বিষণ্ণতার কবলে পরেছেন কি????

Depression

বিষণ্ণতার আজকের পৃথিবীর সমস্যা। বিভিন্ন সমীক্ষায় বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করছেন যে আগামী ২০২০ সালের ভেতর পৃথিবীর ৪৫% মানুষ বিষন্নতা নামক মনরোগটির শিকার হবে। সব মানুষই জবীনের  কোন না কোন সময় বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়। রোগটি ধিরে ধিরে মনকে গ্রাস করে মারাত্মক ক্ষতি করে দেয়। এই সময়টায় আক্রান্ত ব্যক্তি বিষন্নতা থেকে মুক্তি পেতে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। ওই মুহূর্তে রুগীকে একমাত্র চিকিৎসকই কাউন্সেলিং করে বোঝাতে পারেন যে বিষন্নতা কোনও মানসিক অবস্তা নয়, একটা রোগ এবং চিকিৎসা করলেই নিস্তার পাওয়া যায়। পরিচিত কাউকে এই রোগের কবলে পড়তে দেখলেই রুগীর পরিবারকে সচেতন করুন, সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে উৎসাহিত করুন।

hqdefault

সচেতনতা বাড়ানোর জন্য নিচে কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করছিঃ

১) অত্যন্ত সচ্ছল পরিবারে জন্মেছিল সুমিত। সংসারে মা,বাবা আর এক বোন। একছেলের প্রতি অধিক স্নেহে বাবা-মা কোনও আবদার অপূর্ণ রাখতেন না। প্রানচঞ্চল ও দিলদরিয়া মেজাজের কারণে বন্ধুমহলে দারুন জনপ্রিয় ছিল সুমিত।২৮ বছরের সুমিত কাজকর্মের পরিকল্পনার বদলে সারাদিনটা কিভাবে কাটাবে সেই পরিকল্পনায় মশগুল থাকত। ছেলেকে কতটা স্বাধীনতা দেওয়া উচিৎ সুমিতের বাবা-মা ভাবিত ছিল না। একদিন সকালে ব্রেকফাস্টের টেবিলে সুমিতকে দেখতে না পেয়ে বাবা,মা, বোন ডাকাডাকি শুরু করল কিন্তু সুমিতের কোনও সাড়াশব্দ নেই, ঘরের দরজাও ভেতর থেকে বন্ধ। অনেক ডাকাডাকি ও দরজা ধাক্কাধাক্কির পর সন্দেহ হওয়াতে আশেপাশের লোকজনদের ডেকে সুমিতের ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঢুকে সকলে হতবাক!!! সুমিতের দেহ পাখার সঙ্গে ঝুলছে। একটা ছোট্ট চিরকুটে লেখা- জীবনে নতুন করে কিচ্ছু পাচ্ছিলাম না, সব নীরস, বেঁছে থাকার কোনও রসদ খুঁজে পাচ্ছিলাম না বলেই এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছি। কাউকে দোষারোপ না করেই চলে গেলাম। পুলিশ তদন্ত কালে বাবা-মার কাছে জানতে পারে সুমিত বেশ কিছুদিন ধরেই মনমরা হয়ে থাকত, ব্যাপারটা সময়িক ভেবে ছেলের ব্যক্তি স্বাধীনতায় দখলদারি করতে চাননি। এখানেই বাবা-মা মারাত্মক ভুল করে ফেলেছিলেন। বাবা-মার উচিৎ ছিল ছেলের সঙ্গে একান্তে কথা বলা।

download

২) বিমল বাবু ও তার স্ত্রী তনিমা দেবী দুজনেই স্বাস্থ্য দফতরে চাকরি করতেন। বিমল বাবু পদমর্যাদায় ওপরের দিকে ছিলেন কিন্তু তনিমা দেবিকে ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন। একটি মাত্র মেয়ে কাজরীকে নিয়ে দুজনের সুখের সংসার। বিমল বাবু ১ বছর চাকরি থেকে অবসর নিয়েছে, তনিমা দেবির অবসর নিতে এখনও ৩ বছর বাকি। বেশ ছিলেন বিমল বাবু, সকালে মর্নিংওয়াক,বাজার,সংসারের টুকিটাকি কাজ, সন্ধায় পাড়ার ক্লাবে চুটিয়ে তাস খেলা- সবটাই ছন্দে চলছিল। মাষ তিনেক আগে এক সপ্তাহের শুক্রবারে তনিমা দেবী অফিস থেকে ফিরে দেখেন ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। আগে কর্মরত অবস্থায় দুজনের কাছে চাবি থাকত, এখন শুধু বিমল বাবুর কাছেই থাকে। মেয়ে কলেজ ও টিউশন সেরে ফিরতে দেরি হয়। তনিমা দেবী বার বার বিমল বাবুর ফোনে ফোন করে পাচ্ছিলেন না- বেজে যাচ্ছিল। মেয়েকে ফোন করলেন, মেয়ে কিছু বলতে পারল না। পাড়ার ক্লাবে কোনও হদীস পেলেন না। অগত্যা পাশের ফ্লাটে ডাকাডাকি করে সকলকে জড়ো করলেন। ইতিমধ্যে ক্লাবের লোকজন, মেয়ে ও আবাসনের বাকিরা ঠিক করলেন পুলিশ ডেকে ব্যবস্থা নেওয়া ভালো। পুলিশ এসে দরজা ভেঙ্গে ফ্লাটে ঢুকে দেখল বিমল বাবু শোবার ঘরে বিছানায় চিৎপাত শুয়ে। পুলিশ ও প্রতিবেশী ফ্ল্যাটের ডাক্তার পরীক্ষা করে জানালেন মৃত।পুলিশ আত্মহত্যার কারন খুজতে তন্ন তন্ন করে তল্লাশি করছিল। তেমন কিছু না পেয়ে বিমল বাবুর নিজস্ব টেবিলে একটা ডাইরি পুলিশের হাতে এলো। ডাইরিতে অনেক কিছুই লেখা, যেমন চাকরিজীবী জীবন অভিশাপ,অবসরের পর সকলের কাছেই বোঝা, তনিমা আর আগের মতো আমার প্রতি মনোযোগী নয়, সবটাই সংসার, নিজের আর মেয়ের ভবিষ্যৎ।মেয়ে-মায়ের কাছে আমার জন্য সময় নেই। আমি একটা ফালতু বস্তু,আমার এই সংসারে প্রয়োজন ফুরিয়েছে। থাকলেও হয় না থাকলেও হয়।সব ভেবে চিন্তে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। তনিমা-আমি আজও তোমায় ভালবাসি। তনিমা দেবিকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে বিমল বাবুর ডাইরি লেখার সখ কোনকালেই ছিল, হটাত করে কয়েকদিন ধরে একা একা লিখতেন। ক্লাবে যেতেন না, টিভি দেখতেন না, দশবার প্রশ্ন করলে একবার দায়সারা উত্তর দিতেন।সবসময় ঘরের ভেতর একা একা থাকতেন ইদানীং। বিমল বাবুর এহেন আচরণের ব্যাপারে তনিমা দেবির সচেতন হওয়া উচিৎ ছিল। একান্তে দুজনে আলোচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে এই স্বজন বিয়োগের ব্যাথা বইতে হতো না।

depression1

এরকম ঘটনা অহরহ ঘটে চলেছে। অনু পরিবারের ভাবধারা, দৈনন্দিন জীবনের ব্যাস্ততা আমাদের অজান্তে আমাদের একা করে দিয়েছে। পরিবারের প্রতি নজর দিন, সময় ও সঙ্গ দিন, হটাত করে পরিবারের কারোর আচরণে পরিবর্তন দেখলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন তাহলেই দেখবেন অনেক সমস্যা এড়িয়ে যেতে পারছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *