“চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের পরাজয়, সামনে এনে দিল দলীয় রাজনীতি”

Amir_Gettyখেলার টেবিলঃ  চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের ঠিক আগেই ক্যাপ্টেন কোহলি ভারতের ক্রিকেট উপদেষ্টা কমিটি ও বোর্ড কর্মকর্তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে কুম্বলের ব্যাপারে তার তীব্র আপত্তি আছে এবং তার সঙ্গে কাজ চালানো একেবারেই সম্ভব নয়। কুম্বলেকে নিয়ে কোহলিদের এতো আপত্তি কিসের?কুম্বলে কি যথাযথ ভাবে কোচ হিসাবে দলের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না? সেটাই বা কি করে মেনে নেওয়া যায়! আজ থেকে ঠিক একবছর আগে অনিল কুম্বলেকে যখন ভারতের প্রধান কোচ হিসাবে নির্বাচিত করা হয় তারপর থেকে কুম্বলের প্রশিক্ষণে ভারত চারটে হোম সিরিজ হাসতে হাসতে জিতেছে।চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে উঠেছে। তাহলে কি ধরে নেবো সমস্যাটা অন্য কোথাও?আসলে কুম্বলে কড়া ধাতের মানুষ।শৃঙ্খলা,পরিশ্রম ও লড়াইয়ের বাইরে কিছু ভাবেন না।নিজের খেলোয়াড়ি জীবনে এগুলিকেই সম্বল করে কুম্বলে হয়েছেন।পারফেক্ট টিমম্যান,তাই কোচ হয়ে রোজ টিম বাসে করে মাঠে যায় আর দিনের শেষে টিম বাসে করে হোটেলে ফেরে।এহেন লোকের সঙ্গে কোহলিদের মানিয়ে চলা মুশকিল।ভারতীয় ক্রিকেটাররা পর্দার আড়ালে থাকা কোচকেই বেশি পছন্দ করে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে আইসিসি ওডিআই র‍্যাংকিংয়ে পাকিস্তান বাংলাদেশেরও নীচে ছিলো।এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তান ভারতকে হারাল।নয় বছর ধরে পাকিস্তানে কোন আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রিকেট খেলা হচ্ছেনা।দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা ছিল না। এই ম্যাচের আগে ম্যাচ ফিক্সিং এর অভিযোগ উঠেছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।এতগুলো নেতিবাচক বিষয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ফেভারিট ভারতকে রীতিমত ধরাশায়ী করে চ্যাম্পিয়নের তকমা জিতে নিল।’টুর্নামেন্টে পাকিস্তান কখনই ফেভারিট ছিলনা-আন্ডারডগ ছিল।

টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠানোটা ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি সবচাইতে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। অনভিজ্ঞ পাকিস্তানী ব্যাটিং লাইনআপ হঠাৎ যেন কোন জাদুমন্ত্রে ঝলসে উঠলো।যে ফখর জামানের কোন আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি ছিল না।ফাইনালে তাঁর ব্যাট যেন চওড়া হয়ে গেল। ভারতীয় বোলারদের দুর্দান্ত দক্ষতায় সঙ্গে সামলে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটি তুলে নিলেন।ফাইনালে প্লেয়ার অব দি ম্যাচের পুরস্কার পেয়েছেন ফখর জামান। সাথে ওপেনার আজহার আলীর ৫৯ রান, মোহাম্মদ হাফিজের অপরাজিত ৫৭ রানের ইনিংসের উপর ভর করে ৩৩৮ রানের বিশাল স্কোর গড়ে পাকিস্তান।পাত্তাই পান নি ভারতীয় বোলাররা।

ভারতের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনআপের সামনে এই রান কখনই কঠিন বলে মনে হয়নি।কিন্তু তরুণ পাকিস্তানী বাঁহাতি পেসার মোহাম্মদ আমির ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল।ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে রীতিমত ধসিয়ে দিলেন।

প্রথমেই শূন্য রানে রোহিত শর্মাকে আউট করার পর ভারতীয় দলের ৬ রানের মাথায় বিরাট কোহলিকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে দিলেন মোহাম্মদ আমির ও শাহদাব। এরপর শেখর ধাওয়ানকেও ফিরিয়েছেন আমির।দলীয় ৩৩ রানের মাথায় আউট হওয়া শেখর ২২ বল খেলে ২১ রান করে। যুবরাজ সিং কিছুটা চেষ্টা চালিয়ে ৩১ বলে ২২ রান করে শাদাবের বলে এলবিডব্লিউ’র শিকার হন।এরপর সকলে এসেছেন আর গেছেন।

হার্দিক পান্ডিয়ার ৭৬ রান ছাড়া ভারতের কোনো ব্যাটসম্যানই বলার মতো রান পাননি যদিও কাগজে কলমে ভারত ছিলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেরা ব্যাটিং দল। ১৫৮ রানে ভারতের ইনিংস শেষ হয়ে যায়। অর্থাৎ ১৮০ রানে জিতে যায় পাকিস্তান।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপ পর্বে এই ভারতের কাছেই ১২৪ রান হেরে গিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু সেই হার থেকেই দলটির ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। গ্রুপ পর্বে তারা হারিয়ে দেয় শ্রীলংকা ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে। সেমিফাইনালে হারায় টুর্নামেন্টের ফেভারিট ইংল্যান্ডকে। আর ফাইনালে ভারতকে উড়িয়েই দিয়েছে।

টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত বোলিংয়ের পুরষ্কার হিসেবে গোল্ডেন বল পেয়েছেন পাকিস্তানের পেসার হাসান আলী। প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্টও তিনি।

অপেক্ষাকৃত তরুণ ও অনভিজ্ঞ দল নিয়েও এমন অসাধারণ ক্রিকেট খেলে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় পাকিস্তানের ক্রিকেটের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিঃসন্দেহে এই জয় দেশটির ক্রিকেট ভক্তদের মনে উৎসাহের জোয়ার আনবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *