‘মুঠো মুঠো ভিটামিন খেয়ে বিপদ বাড়াচ্ছেন’

pm_12341473জগত যত উত্তরোত্তর অগ্রগতির পথে এগোচ্ছে, ততই ঘরে বাইরে মানুষের ব্যস্ততা বেড়েই চলেছে। সময় করে, নিয়ম করে সুষম আহার করার সময়টাই আজ মানুষের নেই। সুষম আহারের শূন্যস্থান দখল করেছে ফাস্ট ফুড, তৈরি খাবার। ফাস্ট ফুডের কুপ্রভাবে আজ মানুষের সঙ্গি হয়েছে- ক্লান্তি, মাথাব্যাথা, বমিবমি ভাব, অরুচি, কোষ্ঠকাঠিন্য, ফ্যাটি লিভার, অম্বল ইত্যাদি রোগ।

আজকাল বেসিরভাগ লোকই ধারনা করে যে এই সব সমস্যার কারন হোল ভিটামিনের অভাব। তাই সমাধানের জন্য বাড়ির কাছের ওষুধের দোকান থেকে ভিটামিন ওষুধ কিনে খেয়ে ফেলে। দীর্ঘদিন ধরে এই সব ভিটামিন ওষুধ খাওয়ার ফল মারাত্তক হতে পারে। যেমন- হাইপারভিটামিনোসিস। ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, নায়াসিন দেহে প্রয়োজনের অধিক সঞ্চিত হলে এর প্রভাবে অনেক সমস্যা হতে পারে।

ভিটামিন এ—  চুল, চোখ, দাঁত, হাড় ইত্যাদি গঠনে ও সঠিক কাজকর্ম নিয়ন্ত্রনে শরীরে এই ভিটামিনের প্রয়জন।দিনে ৩৫০- ৯০০ মাইক্রোগ্রাম আমাদের শরীরের জন্য যথেষ্ট। তার বেশি যদি গ্রহন করা হয় তাহলে এটা আমাদের শরীরে সঞ্চিত হতে হতে বমি, পেটব্যাথা, মাথাঘোরা, চুল পড়া, দেহের ওজন কমে যাওয়া, হাড়ের সন্ধিতে ব্যাথা, রক্তক্ষরণ, চামড়া খসখসে হওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।

ভিটামিন ডি– রিকেট, অষ্টিওপোরোসিস ইত্যাদি ভয়ানক হাড়ের রোগ ঠেকানোর জন্য শরীরে এই ভিটামিনের প্রয়োজন। দিনে ৫- ১০ মাইক্রোগ্রামের বেশি শরীরে প্রয়োজন পড়ে না। তার বেশি গ্রহন করলে, খিদে না পাওয়া, বেশিবার প্রস্রাব, বারবার জল পিপাসা, নার্ভাসনেস, উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।

ভিটামিন ই – শরীরে অক্সিডেটিভ ধংস রুখতে, লিভার, স্নায়ুতন্ত্র ও সেক্স হরমোন ঠিক রাখতে এই ভিটামিনের প্রয়োজন। দিনে ১০.৩০ মিলিগ্রাম আমাদের শরীরের জন্য যথেষ্ট। এর বেশি শরীরে ঢুকলে ঝাপসা দৃষ্টি, মুখে ঘা, মাংশপেশির দুর্বলতা, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি, রক্তে গ্লুকোজ কমে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।

ভিটামিন সি– তিব্র অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরে ক্ষতিকারক ফ্রি র‍্যাডিক্যালসের ধংসক্রিয়া রুখে দেয়। নান অসুখ প্রতিরোধ করে। ভিটামিন সি অধিক সেবনে পেট ব্যাথা, ত্বকে র‍্যাস, মারাত্তক কোমরে ব্যাথা, প্রস্রাব কমে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।

ভিটামিন কে– জন্ডিস, প্যাংক্রিয়াটাইটিস, কিছু ক্রনিক অসুখ ভিটামিন কে অভাবে হয়। এই ভিটামিন অধিক সেবনে শরীরে লোহিত রক্তকনিকা ভাঙতে থাকে, যার ফলে বিপজ্জনক অ্যানেমিয়া হয়।

নায়াসিন—শরীরে ডায়েরিয়া, ডিমেনসিয়া, ডার্মাটাইটিস ইত্যাদি  রোগ প্রতিহত করতে এই ভিটামিনের প্রয়োজন। এই ভিটামিন অধিক সেবনে শরীরে জ্বালা পোড়া বোধ, একজিমা সহ নানা চর্ম রোগ দেখা দেয়।

সব শেষে বলি, শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব পুরন করতে খাদ্য থেকে খাদ্যপ্রানের সন্ধান করুন। আর যদি একান্তই ভিটামিন গ্রহন করতে হয় তাহলে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনই ভিটামিন সেবন করা উচিৎ নয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *