স্লিপ অ্যাপনিয়া কি?

ALT TAGঅ্যাপনিয়া হল একটা গ্রিক শব্দ, যার অর্থ শ্বাসহীনতা। ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া। যাদের ঘুমের মধ্যে ১০ সেকেন্ডের বেশী বা তারও বেশী শ্বাস বন্ধ হয়ে অক্সিজেনর মাত্রা ৩% বেশী নেমে যায়, তাকে স্লিপ অ্যাপনিয়া বলে। শ্বাসনালি দিয়ে বাতাস যাতায়াত করতে ফ্যারিংসের ওপর চাপ সৃষ্টি হলেই নাক ডাকা শুরু হয়।

তিন ধরনের স্লিপ অ্যাপনিয়া হয়। (১) অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া-নাক বা গলার বাধা কারণে হতে পারে। (২) সেন্ট্রাল স্লিপ অ্যাপনিয়া- মস্তিস্কের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ত্রুটি জনিত কারণে হতে পারে। (৩) কমপ্লেক্স স্লিপ অ্যাপনিয়া- মিশ্র ধরনের অ্যাপনিয়া। শ্বাসরোধ ১ মিনিটের বেশী স্থায়ী হলে যে কোনও ধরনের বিপদ হতে পারে। মৃত্যুও হতে পারে।

Anatomy-of-Obstructive-Sleep-Apnea

আমরা নাক- মুখ দিয়ে যে বাতাস গ্রহণ করি তা ফ্যারিংস হয়ে ল্যারিংস হয়ে প্রবেশ করে শ্বাসনালিতে। শ্বাসনালি থেকে ব্রনকাস হয়ে ব্রনকিয়লের মাধ্যমে ফুসফুসে চলে যায়। বায়ু ফেরার পথটাও একই। কিন্তু ঘুমোবার সময় জিভ ঝুলে যায় ফ্যারিংসের দিকে। তালু, ফ্যারিংস ও জিভের মাংসপেশি ঢিলে হয়ে যায়। বাতাস চলাচলে বাধা পাওয়ার ফলে নরম তালু কাঁপতে থাকে তাই নাক ডাকা শুরু হয়।

৫০ বছরের বেশী বয়সীদের এই রোগ বেশী হয়। মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের অন্তত দুগুণ বেশী স্লিপ অ্যাপনিয়া হয়। যাদের শরীরের ওজন বেশী তাদের গলার ভেতর মেদ জমে শ্বাসনালি সরু করে দেয়। অ্যালকোহল  বা ঘুমের ওষুধ যারা নিয়মিত খান, টনসিল বা এডিনয়েড আকারে বড়, ধূমপান বেশী করেন, শোয়ার ভঙ্গী পরিবর্তন, হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস( টাইপ ২) রয়েছে তাদের স্লিপ অ্যাপনিয়া হওয়ার সম্ভবনা বেশী।

Caucasian man with sleep apnea using a CPAP machine in bed.

সিপিএপি

নাক ডাকা এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। দিনের বেলা ঘুম ঘুম ভাব, বিনা কারণে হতাশা, স্মরণ শক্তি কমে যাওয়া,  উচ্ছ রক্তচাপ ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। স্লিপ অ্যাপনিয়া হলে সবার আগে শরীরের ওজন কমাতে হবে ও মদ্যপান ছাড়তে হবে। অপারেশনের দ্বারাও সমস্যার সমাধান হয়। এছাড়া সিপিএপি(Airway pressure) মাস্ক ব্যবহারে উপকার মেলে। সিপিএপি চার রকমের হয়। ম্যানুয়াল, অটো,বাইপ্যাপ, অটো বাইপ্যাপ। একটা কথা মনে রাখবেন, ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *