—– ‘মিস্টার কুল’ —–

mahendra_singh_dhoni_long_hairstyle_pictures_3‘আনহোনি কো হোনি সির্ফ ধোনি ই কর শকতা হ্যায়’- কপিল দেব। ভারতীয় ক্রিকেটে মিস্টার কুল ক্যাপ্টেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।

টাইম ম্যাগাজিনের লেখক চেতন বাগত ধোনি সম্পর্কে লিখেছিলেন ‘তিনি শুধু ভারতকে বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দেননি, ১২৫ কোটি ভারতীয়কে শিখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে বিশ্বকে জয় করা যায়।

ভারতের উত্তরাঞ্চলের আলমোড়া জেলার তলসালম গ্রামে ১৯৮১ সালে ৭ই জুলাই মহেন্দ্র সিং ধোনি জন্মগ্রহন করেন।চাষি পন সিং এর ছেলে ধোনি কর্মজীবন শুরু করে ভারতীয় রেল বিভাগে টিকিট চেকার হিসাবে।ভাগ্যের তাড়া খেতে খেতে পন সিং চলে আসেন ঝাড়খণ্ডের বোকারো শহরে তারপর রাঁচি।

গোলকিপার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ধোনি প্রথম দিকে স্কুলে ফুটবল খেলতেন। স্কুলের বাঙালী ক্রীড়া শিক্ষক ক্রিকেট দল তৈরি করতে গিয়ে উইকেটকিপার না পেয়ে ধোনির শরণাপন্ন হন। ধোনি রাজি হয়ে যায়। এভাবেই ধোনির ক্রিকেট খেলা শুরু।ধীরে ধীরে উইকেটকিপার ধোনির মধ্যে ভাল ব্যাটসম্যান হওয়ার সব গুন খুঁজে পেল শিক্ষক। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ধোনি  সুযোগ পান বিহার দলে। ১৯ বছর বয়সে অভিষেক ঘটে ‘রনজি ট্রফিতে’। এরপর ‘পূর্বাঞ্চল’ টিমে।

মহেন্দ্র সিং ধোনির অধিনায়কত্বে ভারত ২০০৭ সালে আইসিসি বিশ্ব ২০ ২০, ২০০৭-০৮ সালে সিবি সিরিজ, ২০০৮ সালের ব্রডার-গাভাস্কার-ট্রফি, ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানে একটি সিরিজ ও ২০১১ সালে বিশ্বকাপ জয় করেছে। ধোনির অধিনায়কত্বেই ভারত টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে উঠে এসেছিল। এখনও পর্যন্ত টেস্ট এবং ওয়ান-ডে ইন্টারন্যাশনালে তার রেকর্ড ভারতীয় অধিনায়কদের মধ্যে সেরা। তার নেতৃত্বে ভারতীয় দল প্রথম শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডে ইন্টারন্যাশনাল সিরিজ জয় করে এবং ভারত কুড়ি বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারাতে সক্ষম হয়।

ধোনি একাধিক সম্মান ও পুরস্কার পেয়েছেন। ২০০৮ ও ২০০৯ সালে প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার যিনি আইসিসি মনোনীত একদিনের বর্ষ সেরা বিশ্ব ক্রিকেটারের স্বীকৃতি পান। এছাড়া তিনি ভারতের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান রাজীব গান্ধী খেল রত্ন পুরস্কার ও পদ্মশ্রী পুরস্কার পেয়েছেন। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রেটিংয়ে জানুয়ারি ২০১০ সালে ধোনি সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কিংধারী খেলোয়াড় ছিলেন। ২০০৯ সালে উইজডেনে স্বপ্নের টেস্ট একাদশ দলের অধিনায়ক হিসেবে ঘোষিত হন।২০১১ সালে ধোনিকে ভারতের সামরিক বাহিনী লেফটেন্যান্ট কর্নেলের পদমর্যাদা প্রদান করে।

ধোনির বড় শখ দেশী-বিদেশী কুকুর পোষা।কিশোর কুমারের গানের অন্ধ ভক্ত। ধোনির পৃথিবীর কোনও খাবারেই অরুচি নেই তবে কলকাতায় এলে ইলিশ মাছ ভাজা দিয়ে ভাত খেতে ভালোবাসেন। বলিউড অভিনেতা জন আব্রাহামের ভক্ত বলেই এক সময় লম্বা চুল রেখে সবার নজর কেড়ে নিয়েছিলেন। হয়ে উঠেছিলেন ফ্যাসান আইকন। ধোনির মোটরবাইক প্রীতির কথা না বললে অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে। এখনও সময়-সুযোগ পেলেই মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। রাঁচিতে তার গ্যারেজে রয়েছে ৪টি গাড়ি ও ২৩টি হাইস্পিড মোটরসাইকেল।

বিশ্ব ক্রিকেটে একমাত্র  রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে ধোনির তুলনা করা যেতে পারে। পন্টিংয়ের অধিনায়কত্বে অস্ট্রেলিয়া টেস্ট ও ওয়ানডে দুই ধরনের ক্রিকেটেই এক নম্বরে থেকেছে। কিন্তু টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার ভাগ্য পন্টিংয়ের হয়নি।যা ধোনির আছে, তাই তো ধোনি সর্বকালের সেরা অধিনায়ক।

জন্মদিনে একবিংশ’র পক্ষ থেকে ধোনিকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *