জন্ডিসের লক্ষণ ও প্রতিরোধ…

images (1)Jaundice

জন্ডিসকে রোগ না বলে রোগের লক্ষণ বলা ঠিক হবে। চোখের সাদা অংশে হলুদ হলে আমরা জন্ডিস বলে থাকি।বেশি মাত্রায় জন্ডিস হলে হাত, পা, সারা শরীর হলুদ হয়ে যেতে পারে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লিভার আক্রান্ত হয়।সুতরাং জন্ডিস ধরা পড়লে আর হেলাফেলা নয়।

জন্ডিস কি কারনে হয়: রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে জন্ডিস দেখা দেয়। আমাদের রক্তের লোহিত কণিকাগুলো স্বাভাবিক নিয়মেই ভেঙ্গে গিয়ে বিলিরুবিন তৈরি করে যা পরে লিভারে প্রক্রিয়াজাত হয়ে পিত্তরসের সাথে পিত্তনালীর মাধ্যমে পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে। অন্ত্র থেকে বিলিরুবিন পায়খানার মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। বিলিরুবিনের এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে গিয়ে জন্ডিস হয়। লিভারের রোগ জন্ডিসের প্রধান কারণ।লিভার নানা কারণে রোগাক্রান্ত হতে পারে। হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই ভাইরাসগুলো লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে যাকে বলা হয় ভাইরাল হেপাটাইটিস। আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বে জন্ডিসের প্রধান কারণ এই হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলো।এছাড়া অটোইমিউন লিভার ডিজিজ এবং বংশগত কারনে আরও কিছু বিরল ধরনের লিভার রোগেও জন্ডিস হতে পারে।ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াতেও অনেক সময় জন্ডিস হয়। তা ছাড়া থ্যালাসিমিয়া ও হিমোগ্লোবিন ই-ডিজিজের মত  রোগে যেখানে রক্ত ভেঙ্গে যায় কিংবা পিত্তনালীর পাথর বা টিউমার এবং লিভার বা অন্য কোথাও ক্যান্সার হলেও জন্ডিস হতে পারে। তাই জন্ডিস মানেই লিভারের রোগ এমনটি ভাবা ঠিক নয়।

জন্ডিসের লক্ষণ: চোখ, হাত,পা ও শরীরে হলুদ ভাব, অরুচি, বমি ভাব,জ্বর অনুভূতি কখনও কাঁপুনি দিয়ে জ্বর,তীব্র পেট ব্যথা ইত্যাদি হতে পারে। এ সব উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই একজন লিভার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত। চিকিৎসকরা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জন্ডিসের তীব্রতা ও কারণ নির্ণয় করে।

জন্ডিস প্রতিরোধের উপায়:জন্ডিসের চিকিৎসা নির্ভর করে ঠিক কি কারণে জন্ডিস হলো তাঁর উপর।জন্ডিস থেকে বাঁচতে আমাদের কিছু করণীয় আছে।জেনে নিন কি কি করনীয়।

১. হেপাটাইটিস-এ ও ই খাদ্য ও জলের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। আর বি, সি এবং ডি দূষিত রক্ত, সিরিঞ্জ এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই সব সময় বিশুদ্ধ খাদ্য ও জল খেতে হবে। শরীরে রক্ত নেয়ার দরকার হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং করে নিতে হবে। ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ ব্যবহার করাটা একান্ত জরুরী।
২. মদ্য পান ও অন্য কোন ধরনের নেশা একেবারেই করবেন না।
৩. কল কারখানার রাসায়নিক পদার্থ থেকে দূরে থাকুন।
৪. ব্যবহারকৃত ইনেকশন কিংবা নাক-কান ফোঁড়ানোর সুই ব্যবহার করবেন না।সেলুনে সেভিং অভ্যাস থাকলে ব্যবহার করা ব্লেড বা ক্ষুর বর্জন করুন।
৫. নিরাপদ যৌনমিলন করুন।
৬. আগাম হেপাটাইটিস এ এবং বি এর ভ্যাকসিন গ্রহণ করুন।

**জন্ডিস অনেক ক্ষেত্রেই মৃত্যুর কারণ হতে পারে।আমাদের সচেতন থাকতে হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *