বাঙালি চিকিৎসা বিজ্ঞানী, ‘উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী’র আজ জন্মদিন।

Upendranath_Brahmachariউপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী ১৮৭৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিহারের মুঙ্গের জেলার জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে হুগলি কলেজ থেকে গণিত বিভাগে প্রথম শ্রেণীতে অনার্স সহ বিএ পাস করেন।১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে রসায়নে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে মেডিসিন ও সার্জারিতে প্রথম স্থান নিয়ে এমবি পাস করেন ও গুডিভ ও ম্যাকলাউড পদক পান। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে এমডি এবং এরপর শরীরতত্ত্বে পিএইচডি উপাধি পান।পিএইচডিতে তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল হিমোলাইসিস (Haemolysis) বা রক্তকণিকার ভেঙে পড়া সংক্রান্ত। এছাড়াও তিনি কোট্‌স পদক, গ্রিফিথ পুরস্কার ও মিন্টো পদক পান।

১৯২৭ সালে কারমাইকেল মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ম্যালেরিয়া, ব্ল্যাকওয়াটার ফিভার এবং রসায়নশাস্ত্র বিষয়ে গবেষণায় নিজেকে নিযুক্ত করেন।১৯২০ সালে উপেন্দ্রনাথ তৈরি করেন ইউরিয়া স্টিবামাইন।১৯২২ সালে ৮ জন কালাজ্বর রুগীকে সুস্থ করার পর ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিক্যাল রিসার্চে প্রকাশিত হয় উপেন্দ্রনাথের আবিষ্কারের কথা।১৯৩২ সালে কালাজ্বর কমিশনের কর্তা মেজর শর্ট তার অভিজ্ঞতায় ইউরিয়া স্টিবামাইন ওষুধকে নিরাপদ এবং বিশ্বাসযোগ্য আখ্যা দেন এবং এই ওষুধ ব্যবহার করে ৩.২৫ লক্ষ রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব হয়েছে সেটিও স্বীকার করেন।কালাজ্বর ছাড়াও উপেন্দ্রনাথ ফাইলেরিয়া, ডায়াবেটিস, কুষ্ঠ, মেনিনজাইটিস প্রভৃতি নিয়েও গবেষণা করেছিলেন।

চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্বন্ধে উপেন্দ্রনাথের রচনাবলীর মধ্যে ‘ট্রিটিজ অন কালাজ্বর বইটি বিখ্যাত। জীবিতকালে ইংল্যান্ডের র‌য়্যাল সোসাইটি অফ মেডিসিনের সভ্য, ইন্দোরে ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের সভাপতি এবং নানা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি দেশী ওষুধ প্রস্তুত করার জন্য ব্রহ্মচারী রিসার্চ ইনস্টিটিউট স্থাপন করে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে গ্রিফিথ মেমোরিয়াল পুরস্কারে সম্মানিত করেছিল। স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন তাঁকে মিন্টো পদক প্রদান করে।এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল তাঁকে স্যার উইলিয়াম জোনস পদকে সম্মানিত করেছিল । এছাড়াও তিনি কাইজার-ই-হিন্দ স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন।ব্রিটিশ সরকার তাঁকে রায়বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করেছিল।১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে উপেন্দ্রনাথ ব্র্‌হ্মচারী নাইট উপাধি পান। ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে মেডিসিনে নোবেল পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হয়েছিল।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *