বাই-পোলার ডিস-অর্ডার ক্রমশ গ্রাস করছে আমাদের।

some-people-experience-a-mixed-state-in-which-they-may-feel-depressed-but-also-restlessস্বাস্থ্য পাতাঃ-  বাই-পোলার ডিস-অর্ডারে যারা ভুগছে তাদের মেজাজ মর্জি ঘন ঘন পরিবর্তন করে। কোন মুহূর্তে চরম উত্তেজনা ও উন্মত্ততা (manic phase), আবার কোন মুহূর্তে অহেতুক দুঃখের ভারে অবসাদগ্রস্ত হয়ে (depression) পড়ে।

‘ম্যানিক’ অবস্থায় রোগী আনন্দ ও উত্তেজনার মধ্যে থাকে।চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসের ফলে নানান অসম্ভব ও ভয়াবহ কাজ করে ফেলে।একটানা না ঘুমিয়ে থাকতে পারে।দেদার টাকা খরচা করে ফেলে। এই অবস্থাটা চলে গেলে হয় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে নতুবা অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে।পরিস্কার ভাবে চিন্তা ভাবনা করায় অক্ষমতা, সিদ্ধান্তহীনতা, দুর্বল স্মৃতিশক্তি ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।ভালোলাগায় পরিবর্তন আসে। 

ওপরের সমস্যাগুলো কখনও ধীরে ধীরে আসে, কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে, আবার কখনও মাত্র কয়েকঘণ্টা বা মিনিটের ব্যবধানে আসতে পারে।মনের এই অবস্থান কয়েকঘন্টা থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত থাকতে পারে।

এই রোগকে অনেক সময়ে ম্যানিক ডিপ্রেসিভ ডিস-অর্ডারও বলা হয়। উপযুক্ত ওষুধের ব্যবহার কিছুটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে পারে। বাই-পোলার ডিস-অর্ডারের তীব্রতা বেশি হলে অসুস্থ ব্যক্তির পক্ষে নিয়মিত কাজকর্ম করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। 

রোগটি বাড়াবাড়ি রকমের না হলে সাধারনত এটিকে দৈনন্দিন জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বলে মনে করি। 

কোনও পরীক্ষার মাধ্যমে বাইপোলার ডিস-অর্ডার নির্ণয় করা যায় না। সাধারণত মনোচিকিৎসক বা মনোবিদরা নানান প্রশ্ন করে এটি নির্ণয় করার চেষ্টা করেন। যেমন অত্যাধিক কথা বলা, ঘুমের স্বল্পতা, উল্টোপাল্টা দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার, মনের মধ্যে চিন্তার ঝড় চলা ইত্যাদি অবস্থায়  নির্ণয় সহজ হয়। এই অবস্থায় রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করে অন্যান্য রোগের সম্ভাবনা বাদ দিয়ে ডাক্তাররা রোগটি সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হন।

কেন বাই-পোলার ডিস-অর্ডার হয় সেটা এখনও পরিস্কার ভাবে জানা যায় নি। এটি কিছুটা বংশগত। কিছুটা পরিবেশগত প্রভাবের ফলে হয়। মস্তিষ্কে কেমিক্যাল-এর একটা অসাম্য এর মূলে রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। বাইপোলার ডিসর্ডার-এ অনেকেই ভোগেন। শতকরা একজন এই রোগে ভুগছেন বলে জানা যাচ্ছে।

সাধারণভাবে বাই-পোলার অসুখে ডাক্তাররা এক বা একাধিক ওষুধ দেন।বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একটি মুড স্টেবিলাইজার দেওয়া হয় । ম্যানিক অবস্থার জন্য অযান্টি-সাইকোটিক ওষুধ আর ডিপ্রেশনের জন্য অ্যান্টি-ডিপ্রেসেণ্ট দেওয়া হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *