“দেখ ভাই দেখ”- লিখেছেন, বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক দীপঙ্কর গুহ

14342513037_358d820c6f_k-696x385প্রশ্নঃ কলকাতা তুমি কার?ক্রিকেট; আমার!!এছাড়া আর কার?

ফুতবলঃ ছিল আমার। ময়দান ছাড়া হলেও, তিলোত্তমা আমারই।

কলকাতাঃ আমি তো তোমাদের সকলেরই। কিন্তু, যখন এসব নিয়ে তোমরা ডুয়েলে মাতছো- তখন না বলে পারছি না, তিলোত্তমা “বিশ্ববাংলার বিশ্বকাপের”।।।ডুয়েলটা কাল্পনিক। কিন্তু ডাহা সত্যি।

পুজোর বাজারে কোহলিদের কোলাহলে ইডেন ভর্তি হয়নি। কিন্তু রাত দশটায় খেলা শেষ হলেও গিন্নি-মেয়েকে নিয়ে চওড়া হাসিতে এসি বাসে চড়ে বাড়ির পথে কর্তা।আই এস এল নয়, আই পি এলও নয়। এ খেলাঃ সব খেলার সেরা বাঙালির ফুটবল।

এই ফুটবলে বাংলার ইস্ট-মোহন নেই। নেই এ টি কো।তাহলে কে? কার টানে?- বিশ্ববাংলার বিশ্বকাপেরই টানে।

গোটা টুরনামেন্টে একটাও ম্যাচ নয়া যুবভারতীতে দেখতে আসা হয়নি। টানটা বাড়েনি। কিন্তু “হোম গ্রাউন্ড” যুবাভারতী জেনেও গুয়াহাটি থেকে ব্রাজিল ম্যাচ আনলো কলকাতায়!!! জানি, ব্রাজিল প্রেমে কলকাতা হাবুডুবু খায়। বুধবারও খেল।

ব্রিটিশ রাজ না পসন্দ সকলের। পাল্টা জবাবই দিয়ে এসেছে।লর্ডসে সৌরভের আদুল গায়ে বারান্দায় বাহাদুরি, সেও তো কলকাতার দাদাগিরি। কলকাতা তাই ছিল- হলুদ-নীলে মজে।

প্রথম গোলটা ইংল্যান্ড করে দিয়েছে, জেনেও যারা স্টাডেল হোটেলের সামনে থেকে বুলডোজারের গতিতে হায়াত হোটেলের পাশের গেটে ছুটেছিল-তারাও জানতো হাফটাইম হতে সামান্য কিছু সময় বাকি। তবু তারা ছুটেছিল। ক্রিকেট মাঠে ওয়ান ডে ম্যাচে ভারত বেসামাল জেনে, এমন আবেগে কাউকে ছুটতে দেখেনি বলে মনে হয়না। ওদের দৌড় বিফলে যায়নি। পেলে-নেইমারদের ভবিষ্যতের ভরসারা সমতা ফেরালো। মন ভরালো কই!!

প্রথমবার ইংল্যান্ড অনুর্ধ ১৭ বিশ্বকাপে শেষ চারে উঠেছে।তিলোত্তমা কলকাতার মন তবু সেমি-ফাইনালে জিতে নিতে পারলো না।

কিন্তু ইংল্যান্ড ৭ নম্বর!!বাঁ হাতের কব্জিতে সাদা পটি, বাঁ পাটি বড্ড পরিপাটি।মেসি ভক্তরা আজ ইংল্যান্ডেও জন্মায়!!গ্যালারির কোনায় কোনায় সকলে ছিল ব্রাজিল কামনায়। ১-৩ গোলে তিনবারের খেতাব জয়ী ব্রাজিলের দৌড় থামাল ‘বাঁ’ পায়ের বোমায়।কলকাতা কি ব্রাজিল বিপর্যয়ে হতাশ?

ধুস- সে গুড়ে বালি। শনিবারের ডবল ম্যাচ প্যাকেজের জন্য “দাদাদের” এখনই বুকিং পাঠালেন মাঠে বসে।দত্তাবাদের ছেলে-ছোকরারা ১০০ টাকার টিকিট বেচলো ৪০০ টাকায়। চারগুণ দামে। ক্রিকেট ম্যাচে ইডেনে চারগুন দামে টিকিট আজকাল বিকোয় কটা ম্যাচে?

ইডেনে ক্রিকেট ম্যাচ হলে গোটা কলকাতা এমন ব্রান্ডিং কবে দেখেছে? কতো বিশ্বকাপই তো দেখেছে কলকাতা। সবই ক্রিকেট।

ভারত এবারও উদ্যোক্তা হয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ খেলেছে। সকলের শেষে থেমেছে।

ক্রিকেট বিশ্বকাপ যেটা গেছে। সব বড়দের। কিন্তু তিলোত্তমা প্রেমে মজেছে বিশ্ব ফুটবল। বিশ্ব ফুটবলের দণ্ডেমুণ্ডের ফিফা কর্তারা।২০১৯ এর অনুর্ধ ২০ বিশ্বকাপও যে ভারতে। ১লা নভেম্বর সরকারি ঘোষণা। ফিফা কর্তাদের পছন্দের স্টেডিয়াম- তিলোত্তমা কলকাতার। আবার ফাইনাল!! ফেডারেশন সহ-সভাপতি সুব্রত দত্তকে নিজের অফিসে বসে সেমি-ফাইনালের টিকিট বিলি করা দেখে আলিপুর রোডের টিকিট বিলির ছবিটা ভেসে উঠছিল বারবার। দত্ত বাড়িও কলকাতার!!

ক্রিকেটকে এত্তোসব নমুনা দেখিয়ে তিলোত্তমার ফুটবল বলতেই পারে-“দেখ ভাই দেখ”

দীপঙ্কর গুহ

দীপঙ্কর গুহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *