“টেনিস কোর্টের রানি”

ছেলে-মেয়ে-এবং-স্বামী-আন্দ্রে-আগাসির-সাথে-স্টেফি-গ্রাফটেনিস খেলা দেখেন না, বোঝেনও না,বিশ্বে এই ধরনের ক্রীড়ামোদীর সংখা অঢেল।কিন্তু স্টেফি গ্রাফের নাম জানেন না এমন ক্রীড়ামোদীর সংখা আতসকাঁচে দেখতে হবে।এমনটাই বিশ্বজোড়া খ্যাতি টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি স্টেফি গ্রাফের। মাত্র ১৩ বছর বয়সে পেসাদার জীবন শুরু করে ১৯ বছর বয়সেই গোল্ডেন স্লাম সহ অলিম্পিক স্বর্ণপদক জিতে বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছিল। টেনিসের ইতিহাসে পুরুষ-মহিলা মিলিয়ে এমন একক কৃতিত্ব কারোর নেই।

স্টেফানি মেরি গ্রাফের জন্ম ১৪ জুন ১৯৬৯ পশ্চিম জার্মানির ম্যানহেইম শহরে।বাড়ির লিভিং রুমে বাবার টেনিস র‌্যাকেট ঘোরাতে ঘোরাতে শুরু স্টেফির টেনিস প্রেম। পাঁচ বছর বয়সে প্রথম টুর্নামেন্ট খেলেন। ১৯৮৩ সালে শুরুর র‌্যাংকিং ছিল ১২৪।

স্টেফির প্রথম পেসাদার ম্যাচ ছিল ইউএস ওপেন জেতা ট্রেসি অস্টিনের বিরুদ্ধে। ট্রেসি তাকে হারান ৬-৪, ৬-০ ব্যবধানে। ম্যাচ শেষে ট্রেসি অবজ্ঞার সঙ্গে বলেছিলেন, ‘স্টেফির মতো খেলোয়াড় শ’য়ে শ’য়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ট্রেসির মূল্যায়নে কতোটা ভুল ছিল তার সাক্ষী টেনিসের ইতিহাস।কারন অস্টিন,জেগার, সাবাতিনি,সেলেস,ক্যাপ্রিয়াতি, হিঙ্গিস সহ সকলেই টেনিসের কোর্টে তাদের টেনিস প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন কিন্তু স্টেফি গ্রাফের উচ্চতায় কেউ পৌঁছতে পারেননি। শক্তিশালী ফোরহ্যান্ড,ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার গতির সার্ভ,  স্লাইস ব্যাক-হ্যান্ড শট এবং সর্বোপরি কোর্টে ক্ষিপ্রতার কাছে সকলেই নতিস্বিকার করেছে বার বার।

স্টেফি গ্রাফ প্রথম গ্রান্ড স্লাম টুর্নামেন্ট জেতেন ১৯৮৭ সালে, ফ্রেঞ্চ ওপেন। সেই বছরেই প্রথমবার ডব্লিউটিএর শীর্ষস্থান দখল করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছেন ৪ বার, উইম্বলডন ৬ বার, ফ্রেঞ্চ ওপেন ৭ বার এবং ইউএস ওপেন ৫ বার। তিনি অন্যদের থেকে কতটা এগিয়ে ছিলেন তা তার অর্জিত গ্রান্ড স্লাম দেখেই বোঝা যায়। অনেকেই আছেন নির্দিষ্ট একটি বা দুই ধরনের কোর্টে দারুণ পারদর্শী। কিন্তু স্টেফি ছিলেন সব ধরনের কোর্টেই সমান দক্ষ ও প্রতিপক্ষ হিসেবে ভয়ংকর। তিনি ক্যারিয়ারে রেকর্ড সংখ্যক ৩৭৭ সপ্তাহ এক নম্বর র‌্যাংকিংয়ে ছিলেন।

১৯৯৭ সাল থেকেই শুরু হয়েছিল শরীরে নানান ইনজুরি।সবচাইতে বেশী কাবু করে দিয়েছিল হাঁটুর সাংঘাতিক ইনজুরি। দু’বার অপারেশন করেও বিশেষ ফল পাওয়া যায়নি।দীর্ঘ সময় টেনিস কোর্টের বাইরে থাকার কারনে মার্টিনা হিঙ্গিসের কাছে শীর্ষস্থান হারিয়ে নেমে আসেন  ২৮তম স্থানে। পুরনো ফর্ম আবার ফেরত পান ১৯৯৯ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেনে। হিঙ্গিসকে হারিয়ে জীবনের শেষ স্লামটি জিতে নেন। দুই মাস পর মাত্র ৩০ বছর বয়সে র‌্যাকেট তুলে রেখে চিরদিনের জন্য টেনিসকে বিদায় জানান তিনি। পাঁচ বছরের মাথায় তাকে আন্তর্জাতিক টেনিসের ‘হল অব ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২০০১ সালের ২২ অক্টোবরে টেনিস তারকা আন্দ্রে আগাসিকে বিয়ে করেন। স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে আজ ভরা সংসার স্টেফির। বর্তমানে বসবাস করেন যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাস ভ্যালিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *