“শিশুদের তোতলামি”

stutteringস্বাস্থ্য পাতাঃ  তোতলামি হোল কথা বলার প্রতিবন্ধকতা। কথা বলতে গিয়ে আটকে যাওয়া, ঠিকমতো উচ্চারনে সমস্যা, একটা শব্দ একটানা বলে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা তোতলামির ক্ষেত্রে ঘটে। একে ডাক্তারি ভাষায়, স্পিচ ফ্লুয়েন্সি ডিসঅর্ডার বলে।

তোতলামির সমস্যা কেন হয় এটা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে জিনগত সমস্যা থাকলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি বাবা- মায়ের এই সমস্যা থাকে তাহলে সন্তানদের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে।

ছোটবেলায় অনেক শিশুরই তোতলামির সমস্যা থাকে, পরে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে যায়। সুস্থ বাচ্চারা অনেক সময় কোনও তোতলা বাচ্চাকে অনুকরন করতে গিয়ে তোতলামির কবলে পড়ে যায়।

সাধারনত দুই থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাচ্চারা কথা বলতে শেখে। এই সময়ই সমস্যা বুঝতে পারা যায়। মা- বাবাদের সতর্ক থাকতে হবে।

তোতলামি সারানোর জন্য মুলত একটাই চিকিৎসা– স্পিচ থেরাপি। এই থেরাপির মাধ্যমে শিশুদের কথা বলা একটু স্লো করে দেওয়া হয়। মানে, আমরা সাধারনত যে গতিতে কথা বলি, তার থেকে কম গতিতে কথা বলা অভ্যাস করান হয়। ছোট ছোট বাক্য বলতে অভ্যাস করান হয়। জিভের মুভমেন্টে সমস্যা থাকলে, একটা শব্দের আগে ‘আ’ বসিয়ে বলানো অভ্যাস করান হয়। এতে জিভের ব্যায়াম হয়। ভাল ফল মেলে। এই ধরনের আরও বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে চিকিৎসা চলে।

স্পিচ থেরাপির মাধ্যমে ভাল ফল পেতে গেলে শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এখানে অভিভাবকদের সক্রিয় ভুমিকা পালন করতে হবে।তোতলা শিশুরা  স্কুল এবং সামাজিক ক্ষেত্রে মেলামেশার সময় হাসাহাসির শিকার হয়। এই কারনে শিশুরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। মা- বাবাই পারে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *