গ্রামগঞ্জ ছাড়া শহরে ছেলে মেয়েদের ড্যাংগুলি খেলতে দেখাই যায় না। কালেদিনে গ্রামেও মুছে যাবে… যাবেনা শুধু খেলার ইতিহাস

1-gilli-dandaপশ্চিম বাংলায় ড্যাং- গুলি, ভারতের হিন্দি ভাষী অঞ্চলে গিলি- ডাণ্ডা নামে বহুল প্রচলিত এই খেলাটি।

২ ফুটের থেকে আড়াই ফুটের ড্যাং (ডাণ্ডা), তিন ইঞ্চি থেকে সাড়ে তিন ইঞ্চির গুলি( গিলি) কোনও ছুতোর মিস্ত্রিকে দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন বা বাড়িতে যন্ত্র থাকলে নিজেও বানিয়ে নিতে পারেন। শহরের পথঘাট থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের মাঠে আকছার চোখে পড়বে আবাল বৃদ্ধ বনিতা খেলছে এই খেলাটি। ড্যাং গুলির ইতিহাস অতি প্রাচীন। ২৫০০ বছর আগে মৌর্য সাম্রাজ্যে এই খেলাটির নিদর্শন মেলে।

ড্যাং গুলি দুজনে বা অনেকে একসঙ্গে খেলতে পারে। একটি গোলাকার বৃত্ত রচনা করে সেই বৃত্তের মাঝখানে একটি গর্ত তৈরি করতে হয় ড্যাং( ডাণ্ডা) টিকে গর্তে রেখে তার ওপর গুলিটিকে ( গিলি) খড়া করে শুইয়ে ওপরের দিকে উড়িয়ে দিতে হয়, এবার গুলিটিকে দলবদ্ধ খেললে দলের যে কেঊ একজন ধরে ফেললে তিনি আঊট আর না পারলে গুলিটি যতদূর যাবে দূরত্ব ড্যাং দিয়ে মেপে পয়েন্ট যোগ হবে। দ্বিতীয় ধরন, গুলিটিকে গর্তের ভেতর খাড়া করে একদিক গর্তের ভেতরে অন্যদিক খাড়া ভাবে গর্তের বাইরে থাকবে, বাইরে থাকা অংশটিকে ড্যাং দিয়ে বারি মেরে দূরে ফেলতে হবে। একজন খেলোয়াড় এই সুযোগটি তিন বার পাবে। গুলি যতদূর যাবে ড্যাং দিয়ে দূরত্ব মেপে পয়েন্ট মিলবে।

ছোটবেলায় যারা খেলেছেন সকলেই পাড়ার বড়দের হাতে মার বা কানমলা খেয়েছেন,কারন গুলি আকাশে বেপরোয়া উঠে অনেক বাড়ির জানলার কাঁচ থেকে শরীরে আঘাত ঘটিয়েছে , সাস্থি পেতে হয়েছে হাতে নাতে তবুও খেলা আটকানো যায়নি।

আজকাল গ্রামগঞ্জ ছাড়া শহরে ছেলে মেয়েরা ড্যাংগুলি খেলছে দেখাই যায় না। কালেদিনে গ্রামেও মুছে যাবে… যাবেনা শুধু খেলার ইতিহাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *