বিদায়বেলাতেও বিতর্ক মেহতাবের পিছু ছাড়ল না।

UQnTFh1qkAভারতীয় ফুটবলের বহু যুদ্ধের নায়ক,দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মিডফিল্ডার মেহতাব হোসেন ফুটবল খেলা থেকে অবসর নিলেন।শেষ হল ২১ বছরের ফুটবল জীবন।

বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়ান অ্যারোজের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ফুটবল কেরিয়ারের শেষ ম্যাচটা খেলে নিলেন সেই চিরপরিচিত ২৩ নং মোহনবাগান ক্লাবের জার্সি পরে।

১৯৯৮ সালে কালীঘাট ক্লাবের জার্সি গায়ে খেলা শুরু করে মেহতাব। পরে প্রথম বড় ক্লাব  মোহনবাগানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন।কিন্তু বিদায় বেলায় একটু বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন মেহতাব। কালীঘাট ক্লাবের তাঁবুর হাওয়া গরম হয়ে উঠেছিল মেহতাবকে কেন্দ্র করে। ক্ষেদের সঙ্গে ক্লাব কর্তারা বলছিল- ও বেইমান। ময়দানি খবর, মেহতাব নাকি কথা দিয়েছিল ফুটবল বিদায় পর্বটা কালীঘাট ক্লাবেই সাঙ্গ করবে।

অবসর নেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্তটা নেওয়ার পর আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিল মেহতাব। সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন,’ আমি ফুটবল ভালবাসি, আজ আমার যাবতীয় যা প্রাপ্তি সবই ফুটবলের দৌলতে। আমি আমার সমস্ত কোচ, ক্লাবের আধিকারিক, সতীর্থ, বন্ধু, পরিবার এবং সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাই।’

বড় ক্লাব মোহনবাগান দিয়ে শুরু করলেও ফুটবল জীবনের সেরা ১০টা বছর ইস্টবেঙ্গকেই দিয়েছেন মেহতাব।অনেক আক্ষেপ নিয়ে মোহনবাগান ক্লাব ছেড়েছিল মেহতাব, নিজেকে প্রমান করার জিদ ছিল আর সেটাই করে দেখিয়েছিল ইস্টবেঙ্গলে গিয়ে। জীবনের সেরা প্রাপ্তি- ইস্টবেঙ্গলের হয়ে চারবার ফেডারেশন কাপ এবং টানা সাত বার কলকাতা লিগ জয়। মেহতাব জানিয়েছেন, আই লিগ না পাওয়ার আক্ষেপ তাকে চিরকাল তাড়া করে বেড়াবে। শুধু আই লিগ কেন, আই লিগের আগে যখন জাতীয় লিগ ছিল, সেই ট্রফিও হাতে তোলা হয়নি মেহতাবের। অনেকবার ট্রফির খুব কাছে এসেও ট্রফি ছুঁতে পারেনি।

আইএসএলের প্রারম্ভিক থেকেই মেহতাব দাপটের সঙ্গে খেলেছেন। প্রথম তিন মরশুমে কেরালা ব্লাস্টার্সের জার্সি গায়ে খেলেছেন ৩৮টা ম্যাচ। পরে জামশেদপুর এফসি-তে ১২টা ম্যাচ খেলেছেন। প্রায় হাফ সেঞ্চুরি ম্যাচ খেলেছেন।

বেশ কিছুদিন ধরেই নিজের খেলার সেই ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন না মেহতাব। এই মরসুমেও প্রথম একাদশে খেলতেন না। পরিবর্তে খেলানো হচ্ছিলো। হয়তো আরও দু এক বছর খেলতে পারতেন, তবে না খেলে বিদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই সঠিক হয়েছে।

ফুটবল জীবনের বিদায় ম্যাচটা ৩-১ গোলে হারলেন কিন্তু ২১ বছরের যে সোনালি পেশাদার ফুটবল উপহার দিয়ে গেলেন তা বাঙালি মনে রাখবে।

ভাল থেক মেহতাব হোসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *