‘সিএবি’র আইপিএল ম্যাচে টিকিট দুর্নীতি, দীপঙ্কর গুহ(প্রখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক)

IMG-20180407-WA0029

শনিবার ইডেনে আই পি এল ম‍্যাচে এক প্রথম ডিভিশন ক্লাব ২০০+১০=২১০টি কমপ্লিমেন্টারি টিকিট পেল!!! সেই ক্লাবের সাধারন সচিব টিকিটের টিকিটি না দেখতে পেয়ে, সি এ বি সভাপতির থেকে এমন হিসাব পেলেন। সই ক্লাবের ক্রিকেট সচিবের করানো হল, সব টিকিট চলে গেল ক্লাবের সি এ বিতে প্রতিনিধি হয়ে আসা ওই ক্লাবের প্রভাবশালী মন্ত্রীর টেবলে!!!
সি এ বি’র সভাপতির নাকি দাবী, টিকিট গেছে ক্লাব প্রতিনিধি বলে, মন্ত্রী বলে নয়। একটি ক্লাবেই ২১০টি কমপ্লিমেন্টারি!!!
তাহলে ক্লাবের ক্রিকেট সচিবের সই কেন করানো হল?– এখন সি এ বি’র সভাপতি টিকিট বিলি করান তা‌ঁর ব‌্যক্তিগত সচিবকে দিয়ে। তিনি এক প্রাক্তন সাংবাদিক।
এর আগে বিশ্বনাথ দত্ত, জগমোহন ডালমিয়া,
প্রসূন মুখার্জ্জীকেও এই পদে দেখা গেছে। একমাত্র ডালমিয়া এক প্রাক্তন সাংবাদিকে রেখেছিলেন ব্যক্তিগত সচিব পদে। তিনি শুধু ক্রিকেটীয় ব্যাপারটা দেখতেন। আর ডালমিয়া ফ্রি টিকিট বিলি করাতেন, তা‌ঁর কোম্পানির এক বিস্বস্ত সঙ্গীকে দিয়ে। শেষদিন পর্যন্ত এই সঙ্গী ছিলেন ডালমিয়ার ছায়া সঙ্গী। সেই প্রাক্তন সাংবাদিক – ব্যাক্তিগত সচিবকে নিয়ে আই সি সি – বি সি সি আই-সি এ বি সামলেছিলেন। তিনি এখন বিদেশে থাকেন। তাঁর দায়িত্ব শেষদিকে সামলে ছিলেন- অভিষেক ডালমিয়া, জগু বাবু’র ছেলে। জগমোহন ডালমিয়া ছিলেন দূরদর্শী –দাপুটে প্রশাসক। 

Sourav-Ganguly-and-BCCI-interim-chief-Jagmohan-Dalmiya2এখনকার সি এ বি সভাপতিও ব্যাক্তিগত সচিব রেখেছেন এক প্রাক্তন সাংবাদিককে। লাখ টাকার মাস মাহিনা দিয়ে রেখেছেন নিজ পছন্দের( কোন বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রার্থী বাছাই পর্যন্ত হয়নি বলেই জানি) সি ই ও। বিশুবাবুকে তা রাখতে হয়নি। ডালমিয়াকেও না। প্রসূনবাবু রেখেছিলেন। কাজের কাজ হয়নি।
কখনও টিকিট বা কার্ড বিলি করা নিয়ে সাম্প্রতিক কালের মতো এত অভিযোগ – বিতর্কে সি এ বি তে সোরগোল ওঠেনি।
শুক্রবার শুনতে পেলাম সভাপতি তাঁর ব‍্যাক্তিগত সচিবের ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে দূর্ব্যহারের কড়া সমালোচনা হজম করতে না পেরে বল অন্য কোর্টে ফেলার চেষ্টা করেন।
অবাক হচ্ছি, সিএবি-র সভাপতির দ্বিচারিতায় ( যদি তিনি ক্লাবটির টিকিট বন্টন নিয়ে মন্ত্রী তত্ব না মেনে থাকেন)!!
অন‍্য ক্লাব ২১০ টি করে ফ্রি টিকিট পেয়েছে? যতোটা জানলাম, তা হল ফ্রি টিকিট বিলিটা – নিজ আনুগত্য যাচাই করা, কিংবা – তেলা মাথায় তেল ঢালার তত্ব।
কার্ড বিলি করে আগের সভাপতিরা সমালোচিত হননি। কে এই শতদ্রূ দত্ত? সি এ বি’র কোনও অনুমোদিত স‍‌ংস্থার প্রতিনিধি নন। অথচ, তিনি পেয়ে যান: অফিসিয়াল, অল গেট অকসেস কার্ড!! সি এ বি সভাপতির একাধিক ব্যাক্তিগত সচিব আছে বলে শুনছি। এক ম্যাডামও আছেন এই লম্বা তালিকায়। তিনি আবার ফেসবুক আপডেট করতে পছন্দ করেন। সেখানে তাঁর তো বটেই, ওঁনার ঘনিষ্ঠদের গলায় কার্ড ঝুলিয়ে কর্পোরেট বক্সে বসে খেলা দেখার ছবিও পোষ্ট করা আছে। বিশুবাবু, জগুবাবু, প্রসূনবাবুরা পাইয়ে দেওয়ার এসব খেলায় মাততেন না। তাঁরা বড় মাপের ক্রিকেটার ছিলেন না, বড় মাপের প্রশাসক ছিলেন।
প্রচার মাধ্যমে জানলাম, সি এ বি সভাপতি বলেছেন, ” আই পি এলের টিকিট সি এ বি দায়িত্ব নয়, কে কে আর এর মতো দলের।” তাহলে , তাঁর ব্যাক্তিগত সচিব ক্লাবটিকে ২১০ টি দিলেন কীভাবে?!!
মন্ত্রীকে ফ্রি টিকিট দেওয়াটা রেওয়াজ। ফোন পেতেই, খাম ভর্ত্তি হয়ে যায়। এই সভাপতি / সচিব দের না বলার কিংবা নিয়ম মতো চলার দম নেই। কারণ, এখনও যে তাঁরা নির্বাচন জিতে সি এ বি তে বসেননি। অনুমোদনে দায়িত্ব পেয়েই যা যা করছেন!!! জিতে এলে কী হয় , তাই দেখার।।।

দীপঙ্কর গুহ

দীপঙ্কর গুহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *