেকে বহিষ্কৃত হন ললিত মদি,২০১৩ তে ‘লাইফ ব্যান’ ও করে দেওয়া হয় আর্থিক গরমিল করার জন্য। প্রাইভেট উড়োজাহাজে করে এদেশ- ওদেশ, এরাজ্জ্য- ওরাজ্জ্য তে উড়ে যাওয়া ‘নায়ক’ রাতারাতি ‘খলনায়ক’ হয়ে গেলেন। এনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্ট(ইডি) তদন্ত শুরু করলে সকলের অলক্ষে ‘লন্ডন’ চলে গেলেন মদি।২০১৫ পর্যন্ত ইডি জোরদার প্রমান দিয়ে মোদীকে দোষী প্রমান করতে দোটানায় রয়ে গেল।আজও মোদী নিজের প্রাণনাশের হুমকির অজুহাত দেখিয়ে ব্রিটিশ খাসতালুক ‘লন্ডন’বাসী।২০১০ সালে মোদীর পাসপোর্ট বাতিল করে কেন্দ্রীও সরকার,২০১৪তে হাইকোর্ট তা মেনে নেয়নি।মোদী হয়তো বা অনেক ক্রিকেটারদের (বিশ্ব জুড়ে) কোটি কোটি টাকা- ডলার-পাউন্ড পাওয়ার মঞ্ছ(আইপিএল) দিলেন, আরও অনেক রাঘববোয়াল দুহাত ভর্তি করে অর্থ তুললেন, আর তিনি? আইপিএলের জন্মদাতা দাবী করে-আজ ক্রিকেটকে কলঙ্কের কালিতে চুবিয়ে দিলেন। স্পট ফিক্সিং-আইপিএলে, রেভ পার্টি তে ক্রিকেতার-আইপিএলে। কংগ্রেস সরকার মোদীকে আটকাতে চাইল- কারন আইপিএল।বিজেপি সরকার এসে তাকে ‘লন্ডন’ যাওয়ার ব্যবস্তা( মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বিতর্ক) করে দিলেন- সেও আইপিএলে মঞ্চে। সুনন্দা পুস্কর মৃত্যুরহস্য-সেও কি আইপিএলের কারনে!

এত উত্তর নেলেনি, একটা প্রশ্নের উত্তর মিলেছে- মোদীর মাতলামিতে বেসামাল হয়ে কলঙ্কিত ভারতীয় ক্রিকেট, আর তারই দোসর হয়ে বিজয় মালিয়াও আজ লন্ডনে!

বিজয় মালিয়া ধনকুবের, সাংসদ,কার রেসিং,হর্স রেসিং,ফুটবল,আইপিএল-খেলার জগতে ঢুকে নিজের পাবলিসিটি আরও বাড়িয়ে নেন। কলকাতায় জন্ম, সব খেলার সেরা বাঙ্গালীর ফুটবল মাহাত্য তিনিও জানেন।তাই ইস্টবেঙ্গলের

images (1)

জন্য ‘কিংফিশার’ আর মোহনবাগানের জন্য ‘ম্যাকডাওয়েল’ ব্র্যান্ড নিয়ে নিজের সংস্থা ইউ বি গ্রুপের জনপ্রিয়তা। বাজারে বাজারে দর বাড়িয়ে নেন। শেষ ফুটবল মরসুমেও বিজয় মালিয়া ইস্টবেঙ্গল ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের অন্যতম মাথা, ছেলে সিদ্ধার্থ মালিয়া মোহনবাগান ম্যানেজমেন্ট গ্রুপে থাকাটা বাবাই ম্যানেজ করে নেন।একই মালিকের সংস্থা দুই বড় ক্লাবের স্পনসর!বিজয় মালিয়াকে মিডিয়া কত নামে ভূষিত করেছিল… ‘কিং অফ গুড টাইমস’, ‘দ্য প্লেবয় অফ দি ইস্ট’! ২০১২ সাল থেকে বিধি বাম,নানা ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণ সময়ে পরিশোধ করতে না পারায় কারনে তিনি আজ পলাতক। ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলো ৭০০০ কোটি টাকা লোণ ফেরত পেতে হন্যে হয়ে ঘুরছে, আর তিনি?২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল সকলের অজান্তে(!!) দেশর গণ্ডি টপকে বেড়িয়ে গেলেন, এবং সেই ‘লন্ডন’! দেশর অর্থ নয়ছয় করার অভিযোগ দু’জনের ক্ষেত্রেই। অথচ কার রেসিং- হর্স রেসিং- গলফ না জানি আরও কত খেলাধুলার ক্ষেত্র তাদের জন্য কলঙ্কের ভাগীদার।

450104-434342-vijay-mallya-force-india-getty

ফুটবল আর বাংলার আবেগও আজ  বেকায়দায়। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান কর্তারা জানেন না এরপর ইউবি গ্রুপ কত অর্থ বরাদ্ধ করবে। গত তিন বছর ধরে ফুটবল বাজেটের টানামানিতে কর্তারা সারদা- রোজভ্যালিদের টাকায় ভেসে থাকতে চেয়েছিল। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ‘জি-প’(জীবন পল্টু) পরবর্তী জামানায় ‘নিতু’ বাবু-ই শেষ কথা।ক্লাবের জন্য দেবব্রত সরকার ওরফে নিতু জনসমক্ষে বলতেন ক্লাবের জন্য জেল খাটতে হলে খাতব।তাই তো হল, এবার সারদা মামলায় আবার নথী ও তথ্য দিতে ডাকা হয়েছে। মোহনবাগানের সহ সচিব সৃঞ্জয় বসুও সারদা মামলায় হাজত বাস সেরে এখন বাইরে।তবে খুব স্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছেন না।ময়দানের মানুষ, সফল ব্যবসায়ী সাংসদ হয়েছিলেন।রাজনিতির রগরগে জ্বলুনিতে সব ছেড়ে এখন শুধু মোহনবাগান নৌকায় চেপে বসে আছে। অর্থের হাহাকার ক্লাব চালাতে,বাবা স্বপন সাধন বসু(টূটূ) ক্লাব অন্তপ্রান অর্থ ঢেলেই ছলেছে।কিন্তু বিজয় সেই আবেগটুকু আর নেই।

আসলে ললিত মদি-বিজয় মালিয়া-সুদীপ্ত সেন-গৌতম কুণ্ডুদের মতন হাজারো ব্যবসাদার খেলার মাঠে ভিড় করে –অর্থ ছড়ান স্রেফ পরিচিতি বাড়াতে, মাঠ আর ময়দানকে ওরা ব্যবহার করেন। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ক্লাব কর্তারাও এমন সব চরিত্রই তো চান। তাই জেএসডবলু র বেঙ্গালুরু এফসি মডেল ওদের পছন্দ নয়।তাই পারফরম্যান্সের পারদটা অথে আর নামে। বিতর্ক আর কলঙ্ক জড়িয়ে জাপতে ধরে বার বার। এ তো চলছে—চ-ল-বে।।

safe_image (5)

DG TALKS

দীপঙ্কর গুহ

সিনিয়ার ক্রিডা সাংবাদিক

মতামত জানান>>guha.dipankar@gmail.com

 

 

 

2 Comments

  1. Well done

    • ধন্যবাদ।
      একবিংশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *