শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভারতীয় ফুটবলার– “আমেদ খান”

xahmed-khan-footballer-east-bengal-650x381.jpg.pagespeed.ic.7xOJry72Iv১৯৫২ সালে হেলসিঙ্কি অলিম্পিকে ভারত খেলছে যুগোস্লাভিয়ার বিরুদ্ধে।দশটা গোল খেয়ে ভারতের মানসন্মান মাটিতে মিশে গেছে।সেদিন আমেদ খানের করা একটা গোল কিছুটা হলেও ভারতের সন্মান রক্ষা করেছিল।১৯৫১ সালে এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য,৫৪ সালে ম্যানিলা এসিয়াদ,৫৩-৫৪সালে চার দেশ টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য।বর্ণময় ফুটবল জীবন অতিক্রান্ত করার পর  থেকে মৃত্যুর আগের দিন অবধি যুগোস্লাভিয়ার কাছে ১০ গোল খাওয়া হজম করতে পারেননি-আমেদ।অনেকে, যুগোস্লাভিয়ার পাঁচজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে সেই সোনালি গোলটির মনে করিয়ে দিলে-আমেদ, হাত নেড়ে মাছি তাড়ানোর ভঙ্গি দেখিয়েছেন।৯১ বছর বয়সে এই কিংবদন্তী ফুটবলার আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার পর বার বার মনে পড়ছে তার কথা।

ছোটবেলা থেকে তার ড্রিবলিংয়ের চর্চা ছিল বেঙ্গালুরু শহরে লোকমুখে।নিজের ড্রিবলিং ক্ষমতাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।

আপ্পারাও, ভেঙ্কটেশ, সালে, ধনরাজ এবং আহমেদ খান। ইস্টবেঙ্গলের ‘পঞ্চপাণ্ডব’-এর কাহিনি ভারতীয় ফুটবলে ইতিহাস।আমেদ ছাড়া বাকি চারজন আগেই ইহলোক ত্যাগ করেছিল।বাকি ছিল-আমেদ, সেও চলে গেল।শুধু রেখে গেলেন ইস্টবেঙ্গলের ঘরে 11টা বছরের স্বর্নালি অধ্যায়।ফুটবলের এই হীরক খণ্ডকে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব কর্তা জ্যোতিষ গুহ ১৯৪৮ সালে ভারতীয় দলের আবাসিক শিবির থেকে তুলে এনেছিল।লাল-হলুদ জার্সি পরে তিনবার কলকাতা লিগ, আই এফ এ শিল্ড চারবার,তিনবার ডুরান্ড,ডিসিএম রোভারস কাপ জিতিয়েছিলেন।

১৯৫৩ সাল পর্যন্ত আমেদ খান জান কবুল করেছিলেন প্রিয় দল ইস্টবেঙ্গলের জন্য। সেই পাঁচ মরসুম ছিল লাল-হলুদের অপ্রতিরোধ্য গতি।পঞ্চপাণ্ডবের মোট গোল প্রাপ্তি  ৩৪৭টি।একা আমেদ খানের ছিল ৩৫টি। দু’টো পা-ই সমান চলত আমেদ খানের।এতো ভালো বল সাপ্লাইয়ের ক্ষমতা সম্পন্ন ফুটবলার ভারতে আর জন্মাইনি।

ফুটবল-পরিবার থেকেই উঠে এসেছিলেন খান সাহেব। আহমেদের বাবা মেহমুদ খানও ছিলেন জনপ্রিয় ফুটবলার।আমেদ খান প্রথমে ব্যাঙ্গালোরের ক্রিসেন্ট ক্লাব তারপর ব্যাঙ্গালোর মুসলিম ক্লাব হয়ে ইস্টবেঙ্গল।১৯৪৯ থেকে ১৯৬০ পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের নয়নের মনি হয়ে থেকেছিলেন।১৯৫৩ সালে রোমানিয়ায় বিশ্ব যুব কংগ্রেস টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই টুর্নামেন্টে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছিল লাল-হলুদ। বুখারেস্টে সে বার ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে ঝড় তুলেছিলেন আমেদ খান। বছর পাঁচেক আগে শেষবার ওঁর বড় প্রিয় কলকাতায় এসেছিলেন আহমেদ খান। ইস্টবেঙ্গলের তরফে সে বার কিংবদন্তিকে ‘ভারত গৌরব’ সম্মানে ভূষিত করা হয়।আমেদ খানের মৃত্যুতে ভারতীয় ফুটবল ইতিহাসের চলমান গাঁথার অবসান হোল।জানা নেই, আর কতদিন আমেদ খানকে মনে রাখবে আগামী প্রজন্মের ফুটবলাররা।ভারতীয় ফুটবলে এভাবে একটা যুগের অবসান হত না।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *