যে কোনও বেলাগাম ক্যান্সার, লাগাম পরাচ্ছে পরমানু শক্তি,লেখিকা-স্বাতি চট্টোপাধ্যায়।

downloadক্যান্সার মানেই মৃত্যু। ক্যান্সার মানেই, বিপুল চিকিৎসার খরচ। এই কথাগুলো আপাত দৃষ্টিতে সত্যি মনে হলেও, সব সময় প্রযোজ্য নয়। কারন একটাই, ঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত জীবনের চলার পথকে  আরও কিছুটা প্রশস্থ করে তোলে। আর তা অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গে তুল্য। এমন ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে, যারা ক্যান্সাকে বাগ মানাতে পেরেছেন, স্রেফ একটা কৌশলী পদক্ষেপে। বসিরহাটের সুস্মিতা বসাক, বছর তিনেক আগে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। সেই সময় সার্জারি করিয়ে নেন। তার পর থেকে চিকিৎসকের পরামর্শেই ছিলেন।সুস্মিতা দেবী ভেবেছিলেন তিনি প্রায় সুস্থ হয়ে গিয়েছেন।কিন্তু বাদ সাধল গত বছরে, হটাত বুকে যন্ত্রণা অনুভব করেন। প্রথমে ভেবেছিলেন হার্টের সমস্যা। পরীক্ষার পর জানতে পারেন, তার ফুসফুসে ক্যান্সার হয়েছে। তিনটি কেমো সাইকেল শেষ করেন।কিন্তু দেখা যায় কেমো কাজ করেনি। অগত্যা মৃত্যুকে অনিবার্য মেনে নিয়েছিলেন তিনি ও তার পরিবার। এমন সময় একটি সুত্র মারফত খবর পান ‘এসবি ক্যান্সার অ্যান্ড মেডিক্যাল রিসার্চ ফাউন্ডেসনের। সেখানেই তিনি বিকল্প চিকিৎসা শুরু করেন। আর তা অত্যন্ত কম খরছে।মাত্র কয়েক মাষের চিকিৎসায় তিনি অনেকটাই স্বাভাবিক। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ক্যান্সারের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে অনেকটাই লাগাম টানতে পেরেছে নতুন চিকিৎসা। শুধু সুস্মিতা দেবীই নয়, ছবিটা প্রায় এক মুম্বাইয়ের পানভেলের বাসিন্দা কবিতা ভোঁসলের ক্ষেত্রেও। তিনিও প্রথমে মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়ালে চিকিৎসা করান।পড়ে তিনিও দ্বারস্ত হন ‘এসবি ক্যান্সার অ্যান্ড মেডিক্যাল রিসার্চ ফাউন্ডেসনের।

কি বলছেন এসবি ক্যান্সার অ্যান্ড মেডিক্যাল রিসার্চ ফাউন্ডেসনের চিকিৎসকরা? এমন ম্যাজিকাল পরিবর্তন এই  কি ভাবে? চিকিৎসক সৌগত জানার মত, এটা ম্যাজিক নয় সম্পূর্ণ বিজ্ঞান। আর বিজ্ঞান চলে আসছে তিনশো বছর ধরে। তবে হ্যা, এই বিজ্ঞানের পিছনে রয়েছে নিরন্তর এক গবেষণার ফসল। প্রথাগত চিকিৎসায় যে ভাবে কেমোথেরাপি উঠে এসেছে,সেই ভাবেই বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থায় উঠে এসেছে নয়া দিশা। যদিও তা এখনও সম্পূর্ণ নয়,তবুও রাস্তা পাওয়া গিয়েছে বলা যেতে পারে।

is (5)

এটা কি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার অঙ্গ? ডঃ সৌগত বাবুর মত, অবশ্যই কিন্তু ধ্রুপদী হোমিওপ্যাথির সঙ্গে মিলিয়ে ফেললে চলবে না। এই পদ্ধতি অ্যাডভান্স হোমিওপ্যাথি। অর্থাৎ একাধিক ওষুধের বিভিন্ন পোটেন্সি নির্বাচন করে একক ওষুধ আবিষ্কার। আবার প্রথাগত বা বাজার চলতি ওষুধের পোটেন্সিকে বিভাজন করে নতুন পোটেন্সির কার্যক্ষমতা দেখে রোগীর ওপর প্রয়োগ করে সুফল পাওয়া গিয়েছে।কি ভাবে কাজ করে এই চিকিৎসা পদ্ধতি ? ডঃ তুহিন পারুই বলেন, কোনও প্রাকৃতিক উপাদানের নির্যাসকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বের করা হয়। তার পর সেই নির্যাস থেকে ফর্মুলা মেনে  উপাদানের অনু-পরমাণুতে যে শক্তি রয়েছে তাই বের করা হয়। সেই একই পদ্ধতি অবলম্বন করে, উপাদানের অন্তনিহিত শক্তিকে ক্রমিক অঙ্কে বাড়ান হয়, বিভাজনের মধ্যে দিয়ে। একটা সময় দেখা যায়, প্রাকৃতিক উপাদানের কোনও অস্তিত্বই নেই, কিন্তু তার অন্তনিহিত শক্তিটিকেই ব্যবহার করা হচ্ছে রোগ নিরাময়ে।সেই শক্তি ধরা থাকে প্রধানত পরিস্রুত অ্যালকোহলের মধ্যে। তবে কোন রুগীর ক্ষেত্রে কোন পোটেন্সি ব্যবহার করতে হবে, তা অবশ্যই বিচার করতে হবে বিচক্ষণ চিকিৎসককে। কিন্তু মানব শরীরে কি ভাবে কাজ করছে? বিভিন্ন ওষুধ তার নিজস্ব চারিত্রিক বৈশিষ্ট শক্তি নিয়ে মানব শরীরে কাজ শুরুকরে। ওষুধের পারমানবিক শক্তি নিজেকে সক্রিয় করে তুলতে পারে।তাকে কোথায় গিয়ে নিঃশব্দে কাজ করতে হবে তা সে বুঝতে পারে। ওষুধের সুক্ষতা এতই বেশী থাকে যে, শরীরে বহু গভিরে গিয়ে অসাধ্য সাধন করে। ধরা যাক ক্যান্সারের প্রথাগত চিকিৎসায় কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। এই থেরাপি শরীরের মধ্যে গিয়ে ক্যান্সারের কোষগুলিকে ধ্বংস করে। পাশাপাশি তার চলার পথে সুস্থ সেলগুলিকেও ধ্বংস করে। ফলে দেখা যায় বিভিন্ন সাইড এফেক্ট। কারন কেমোথেরাপিকে পাঠানো হয় ধ্বংস করার জন্য। তাই সে সুস্থ সেলকে চিনতে পারে না। আর অ্যাডভান্স হোমিওপ্যাথি এখানেই একদম অন্য রকম। এই ওষুধের পারমানবিক শক্তি আলাদা করে অসুস্থ সেলকে চিনতে পারে,ফলে নিপুন ভাবে আক্রমণ করে চিরতরে নিকেশ করে দেয়, পাশাপাশি সুস্থ সেলগুলিকে রক্ষা কবচ দেয়। এই সেলগুলি এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে ক্যান্সারের সেলও ছুঁতে পারে না।বলা যেতে পারে, অনেকটা দাবার চালে কিস্তিমাত করছে অ্যাডভান্স হোমিওপ্যাথি ওষুধের পারমানবিক শক্তি।

এই চিকিৎসা পদ্ধিতিতে কি ক্যান্সার থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়ার আশা আছে? চিকিৎসক তুহিন পারুইএর মতে অবশ্যই আছে কিন্তু দেখতে হবে রুগী ঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কিনা। এবং রুগীর শারীরিক অবস্থা ঠিক কোন জায়গায় রয়েছে। এর সঙ্গে একটা বড় ব্যাপার হল রুগীর বয়স। পাশাপাশি ভরসা ও বিশ্বাস রাখাটা খুব জরুরী। আপনাকে যেকটা কেস স্টাডি দেওয়া হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই এসেছেন নিরুপায় হয়ে, কারন প্রথাগত চিকিৎসা ব্যবস্থায় তদের দরজা বন্ধ।

is (6)

কেমোথেরাপির পর আবার বড় আকার নিয়ে ফিরে আসছে ক্যান্সার। প্রথাগত চিকিৎসা ব্যবস্থায় চিকিৎসকরা জবাব দিচ্ছেন আর বেশী দিন নয়। অথচ এমন রুগীদের সুস্থতার পরিবর্তন লক্ষণ করা যাচ্ছে এটা কি করে সম্ভব? চিকিৎসক পিন্টু দাসের মতে, চূড়ান্ত মাত্রায় ক্যান্সার আক্রান্ত রুগীদের যখন জবাব দিয়ে দেওয়া হচ্চে, তার মানে বুঝতে হবে, একদমই শেষ অবস্থা। মানে যে কটা দিন তারা বাঁচবেন, তাদের মূল অস্ত্র পেইনকিলার,পেইনকিলার আর পেইনকিলার। একটা সময় তাও কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ততদিনে পেইনকিলারের সৌজন্যে শরীরের অন্য অঙ্গগুলি বিকল হতে শুরু করে। আমাদের চিকিৎসা পদ্ধতিতে এইখানেই রাশ টানি। আমরাও পেইনকিলার দিয়ে থাকি কিন্তু তার সাইড এফেক্ট নেই। ফলে একাধারে পেইন রিলিফ যেমন দেওয়া হয়, তেমনই ক্যান্সারকে গ্রেফতারের চেষ্টাও চালানো হয়। যারা একদমই শেষ অবস্থায় আশে, তাদের ক্ষেত্রে পেইনলেস একটা কোয়ালিটি লাইফ স্পান বাড়ান ছাড়া আর কিছু করা যায় না। তবে পুরোপুরি নির্ভর করছে রোগীর অবস্থা ঠিক কোন জায়গায় রয়েছে। এমন বহু রুগী দেখা গিয়েছে যাদের বাঁচার কথা ছিল দু মাষ, অথচ তারা বেঁচে রয়েছেন দেড়-দু বছর। তারা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন বলা যাবে না, কিন্তু স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ পাচ্ছেন, এটাই বলা যায়।

যোগাযোগ>> ফোন,৭০৫৯২০৯৯৮৬, সকাল ১১ থেকে দুপুর ২ টো।

মেইল>>ekabinsha@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *