বিনা চিকিৎসায় আর ক্যান্সারে মৃত্যু নয়,চিকিৎসা দিয়ে নজির,এসবি ক্যান্সার অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন-সাক্ষাৎকার,কৃষনেন্দু ভট্টাচার্য

download(ন্যাচারাল ইমিউনো থেরাপি,পূর্ব ভারতে গরীব মানুষের কাছে নতুন আশার সোপান) মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বাসিন্দা মুজিবর শেখের পরিবার কি ভেবেছিল তাদের জীবনে বদলটা এভাবে আসবে? পশ্চিম মেদিনীপুরের ঝাড়গ্রামের সুখু মণ্ডলও ভাবতে পারেনি,তার জীবনের মোড় ঘোরার চিত্রনাট্যটা এভাবেই লেখা হয়েছিল। শুধু মুজিবর বা সুখুর গল্প নয়, শতাধিক মানুষের কাছে নতুন করে বাঁচার আশা দেখাচ্ছে ‘এসবি ক্যান্সার অ্যান্ড মেডিক্যাল রিসার্চ ফাউন্ডেসন পরিচালিত ন্যাচারাল ইমিউনোথেরাপি সেন্টার।

সারা বিশ্ব জুড়ে যে কয়েকটি রোগ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম ক্যান্সার,এইচআইভি। যার একাটাই পরিনতি, অকাল মৃত্যু। ভারত সহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে এই মারন রোগের হার দুরন্ত গতিতে এগোচ্ছে। অথচ স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর হার সরকারি স্তরে সেভাবে এগোচ্ছে না ফলে সমস্যা আরও বড় আকার নিচ্ছে।বরং বেসরকারি স্তরে স্বাস্থ্য পরিসেবার বহর বাড়তে থাকায় অন্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সাধারন মানুষ চিকিৎসা করাতে চাইলেও তারা পৌছতে পারছে না।আর যারা সরকারি স্তরে জাচ্ছেন,তারা তারিখের জালে জড়িয়ে ধিরে ধিরে মৃত্যু মুখে পৌঁছে যাচ্ছেন। যেমন বসিরহাটের সুকুমার বৈদ্য।বছর খানের আগে ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পরে এবং তিনি চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যান। প্রথমেই তাকে একগাদা টেস্ট করাতে বলা হয় যার মূল্য ১৫০০০/-। সুকুমার বাবু খরছ কমানোর তাগিদে এসএসকেএম ও মেডিকেল কলেজে যান এবং পরীক্ষা করানোর দিন পান দেড় মাষ পর। দেড় মাষ পর রিপোর্ট নিয়ে চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে গেলে ডাক্তার বাবু বলেন আপনার স্টেজ থ্রি।কারন মারন রোগ দেড় মাষে শরীরে আরও জাঁকিয়ে বসেছে। কেমো দেওয়ার দুদিন আগে চিকিৎসকরা রুগীকে ক্রিয়েটিনাইন টেস্ট করাতে বললেন। সেই রিপোর্ট পেয়ে ডাক্তাররা জানালেন এই মুহূর্তে রুগীকে কেমো দেওয়া যাবে না। অগত্যা কেমোর তারিক আরও পিছিয়ে গেল। অবশেষে, কেমো শুরু হোল। প্রাথমিক ভাবে স্বস্থি পেলেন সুকুমার বাবু। দুটো কেমো চলার পর পরিবারের লোকেরা ভাবতে শুরু করল, এইতো, ভালই আছে। এবার শুরু হোল অন্য সমস্যা, শারীরিক দুর্বলতা, খিদে কমে যাওয়া আর পিঠের যন্ত্রণা। ডাক্তারের পরামর্ষে সিটি স্ক্যান করানোর পর দেখা গেল গেল ক্যান্সার ফুসফুস ছাড়িয়ে ঘাড় ও মেরুদণ্ড গ্রাস করে ফেলেছে। ডাক্তাররা জানালেন কেমো কাজ করেনি। রুগীকে জবাব দিয়ে দিলেন। যতদিন না মারা যাচ্ছেন পেইন কিলারের ভরসায় কাটাতে হবে।

images

সুকুমার বৈদ্যর ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সারা ভারতে ৮০% নিম্ন মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তদের কপালে এমনটাই ঘটে প্রতিদিন।বহু মানুষতো অর্থের অভাবে চিকিৎসার হালই ছেড়ে দেন। আর এই পরিস্থিতিতে গরীব রুগীর পরিবারকে আশার আলো দেখাচ্ছে , এস বি ক্যান্সার অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন। কি ভাবে কাজ করছে এই সংস্থা? সংস্থার অন্যতম ট্রাস্টি পূর্ণেন্দু ব্যানার্জি জানালেন, আমাদের মূল লক্ষ্য কেউ যেন বিনা চিকিৎসায় ক্যান্সার নামক মারন রোগে মারা না যান। আমরা কাজ করছি মুলত গরীব মানুষদের জন্য। সামর্থ্যবানরা ৩০-৪০ লাখ খরছা করে চিকিৎসা করাবেন এটাই স্বাভাবিক।কিন্তু মজার বিষয় হল, সেই সব ধনী ব্যক্তিরাও আসেন আমাদের কাছে একদম শেষ অবস্থায়। যাই হোক, আমরা কোনও প্যাথির সমালোচনা করছি না। প্রাথমিক অবস্থায় কেমোথেরাপি অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু সেটাও তো ঠিক সময়ে করতে হবে। মূল সমস্যাটা হয় গরীব মানুষের ক্ষেত্রে টেস্ট করান নিয়ে। টেস্ট ছাড়া অ্যালোপেথিতে একচুল চিকিৎসা করান সম্ভব নয়।ফলে টেস্টের পক্রিয়া শেষ হতে হতে রুগী অন্তিম পর্যায়ে চলে যায়। সেক্ষেত্রে আমাদের ডাক্তাররা টেস্ট চলাকালীন অবস্থায় সংকেত মূলক চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়। অর্থাৎ রুগীর শরীর কি কি সংকেত দিচ্ছে। এই অ্যাডভান্স হোমিওপ্যাথির মজাটা হল অ্যালপ্যাথির ঠিক উল্টো, ক্যান্সার ধরা পরুক বা না পরুক, এই মধ্যবর্তী সময়ে  যে চিকিৎসা দেওয়া হয় তার অভিমুখ বদলে যায় না। ফলে রিপোর্ট পাওয়ার পর,আরও সুক্ষ চিকিৎসা প্রটোকল তৈরি করেন চিকিৎসকরা।

images (1)

সংস্থার চিকিৎসক সৌগত জানা বলেন, একটা ক্যান্সার রুগীর ঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু না হলে, তার প্রাণশক্তি অর্থাৎ শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম খুব দ্রুত হারে কোমতে থাকে। এই অবস্থায় রুগীর শরীরের অবস্থা ঠিক ঠাক না বুঝে কেমোথেরাপি দিতে চান না চিকিৎসকরা। ঠিক এই জায়গাটাতেই আমরা রাশ টানি। আমরা জানি কেমোথেরাপি দ্রুত নিরাময়ের ক্ষেত্রে আদর্শ। কিন্তু সেটা একটা স্টেজ পর্যন্ত। আমরা ওই স্টেজটাকে ধরে রাখতে সাহায্য করি। টেস্টের সময় ক্যান্সার যে দ্রুত হারে ছড়িয়ে পরে, আমাদের চিকিৎসা সেই গতিকেই অনেকটাই কমিয়ে দিতে সক্ষম। আমাদের চিকিৎসার সঙ্গে অ্যালোপ্যাথির চিকিৎসার কোনও বিরোধ নেই। বরং দুঃসময়ে আমাদের পদক্ষেপ অনেকটাই কেমোথেরাপির পরিপূরকের কাজ করে।

তাহলে কি একজন প্রাথমিক স্তরে আপনার ক্যান্সারের চিকিৎসায় আশাবাদী নন? চিকিৎসক তুহিন পারুইয়ের মতে, না তা কেন? অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা প্রথম অবস্থায় যে দ্রুততার সঙ্গে স্বস্তি দিতে পারে,আমরা সেটা পারি না। এই সত্যিটা আমাদের মানতেই হবে।কারন, আমাদের চিকিৎসার বেশ কয়েকটি দিক রয়েছে, সেগুলি খুব সুক্ষভাবে বিচার করে এগোতে হয়। তার জন্য সময়, এই চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি ভরসা এবং চিকিৎসকের প্রতি বিস্বাস রাখাটা জরুরী। কিন্তু সমস্যা হল, আমাদের কাছে অধিকাংশ মানুষই আসেন নিরুপায় হয়ে,একদম শেষ অবস্থায়।এই অবস্থাতেও আমাদের চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জনের নিরন্তর চেষ্টা চালাই।

যেখানে ক্যান্সারের পেছনে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয়, সেই অবস্থায় দাঁড়িয়ে বিনামুল্যে চিকিৎসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন আপনারা। সত্যি কি বিনামুল্যে? না বাজার চলতি গিমিক? এটাতো অবিস্বাস্য লাগতে পারে আম জানতার কাছে? সংস্থার ট্রাস্টি পূর্ণেন্দু বাবুর মত, দেখুন একটা উদাহরণ দিই, বাজারে সিটি স্ক্যান করাতে খরচ কত? সাড়ে চার থেকে আট হাজার টাকা, সরকারি হাসপাতালে খরচ পরে দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকা। পশ্চিমবঙ্গের কথা বলছি।কিন্তু মুম্বাই টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে খরচ পরে মাত্র ৩৫ টাকা!! হ্যা যাদের আর্থিক সঙ্গতি নেই তাদের আমারা দিয়ে থাকি। আমি আগেও বলেছি আবার বলছি, আমাদের মূল লক্ষ্য কেউ যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না জান।বহু ক্ষেত্রে গরীব মানুষের ওষুধের জন্য বিপুল অর্থ ভর্তুকি দিয়ে থাকি, চিকিৎসকের ফি নেওয়া হয় না। কিন্তু যাদের আর্থিক সঙ্গতি আছে, যারা ৩০-৪০ লাখ টাকা খরচ করার সামর্থ্ রাখেন তাদের ক্ষেত্রে বিনামুল্যে দেওয়া যায় না। যদিও সার্বিক ভাবে বিচার করলে পূর্ব ভারতে সবথেকে কম খরছে, সবথেকে  ভালো চিকিৎসা দিয়ে থাকি। পূর্ণেন্দু বাবু আরও জানান, ক্যান্সার মানে এক জটিল রোগ আর তার চিকিৎসা করাতে বহু মানুষ নিঃস্ব হয়ে যান। একটা ঠিক সিদ্ধান্ত পরামর্শ ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর পরিবারকে ভেসে যাওয়া থেকে বাঁচাতে পারে।আর সেটাই কেউ দেয়না আজকালকার বাজারে। কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপনের টোপ খেয়ে বহু মানুষ দৌড়ন কিন্তু একবারও ভাবেন না এই টাকা আসলে আশে রুগীর পরিবারের পকেট কেটে। অনেকে এই লেখাটা পড়ে হয়তো ভাববেন এইরকম সাহায্যের আস্বাস তো অনেকেই দেয়। কিন্তু আমরা যে আস্বাস দিই না সেটা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেই বুঝতে পারবেন, যেভাবে বাকিরা বুঝেছেন। ওরা জানে সত্যিটা কি। আমাদের পরিচিতি বিজ্ঞাপনে নয়। যারা চিকিৎসার জন্য আসেন তাদের আস্থায়-ভরসায়।

Exif_JPEG_420

krisnendu bhattacharjya

যোগাযোগ করতে পারেনঃmedia.ekabinsha@gmail.com

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *