১৯৫২ হেলসিনকি’র “খাসবা যাদব”কে মনে পড়ে???

020019kalerkanrtho_pic

স্বাধীনতার ১৯ বছর আগে ভারত অলিম্পিকে পদক জিতেছিল।খেলাধুলার সংবাদ যারা রাখেন তারা অনেকেই জানে।কিন্তু এটা জানেন কি,১৯৫২ সালে হেলসিনকি অলিম্পিকে ব্যক্তিগত ইভেন্টে একটা ব্রোঞ্জ পদক ভারতে এসেছিল? ইভেন্ট ছিল ব্যক্তিগত আর অলিম্পকে গিয়েওছিলেন ব্যক্তিগত খরচে।মহারাষ্ট্রের ২৭ বছরের কুস্তিগীর খাসবা দাদাসাহেব যাদব প্রথম ব্যক্তিগত ইভেন্টে অলিম্পিকে পদক জিতে ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছিল।এই অবধি কাহিনীটা ঠিকঠাক।কারন সবে স্বাধীন হয়েছে ভারত তার ওপর দেশ বিভাজনের ফলে শরণার্থীর চাপ।সম্পূর্ণ নতুন একটা দেশ তার সব বাধা কাটিয়ে অর্থনৈতিক বুনিয়াদ তৈরি করবে না অলম্পিকে খেলোয়াড় পাঠাবে।মেনে নিতে বাধা নেই। যুক্তি আছে।কিন্তু প্রশ্ন ওঠে তখনই যখন ভারতের পাওয়া প্রথম পদকটি ‘নিলামে’ চড়ে!! স্বাধীনতার এতো বছর অতিক্রান্ত করার পর এর থেকে লজ্জার আর কি হতে পারে!

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন ২০২০ অলিম্পিকের জন্য টাস্ক ফোর্স গঠন করতে বলেছেন। যাতে ভারত পদকের সংখ্যা বাড়াতে পারে।প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানাই কিন্তু প্রচারের আলো আধারিতে ঢেকে যাওয়া করুন ও লজ্জাজনক কাহিনীটা নজরআন্দাজ করলে- সবই বৃথা যায়।

খাসবার পুত্র রঞ্জিত যাদব বলছেন- বাবার এই পদকটা নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে সমগ্র পরিবারকে একরকম নিজেদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়েছে।কোণ পারিবারিক আর্থিক সঙ্কটের কারনে পদক নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নয়। তাহলে কি কারনে?  কুস্তির প্রচারের জন্য এই ঐতিহাসিক পদকটি নিলামে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যাদব পরিবার। বাবা’র নামে একটা অ্যাকাডেমি করার জন্য বহুদিন দরজায় দরজায় ঘুরছে আমাদের পরিবার।  রঞ্জিত বলেন, ২০০৯-এ জলগাঁও-এ এক কুস্তি প্রতিযোগিতায় এসে তৎকালীন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী দিলীপ দেশমুখ বলেছিলেন বাবার নামে সাতারা জেলায় একটি কুস্তি অ্যাকাডেমি করা হবে। আট বছর পর ২০১৩ সালে অ্যাকাডেমির জন্য ১.৫৮ কোটি টাকা মঞ্জুরও হয়। কিন্তু অ্যাকাডেমি আজও হয়ে ওঠেনি।

বাবার পদক দেওয়ালে শোভাবর্ধন করার চাইতে কুস্তির উন্নতিকল্পে কাজে লাগুক এটাই যাদব পরিবারের ইচ্ছা।আমার পরিবারের আর কারোর ওপর ভরসা নেই। সরকার আসে সরকার চলে যায় কিন্তু কেউ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না।সত্যি কথা, যে ক্রীড়াবিদ ভারতকে প্রথম ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক এনে দিয়েছিল তাকেই জীবিত অবস্থায় যখন কোণ সরকার সন্মান জানায় না তখন কার ওপর আর ভরসা করবে যাদব পরিবার? খাসবা যাদবের মৃত্যুর ১৬ বছর পর তাকে অর্জুন পুরষ্কার দেওয়া হয়!! অথচ আজকাল আমরা হামেশাই দেখি, সামান্য কৃতিত্বের অধিকারি কোণ ক্রীড়াবিদকে তার যোগ্যতার চাইতে বেশি সন্মানে ভূষিত করা হয়।

আসলে খাসবার মতন আরও অনেক ক্রীড়াবিদ আমাদের দেশে জন্মেছেন যারা খেলাধুলাকে নিজেদের জীবনের চেয়ে বেশি ভালবেসেছেন। এই মুখচোরা মানুষগুলো কোনদিন তাদের কৃতিত্বের বড়াই করতে ভালবাসতেন না। আর সেই কারনেই বোধ হয় এরা অবহেলিত রয়ে গেলেন!!

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *