ক্যান্সার মহামারি হতে যাচ্ছে ভারতীয় শিশুদের জন্য

বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৪০,০০০ এরও বেশি শিশু আক্রান্ত হচ্ছে দূরারোগ্য ক্যান্সারে।ভারতে যার পরিমান, বছরে ৪৫০০ রও বেশি।সুতরাং শুধু জনসংখ্যায় নয়,ক্যান্সার আক্রান্ত জনসংখ্যাতেও অদূর ভবিষ্যতে আমরা উল্লেখযোগ্য স্থান নিতে চলেছি।বাচ্ছারা না জেনেশুনেই যে মারণ রোগটির শিকার হচ্ছে,সেটার সম্বন্ধে তার অভিভাবকদের অজ্ঞতা এবং উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন সমীক্ষকগন।তবে জিনঘটিত বা অন্য কোনো কারণ থেকে থাকলে আধুনিক চিকিৎসারউপর নির্ভর করা ছাড়া আর কোনো রাস্তা খোলা নেই।এজন্য সচেতন মা বাবার সমাজে আজ বড় প্রয়োজন।বাচ্ছাদের মধ্যে কিছু কিছু উপসর্গ দেখা যাচ্ছে কিনা সেদিকে বাবা মা কে শুরু থেকেই নজর দিতে হবে।cancer poster

যেমন:-

*যেকোনো কাজেই প্রচন্ড ক্লান্তি,অনীহা।

*সব সময় ঝিমুনি ভাব।

*হঠাৎ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

*কোনো রকম গা গুলোনো ছাড়াই বা প্রচন্ড গা গুলিয়ে মাঝে মাঝে বমি করে ফেলা।

*মাঝে মাঝে ঘুষঘুষে জ্বর আসা।

*ক্রমশ গায়ের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।

*আচমকাই চোখের পাওয়ার খুব বেড়ে যাওয়া।

*মাঝে মাঝে নাক থেকে রক্ত পড়া।

*ঘুম থেকে উঠে সারা গায়ে,গাঁটে,বিভিন্ন জয়েন্টে প্রচন্ড ব্যথা।

*মাঝে মাঝেই আমাশা বা পেটখারাপ লেগেই থাকা।

*শরীরের বিভিন্ন অংশে যেমন বগল,পিঠ,ঘাড়,পেটের 

নানা অংশে লাম্প বা ছোটো গুটি হওয়া।ভিতরে সাদা আস্তরণযুক্ত ব্রণ বা ফুসকুড়ি হওয়া ইত্যাদি।

এছাড়াও আরো বেশ কয়েক ধরণের ক্যান্সার আছে,যেগুলি শিশুদের মধ্যে বেশিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে।যেমন ব্রেন ক্যান্সার,নার্ভাস সিস্টেমক্যান্সার,বোন ক্যান্সার,হজকিন,নন হজকিন ক্যান্সার প্রভৃতি।আসলে প্রতিদিন এত নতুন নতুন রোগী আসছে,যে ডাক্তাররাও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন। শুধু অভিজ্ঞতা আর আধুনিক চিকিৎসা ছাড়াও বাচ্ছাদেরকয়েকটা জিনিষ থেকে দূরে রাখতেই হবে।তা না হলে আগামীদিনে এই মারণ রোগটি মহামারীর আকার নেবে,যেমন ছোটদের খুব প্রিয় খাবারদাবার এ যতটা সম্ভব “আজিনা মটো”(মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট) কমদেওয়া,জেনেটিক্যালি মডিফায়েড ফুড এড়িয়ে চলা।মাইক্রোওয়েভ ওভেনে তৈরি করা পপকর্ণ খেতে না দেওয়া।চুল্লীতে বা তন্দুর ওভেনে পোড়ানো মাংস খেতে না দেওয়া।প্যাকেটজাত প্রসেসড ফুড খেতে না দেওয়া।প্যাকেটবন্দী প্রসেসড চিকেন,পর্ক,ল্যাম্ব,হ্যাম,ডাক,বিফ,প্রিপারেশনগুলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে যাওয়া। ঠান্ডাপানীয়,বোতলবন্দী বা ক্যানবন্দী ফ্রুটজুস থেকে বাচ্ছাদের দূরে রাখা। সব হয়ত বলা হল না।তবুও শুরুতো হোক।সার্বিক সচেতনতা ছাড়া এই মারণ ব্যাধিথেকে আমাদের রক্ষা নেই।লড়াইএর ময়দান ছাড়া চলবে না।সংগ্রাম দীর্ঘজীবি হোক,কিন্তু ব্যাধি পরাস্ত হোক অমৃতের সন্তানের হাতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *