৫২ বছর লেগেছিল জুটির গড়া রেকর্ড ভাঙতে।

pankaj-1n-1525017441 একটি পঙ্কজ রায় স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে গোপাল বসু বলছিলেন, “পঙ্কজদা’র ব্যাটিংয়ের মূল কথা ছিল ‘টেক ইট সিম্পল’। চুনী গোস্বামী বলেছিলেন,আমি তখন বাংলা রঞ্জি দলের ক্যাপ্টেন। খেলছি কিন্তু কিছুতেই “আমি কিছুতেই সেঞ্চুরি পাচ্ছি না। পঙ্কজদার কাছে জানতে চাইলাম, কেন এমন হচ্ছে। পঙ্কজদা আমাকে বলেছিলেন, তুই স্রেফ ব্যাটিং অর্ডারে তিন নম্বরে উঠে যা। দেখবি সেঞ্চুরি করার সময় পেয়ে যাবি। ছ’নম্বরে নামলে সে সময়টা থাকে না। চাঁদু বোরডে বলতেন,পঙ্কজ আমার দেখা বিশ্বের টেকনিক্যালি নিখুঁত ওপেনারদের মধ্যে অন্যতম সেরা। হেলমেট ছাড়া, আঠারো গজ দূর থেকে হল-গিলক্রিস্টের ফাস্ট বোলিংয়ের বিরুদ্ধে ও কী করে ওপেন করত ভাবলে এখনও আমার বিস্ময় লাগে! তখন উইকেট ঢাকা থাকত না। বাউন্সারের সংখ্যাও বেঁধে দেওয়া হয়নি। আর স্পিন বোলিং তো পঙ্কজ খুন করে ফেলত।

১৯৪৬সালে বাংলার হয়ে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। উদ্বোধনী খেলাতেই তিনি সেঞ্চুরি করেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সর্বমোট ১১,৮৬৮ রানের মধ্যে দিয়ে ৩৩টি সেঞ্চুরি করেছেন যা গড়ে ৪২.৩৮।

১৯৫১ থেকে ১৯৬০-এর মধ্যে ভারতের হয়ে মোট ৪৩টি টেস্ট খেলেন পঙ্কজ রায়। ৪৩ ম্যাচে ৫টি সেঞ্চুরি সহ ২৪২২ রান করেন।১৭৩ তাঁর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান। যার মধ্যে ২২২০ রান ওপেনার হিসেবে করেন  এবং ২২২ রান করেন তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে।

১৯৫৬ সালে ১১ই জানুয়ারি চেন্নাইয়ে সফরকারী নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে বিনু  মানকডের সাথে ৪১৩ রানের জুটি বিশ্বরেকর্ড গড়ে। ৫২ বছর পর ২০০৭-০৮ সালে গ্রেইম স্মিথ(২৩২)  নীল ম্যাকেঞ্জি(২২৬) জুটি এই রেকর্ড ভাঙেন।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের তরফ থেকে আগামী ১৪ই জুন সি কে নাইডু মরণোত্তর জীবনকৃতী সম্মান দেওয়া হচ্ছে তাঁকে।  ১৯৭৫ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সন্মানে ভূষিত করে। তাঁর ভাইপো ভাতিজা অম্বর রায় ও পুত্র প্রণব রায়ও ভারতের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেতে  অংশগ্রহণ করেছেন

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *