“দিল মাঙ্গে মোর”–লেখক,প্রখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক-দীপঙ্কর গুহ

Medal winners1১৯৪৭ থেকে ২০১৭, স্বাধীনতার ৭০ বছর।সত্তোরের সাত সতেরো ঘাটতে বসেছিলাম।ব্রিটিশরা চলে গেছে। কিন্তু ওদের রাজ আমাদের সত্যি ছেড়ে গেছে কি? গোটা সমাজে চিত্রটা ঘাঁটতে গিয়ে দেখলাম,অকূল সমুদ্র।বালুকাবেলা ছেড়ে সরে এসে-খেলার জগত নিয়ে অতীত ঘাঁটলাম।বর্তমানের অতীত অনুভব করলাম।আর তাতেই চিন্তাটা বাড়ল ভবিষ্যতটাকে নিয়ে।

আমরা পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিঁড়ে সাত থেকে সত্তোরে পৌঁছে গেছি।১৩০ কোটি মানুষের এ দেশ কি আজ সত্যি স্বাধীন?খেলার দুনিয়ায়?

কথিত আছে বৈদিক সাহিত্যে বিশেষতঃ অথর্ববেদেই লেখা আছেঃ “আমার ডান হাত কাজ করার জন্য, আর বাঁ হাত হল সাফল্যের ফল ধরে রাখার জন্য”।পুরাতত্ত্ব বলে,ব্যাডমিন্টন নাকি এ’ দেশেই জন্ম নেয়!কিভাবে?ইংল্যান্ডে বহু পুরাতন বাচ্চাদের খেলা ছিল ‘ব্যাটেলডোর’ এবং ‘স্যাটেলকক’।‘ব্যাটেলডোর’ ছিল নৌকো চালিয়ে নিয়ে যাওয়া ছোট আকারের বৈঠা।‘স্যাটেলকক’ ছিল ছোট-ছোট পালক দিয়ে বাঁধা-ছিপির অংশ। তখন যা জনপ্রিয় ছিল ‘বার্ড’ বাঁ ‘পাখি’ নামে।নানান পরিবর্তনের মাঝে আজ ব্যাডমিন্টনের জন্ম।

‘চতুরঙ্গ’ বা ‘দাবার’ কথা ইতিহাসের পাতায়-পাতায় লেখা আছে।সাপ-সিঁড়ি’র খেলাও ছিল যা আজ “লুডো”। ছিল তাস-পাসাও।কুরুক্ষেত্র তো পাসায় হার-জিতের ফল। এমন সব খেলার জন্ম ভারতেই।এখান থেকেই এসব খেলা বিদেশে ‘পাচার’ হয়ে আরও ‘পরিশালীত’ হয়।

এসব পরাধীন ভারতের গপ্পো। স্বাধীন ভারত প্রথমবার আন্তজার্তিক মাল্টি-স্পোর্টসের আসর দেখল দেশে ১৯৫১ সালে।স্বাধীনতার ৪ বছর পর দিল্লিতে।বসেছিল-এশিয়ান গেমস।তারপর আটের দশক ন’য়ের দশক।দু’ হাজারের চৌহুদ্দিতে একাধিক আন্তর্জাতিক খেলার আসর।বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বাদ পেতে চলেছি অক্টোবর মাসে।তা সে হোক না, অনুর্ধ-১৭ বিশ্বকাপ।বিশ্বকাপ তো। আয়োজক দেশ-ভারত।

এসব দেখতে-দেখতে,ভাবতে-ভাবতে মনে প্রশ্নটা উঁকি মারল।দেশ স্বাধীন হয়েছে ৭০ বছর হয়ে গেল।খেলার দুনিয়ায় সত্যিই কি আমরা ওরফে ভারতীয়রাঃ ক্রীড়াবিদ-ক্রীড়ামহল-ক্রীড়াদুনিয়া কি পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত?নাকি আজও স্বাধীন নয়?

ব্রিটিশ রাজত্বে রাজা-রানির, বাদসা-শাহজাদিদের মৌড়সি পাট্টা ভো-কাট্টা হয়ে যায়।রাজতন্ত্র যায় সমাজতন্ত্র প্রজাতন্ত্র আসে।কিন্তু সেই ব্রিটিশ রাজ আর আপনা-রাজতন্ত্র এখনও বহাল।স্বাধীনতার পর এতগুলো বছরে আমরা ৮টি অলম্পিক পদক হকিতে পেয়ে স্বস্তির ঢুঁকুর তুলেই চলেছি।কবাডি-গ্রাম বাংলার এক খেলা।তাও সন্মান এনে দিয়েছে।ভারত আজ ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় ভাসছে।বিশ্বসেরার তকমাও কুড়িয়েছে একাধিকবার।দেশের বিভিন্ন অংশে আজও ফুটবল জনপ্রিয়।কিন্তু বিশ্বের দরবারে থুড়ি, এশিয়ার দরবারে দাদাগিরি দেখাতে ব্যর্থ।পাশাপাশি ব্যাডমিন্টন,কবাডি,বক্সিং,দাবা,জিমন্যাস্টিক্স,কুস্তি,টেবিল টেনিস,লন টেনিস আমাদের অনেক সন্মান এনে দিয়েছে।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ঘাঁটলে দেখা যাবে, স্বাধীনতার বয়স যতো বাড়ছে-ততো জটিল রাজনীতি, অর্থলুটের ব্যবসা চারিদিকে বাড়ছে।২০১০ সালের কমনওয়েলথ গেমস কেলেঙ্কারি, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ললিত রঙ্গ, একই লিগে ন্যাক্কারজনক ‘স্পট ফিক্সিং’ দেশের নামে কলঙ্ক লেপেছে।এ নিশ্চয় দেশ স্বাধীন হওয়ার যথার্থ বিজ্ঞাপন নয়।

ফুটবলের স্বর্ণযুগ কখন?১৯৫১ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত।পরিসংখ্যান ও সাফল্য তাই বলে।ভাবা যায়, সে সময় ভারতীয় ফুটবল বিশ্বের প্রথম ২০টি দলের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিল।রহিম সাহেবের সেই দল ১৯৫১ তে এশিয়ান গেমসে শোনা জেতে।১৯৬২ তেও এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন। ১৯৫৬ সালের অলিম্পিকে চতুর্থ স্থান পাওয়া মুখের কথা কিন্তু ছিল না।তখন প্রচুর অর্থ কিন্তু ছিল না।প্রচারের গনগনে আঁচ ছিল না।ছিল-জাতীয়তাবোধ।প্রতিভা আর সাফল্য এমন মিলেমিশে এগুচ্ছিল যে,১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলাটা নিশ্চিত ছিল।কিন্তু আর্থিক সচ্ছলতা, নানান প্রতিবন্ধকতা-সেদিন সে স্বপ্ন পুরন হতে দেয়নি।

আজ অর্থ আছে, প্রচারের ঢক্কা-নিনাদ তুঙ্গে,ইন্ডিয়ান সুপার লিগে কোটি-কোটি টাকার লেনদেন।আড়াই মাসের টুর্নামেন্ট পাঁচ মাসের হতে চলেছে।আই লিগের বয়স বাড়ছে, কিন্তু মান বাড়ছে না।‘স্পনসর’ নামক ‘ভিটামিন-প্রোটিন’ না মেলায় কলকাতা ফুটবলের রথী-মহারথীরা দুর্বল থেকে আরও দুর্বল হচ্ছে।তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে দেশের ও রাজ্যের ক্রীড়া দপ্তরের গয়ংগচ্ছ ভাব।প্রতি পদে পদে নোংরা রাজনীতি ও ক্ষমতার আস্ফালন।স্বজনপোষণ,একজোট হয়ে লড়ার মেজাজই নেই।শুধু সেই এক স্লোগানঃ ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম, চাচা আপন প্রান বাঁচা”।

ফুটবলাররা বিদেশে ‘প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েসন’ গড়ে নানান লড়াই করে।কিন্তু ভারতে ‘প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েসন’ গড়ে লড়াই হয়না,বড়াই চলে।বাইচুং ভুটিয়া এখন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি প্রফুল প্যাটেলের পরামর্শদাতা।সে অর্থ মাষ ঘুরলে পান,তার চেয়ে বেশি অফার পেয়ে ফিফার ‘বিদ্রোহী’ দলের ‘ফুটসল’ মঞ্চে পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রায়।ভবিষ্যতে কলকে জুটবে না বুঝে ‘মঞ্চ’ ছেড়ে পালান।ফুটবলের নক্ষত্র ‘ভুটিয়ার’ গায়ে রাজনীতির চাদর।বিভিন্ন সময়ে তিনি রাজনীতির কুশীলবদের গা ঘেঁষা-ঘেঁষি করে নিজের ব্যবসা বাড়িয়েছেন।আজও থেকে নেই।আই লিগ নাকি আইএসএল- এই ইস্যুতে বার বার ডিগবাজি খেয়েছেন।এখন আই লিগ হবে, আইএসএলও হবে।এএফসি আবার আইএসএল’কে স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছে।জে লিগ জাপানের লাভ হয়।সে দল বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।আর আমরা?ফিফা র‍্যাঙ্কিংযে ১০০’র গণ্ডিকে পিছনে ফেলে ৯৩ তে উঠতেই কি আত্মতুষ্টি!অথচ বিদেশের মাটিতে এক অতি সাধারন টিমকে হারিয়ে সফরের মাঝে প্রচারে মাতিঃ জাতীয় দলকে হারাল দেশের তরুণরা!সত্যটা প্রচারে এতো দ্বিধা!একটা বাইচুং,একটা বিজেন সিং-ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিদেশী ক্লাবে খেলতে গেলে ‘আমরা’ আমাদের ‘মেসি-রোনাল্ডো’ বন্দনায় বগল বাজাতে শুরু করি।কি হাস্যকর!

কেউ-কেউ বলছেন আইএসএল খেলে দলের প্রথম সারির ফুটবলাররা পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাবে(পাঁচ মাসের টুর্নামেন্ট বলেই)।এই ফুটবলাররা চাকরি ছেড়ে দেবেন?ক্রিকেটের মতন জাতীয় ফুটবলারদের গ্রেডেসান কেন চালু করা গেল না?চোট পেলে ফুটবলারদের ভবিষ্যৎ কি?- অনেক প্রশ্ন, কিন্তু উত্তর অজানা।

আই লিগ ফুটবলাররা স্থানীয় ক্লাব টুর্নামেন্ট খেলবেন।অর্থাৎ বড় সমর্থক পুষ্ট ক্লাব দলগুলোতে খেলার জন্য অনেক নতুন মুখ মিলবে।মন্দ নয়।কিন্তু এই ফুটবলাররা জাতীয় দলে খেলার জন্য নির্বাচিত হবেন কোণ নিরিখে?চাকরি এরা করবেন তো?বিশ্রাম তাহলে এদের দরকার নেই?-এখানেও প্রশ্ন অনেক,উত্তরও অজানা।

ফিফা নাকি গ্রাসরুট প্রোগ্রাম শুরু করেছে।একটি জেলায় ৩০০-৪০০ ছেলে-মেয়ে ফুটবল শিখছে।শুনলে অবাক হতে হয়,সেই জেলা সংস্থা একটি পয়সাও আর্থিক সাহায্য পায়নি কোথা থেকেও।আইএফএ’র সচিব উৎপল গাঙ্গুলি প্রজেক্ট উদ্বোধন করে এসেছিলেন।বলেছিলেন, ফেডারেশনের সঙ্গে কথা বলে আর্থিক সাহায্য এনে দেবেন।আজ বছর ঘুরতে চলেছে-একটিও পয়সা না রাজ্য সংস্থা,না সর্বভারতীয় সংস্থা দিয়েছে।কিন্তু প্রজেক্টটি চলছে।

এখন নানান রঙ-রুপ-রস দেখে নিশ্চিত বলতে পারি আমরা ফুতবলে আজও সাবালক হতে পারিনি,স্বাধীনও হতে পারিনি।তাই অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ভারত-তার গ্রুপ লিগের(যে পর্যায়ের ওপরে ওঠা এক ভয়ঙ্কর স্বপ্ন)সব ম্যাচ খেলতে নামছে দিল্লিতে।দিল্লি- ফুটবলের শহর!স্বয়ং ক্রীড়া মন্ত্রীও জানেন-তা নয়।আসলে রাজনীতির কুশীলবরাই এমনটা চান।তাই ফেডারেশন সভাপতি অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়েও আপোষ করেন। কলকাতাকে ব্রাজিলের ম্যাচ দেওয়া হয় না।কিন্তু ফাইনাল দেওয়া হয়।

১৯৫২ সাল শুধু ফুটবলের জন্য নয়,কুস্তির জন্যও স্মরণীয়।খাসবা যাদব-৮ বছর প্রথম ভারতীয় হয়ে পদক জেতেন।মাত্র দু’ মিনিট সময় নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করেন।নানান পুঁথি ঘাঁটলে জানা যায়,স্বাধীনতা সংগ্রামীরা আখড়ায় শরীর চর্চা যেমন করতেন,তেমনি কুস্তির মারপ্যাঁচও শিখতেন।তাই মেক্সিকো-কানাডা-জার্মানির কুস্তিগিরদের ধরাশায়ী করে যাদব কামাল দেখিয়েছিল।সেদিন এতো প্রচারের হ্যালোজেনে ভেসে যাওয়ার সুযোগই ছিল না।যাদবের গ্রামবাসীরা তাকে নিয়ে কেবল আনন্দে মেতেছিল।আজ আমাদের কুস্তি এখন বিশ্বের নানান অংশে ছড়িয়েছে। অলম্পিক-এশিয়ান গেমস- কমনওয়েলথ বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে কপাল জোরে খেতাব জেতেন।ক্রিকেট-ফুটবলের প্রচারে আজও ব্রাত্য কুস্তি।

১০৬০ সালে এক অ্যাথলিটের সাফল্যে হিন্দি সিনেমার বাজারে বায়োপিক তৈরি হয়- ভাগ, মিলখা ভাগ।সেবার ৪০০ মিটার দৌড়ে অলিম্পিক রেকর্ড ভাঙেন,কিন্তু মাত্র ০.১ সেকেন্ডের সময়ের ব্যবধানে ব্রোঞ্জ পদকটা হাতছাড়া করেছিলেন মিলখা সিং।১৯৫৮ এবং ১৯৬২ এশিয়ান গেমসে তিনি এই বিভাগেই সোনা জিতেছিলেন।তারপর ১৯৮৬ সাল।পি টি ঊষা এশিয়ান গেমসে ৪টি সোনা এবং ১টি রুপোর পদক জেতেন ট্রাক অ্যান্ড ফিল্ড ইভেন্টে।বিশ্বের সেরা অ্যাথলিট ট্রফিও জিতেছিলেন।অঞ্জু ববি জর্জ আরেক নারী।যিনি প্রথমবার বিশ্ব অ্যাথলিট চ্যাম্পিয়নশিপে লং জাম্পে(৬.৭০ মিটার)ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন।২০০৩ সালে প্যারিসে।২০০৫ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাও জেতেন।২০০১ সালে যিনি ৬১ নম্বর র‍্যাঙ্কিংযে ছিলেন, সেই ববি ২০০৩ সালে উঠে এসেছিলেন ৬ নম্বর স্থানে।কিন্তু অলিম্পিক পদক তিনিও নাগাল পাননি।৭০ বছরে এখনও একটি অলিম্পিক পদক এই অ্যাথলিটরা আনতে পারলেন না!এখানেও সেই একই গল্প,রাজনীতির কুশীলবরা জাতীয় সংস্থার কুর্সি আঁকড়ে থাকেন।স্বার্থান্বেষীদের ভিড়।আর্থিক গোলযোগের ঝাপটা।স্বাধীনতার মুক্ত উচ্ছ্বাস কোই?

মাঝে মাঝে বেশ কিছু ব্যক্তিগত নৈপুণ্য। ১৯৫৮ সালে মিহির সেনের প্রথম ভারতীয় হয়ে ইংলিশ চ্যানেল পারাপার।১৯৬৬ সালে তিনি ইতিহাস গড়েছিলেন-একটি বর্ষে পাঁচটি সুমুদ্রে সাঁতরে ফেলায়।১৯৬০ সালে টেনিসে রামানাথ কৃষ্ণান উইম্বলডনের সেমি-ফাইনালে পৌঁছেছিলেন। পরের বছর একই নজীর।এমন সাফল্যে বিশ্ব পর্যায়ে  ৬ নম্বরে পৌঁছে যান। ১৯৮০ সালে প্রকাশ পাড়ুকোন, ইন্দোনেশিয়ার লিয়েম সুই কিং কে হারিয়ে অল ইংল্যান্ড ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলেন। ১৯৮৮ সালে দৌড়বীর মিলখা সিংয়ের পুত্র জীব মিলখা সিং প্রথম ভারতীয় হয়ে ইউরোপিয়ান ট্যুরে গলফ খেলতে নামেন।আজ হয়তো দু’জন দু’জনকে পছন্দ করেন না, কিন্তু ১৯৯৯ সালে, লি- হেস জুটি ছিল ভারতীয় টেনিসে বিরু-জয় জুটি। জুটিতে উইম্বলডন, ফরাসি ওপেন জিতেছিল। ডেভিস কাপে তাদের লড়াই স্মরণীয় আজও।ভারতীয় প্রথম মহিলা ক্রীড়াবিদ হয়ে প্রথম অলিম্পিক পদকটি জিতেছিলেন কারনাম মালেশ্বরী।২০০০ সালে সিডনি অলিম্পিকে মহিলাদের ভারোত্তোলনে ৬৯ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন। সেই বছরই দাবার বোর্ডে ভারতীয় তাণ্ডব ঘটেছিল। বিশ্বনাথন আনন্দ ফিডে বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে খেতাব জিতে নেন। তিনিই ছিলেন প্রথম ভারতীয়। অথচ এই খেলা আমাদের দেশের পৌরাণিক যুগের এক খেলা। স্বাধীনতার ৫৩ বছর মিলল এমন কাউকে। এর পর?- উত্তর খুঁজছি আমরা। আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সভার তিনি মন্ত্রী।রাজনীতির লোক। কিন্তু ২০০৪ সালে এথেন্স অলম্পিক গেমসে রুপো জিতেছিলেন ১৭৯ পয়েন্ট স্কোর করে। তিনি কি উদ্যোগ নেবেন কেন্দ্রের ক্রীড়া বাজেট বাড়াতে? স্পোর্টস পলিসিতে রদবদল আনবেন? একই অবস্থা রাজ্যে। লক্ষ্মীরতন শুক্লা বহু লড়াইয়ে বাংলাকে জিতিয়েছেন। রাজ্যের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তিনি।কিন্তু তিনি কি ‘কলকে’ পাবেন রাজ্যের ক্রীড়ানীতি বা ক্রীড়াবাজেট তৈরির সময়? ‘দিল মাঙ্গে মোর’। কোথায় সেই মনের জোর!

এ কোন স্বাধীনতা,স্বয়ংশাসিত ভারিতিয় ক্রিকেট বোর্ডও আজ চলছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। নানান জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত ক্রিকেটও।সকলেই ৭০-এ পরাধীন।

দীপঙ্কর গুহ

দীপঙ্কর গুহ

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *