১৬ ফেডারেশন কাপ— মোহনবাগানে।।

13226744_822860224512364_2610718229979517466_n-405x360মোহনবাগান – ৫ (সোনি, ধনচন্দ্র, জেজে ২, বিক্রমজিৎ) আইজল – ০

আই লিগটা হাতছাড়া হয়েছে৷কিন্তু ফেড কাপ নয়। মোহন বাগান খেলোয়াড়রা সমর্থকদের আশা ভরসার মান রাখল খেলার মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিয়ে।শনিবার গুয়াহাটিতে উঠল সবুজ মেরুন ঝড়৷

ফেড কাপে এই আইজলের কাছেই হেরে বিদায় নিয়েছিল এবারের আই লিগ চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু এফসি৷ সেই পাহাড়ি দলকে এদিন পাঁচ গোলের মালা পরিয়ে দিল বাগান৷জয়ের মহারণে প্রথমার্ধে কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও জমি ছেড়ে দেয়নি৷ কিন্তু বিরতির পরই ছবিটা এক্কেবারে পাল্টে গেল৷ প্রথমার্ধের বাগানের সঙ্গে দ্বিতীয়ার্ধের বাগানের কোনও সামঞ্জস্য নেই৷ সোনি নর্ডির গোল দিয়েই খাতা খুলল ক্লাব৷ তারপর একের পর এক আক্রমণ আছড়ে পড়ল আইজল শিবিরে৷ জেজে, বিক্রমজিৎদের মুহুর্মুহু হানায় জহর দাসের রক্ষণ তখন নাজেহাল হয়ে পড়েছে৷ সেই সঙ্গে স্কোর বোর্ডে ব্যবধানটাও বেড়ে চলেছে৷ জেজে, ধনচন্দ্ররা ,যে ঝড় তুললেন, নির্ধারিত সময়ের শেষ পাঁচ মিনিট আগে পর্যন্তও সেই ঝড় থামাতে পারলেন না অ্যালফ্রেডরা৷

507980560-1462712005-800

এদিন পাহাড়ি দলের বিরুদ্ধে ফেভরিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিলেন কাটসুমিরা৷ ১৩ বারের চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে প্রথমবার ফেড কাপ ট্রফি ঘরে তোলায় আশায় খেলছিল আইজল৷ কিন্তু এবার আর কোনওরকম অঘটন ঘটাতে দেননি বাগান ফুটবলাররা৷ ২০০৮-এর পর ফের ভারতসেরার ট্রফি নিয়ে শহরে ফিরছে শতাব্দী প্রাচীন ক্লাব৷

প্রতিটা ম্যাচে অপরাজিত (একটি ড্র) থেকে ফাইনালে পৌঁছেছিল দল৷ প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে বড়সড় ব্যবধানে পরাস্ত করেছেন কিংশুক, লুসিয়ানোরা৷ এদিকে, দলকে জেতানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও একটা রেকর্ড গড়লেন জেজে৷ বাগানের জার্সি গায়ে একটি ফেড কাপে সর্বোচ্চ গোল করেছিলেন হোসে ব্যারেটো৷ সেই রেকর্ডও ভেঙে দিলেন ভারতীয় স্ট্রাইকার (৮)৷ আর ফুটবলারদের ভাল-মন্দ সব দিনে পাশে দাঁড়িয়েছেন একজন মানুষ৷ সব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন মাঠে৷ তিনি সঞ্জয় সেন৷

সবুজ মেরুন তাঁবুতে পরপর দু’মরশুমে দু’টো ট্রফি ঢুকল৷ বাগান ভক্তদের এর চেয়ে আনন্দের দিন আর কি-ই হতে পারে৷ মরশুম শেষে সমর্থকদের “এবার আবার” স্লোগানটা সার্থক করে দিলেন তাঁদের হিরোরা।

players-of-mohun-bagan-a-c-and-their-fans-421704

বেঙ্গালুরু থেকে আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফেরার দিন সবুজ আবিরে শহর ঢেকেছিল৷ বুধবার সেই ছবিরই পুনরাবৃত্তি ঘটল৷ ‘ভারতসেরা’দের অভিনন্দন জানাতে বিমানবন্দরে হাজার হাজার সমর্থক ভিড় জমিয়েছিলেন৷ বিক্রমজিৎ, গ্লেনরা বেরিয়ে আসতেই ‘মোহনবাগান জিন্দাবাদ’ স্লোগানে গলা ফাটালেন তাঁরা৷

এএফসি কাপ থেকে ছিটকে গেলেও ফেড কাপ জয়ের সেলিব্রেশনে এতটুকু ভাটা পড়েনি৷ টিম বাসের দু’পাশে সারি সারি মোটরবাইকের সমর্থকরা যেন ‘গার্ড অফ অনার’ দিয়ে গোটা দলকে নিয়ে এল বাগান তাঁবু পর্যন্ত৷

সেখানে নায়কদের দেখার জন্য শয়ে শয়ে ভক্ত অপেক্ষা করছিলেন৷ ১৩ বছর পর আই লিগ এসেছিল৷ এবার আট বছর পর ফেডকাপ৷ স্বাভাবিকভাবেই আনন্দের মাত্রা লাগাম ছাড়িয়েছে৷ ফুল দিয়ে সাজানো গেট৷ ক্লাব লনের মঞ্চে জ্বলজ্বল করছে ‘আবার ভারতসেরা মোহনাবাগান৷’ এই নিয়ে ১৪ বার ফেড কাপ ঘরে তুলেছে  ক্লাব৷ তাই সংবর্ধনা মঞ্চে এবারের চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা তো ছিলেনই, ছিলেন আগের ১৩ বারের ভারতসেরা দলের অধিনায়কও৷ তবে উপস্থিত থাকতে পারেননি বাইচুং ভুটিয়া ও হোসে ব্যারেটো৷ একই মঞ্চে ফুলের মালা পরিয়ে সংবর্ধিত করা হল প্রাক্তন ও বর্তমানদের৷ তবে জাতীয় শিবিরে যোগ দেওয়ার জন্য গুয়াহাটিতেই থেকে যেতে হয়েছে জেজেকে৷ হাইতি ফিরে যাওয়ায় ক্লাবের গ্র্যান্ড সেলিব্রেশনে সামিল হতে পারলেন না দলের সেরা স্ট্রাইকার সোনি নর্ডি৷ কাটসুমি যখন ট্রফি হাতে তুলেছেন, তখন ভক্তদের আনন্দ বাঁধ ভেঙেছে৷ ক্লাব কর্তা থেকে কোচ সঞ্জয় সেন, সবার মুখে স্বস্তি ও গর্বের হাসি৷

MOHUNBAGAN-FEDCUP-01-655x360

ক্লাব সুত্রে খবর, সঞ্জয় সেন ছিলেন, থাকবেন৷ সঞ্জয় সেন অবশ্য আগামী মরশুম নিয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বললেন না৷ শুধু জানিয়ে দিলেন, ১৫ দিনের মধ্যে ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন৷ খুশির পরিবেশের মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হল ৭ জুনের মধ্যেই ফুটবলারদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়া হবে৷ আই লিগ হাতছাড়া হলেও ভারতসেরা হয়ে মরশুম শেষ করেছে ক্লাব৷ টানা ম্যাচ আর প্র্যাক্টিস থেকে সাময়িক ছুটি৷ তারপর ফের ভক্তদের স্বপ্নপূরণের প্রস্তুতি শুরু৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *