“গোলাপি বলের গোপন কথা”

PTI11_19_2019_000225B-770x433অবশেষে ভারতের প্রথম গোলাপি বলে দিন রাতের টেস্ট ম্যাচ হয়ে গেল।এই বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে যার ভাবনা কাজ করেছে, তিনি আর কেউ নন,বিসিসিআইয়ের সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।আর এই চ্যালেঞ্জ নিতে মাত্র আধ মিনিট সময় নিয়েছিলেন ভারত  অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে গোলাপি বলে দিন রাতের টেস্ট ম্যাচ ঘণ্টা বাজিয়ে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধামন্ত্রী শেথ হাসিনা সঙ্গে ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাক্তন থেকে বর্তমান, মোটামুটি সব ক্রীড়া ক্ষেত্রের বিশিষ্ট জনের উপস্থিতিতে চাঁদের হাট বসেছিল, ক্রিকেটর মক্কা ইডেন উদ্যানে।

এবার একটু গোলাপি বলের ইতিকথা নিয়ে আলোচনা করা যাক।  ২০০৯ সালে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মহিলা ক্রিকেট দলের মধ্যে প্রথম গোলাপি বলের ম্যাচ খেলা হয়েছিল। ২০১০-১১ সালে পাকিস্তানে কয়েদ-এ আজম ট্রফির ফাইনাল খেলা হয়েছিল গোলাপি বলে। ২০১৪ সালে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া খেলেছিল গোলাপি কোকাবুরা বলে।

২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রথম দিন-রাতের আন্তর্জাতিক টেস্ট খেলা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে।মাত্র তিন দিনেই শেষ হয়ে যায়।

তার পর থেকে মোট ১০টি দিন রাতের ক্রিকেট টেস্ট খেলা হয়েছে। গোলাপি বলে এখনও পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া সফলতম দল। পাঁচটি ম্যাচ খেলে পাঁচটিতেই জিতেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। তিনটির মধ্যে ২টি ম্যাচ জিতেছে। ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউজিল্যান্ড তিন দলই একটি করে গোলাপি বলের টেস্ট জিতেছে।

২০১৬ সালে ভারতে দলীপ ট্রফির একটি ম্যাচ গোলাপি বলে খেলা হয়েছিল। সিএবি-ও স্থানীয় সুপার লিগের এক ফাইনাল ম্যাচ গোলাপি বলে খেলার আয়োজন করেছিল।

এখনও পর্যন্ত যে ১১টি দিন-রাতের টেস্ট গোলাপি বলে খেলা হয়েছে, তাতে ২৫৭টি উইকেট নিয়েছেন ফাস্ট বোলাররা। স্পিনারদের দখলে মাত্র ৯৫টি উইকেট।

গোলাপি বলের ক্রিকেট ম্যাচে মূল বিষয় হচ্ছে বল দেখতে পাওয়া। তাই গ্রাউন্ডস্টাফদের নিশ্চিত করতে হয় যাতে বল ধূসর বা ময়লা না হয়ে যায়। শুধু পিচ এর ওপর ঘাস রাখলেই হবে না,আউটফিল্ডেও পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘাস রাখতে হয়। মাঠে জল দেওয়া ম্যাচের কয়েকদিন আগে থেকে বন্ধ করে দিতে হয়। সন্ধ্যার দিকে বেশি শিশির পড়লে বলের গ্রিপ ধরে রাখা একটা বড় সমস্যার ব্যাপার।বিশেষ করে স্পিনারদের ক্ষেত্রে।

যেখানে নতুন লাল বলের পালিশ থাকে প্রায় ৬০-৭০ মিনিট।সেখানে গোলাপি বলের পালিশ থাকে প্রায় একটা সেশন জুড়ে। এই কারনে গোলাপি বল স্পিনারদের থেকে জোরে বোলারদের বেশি সাহায্য করে। লাল বলের সেলাই সাদা রঙের। গোলাপি বলের সিম কালো। শিশিরের কথা মাথায় রেখেই গোলাপি বলের সিম বেশি স্পষ্ট রাখা হয়। সবচেয়ে বড় কথা, বল বেশি চকচকে করার জন্য লাক্ষার অতিরিক্ত আস্তরণ দেওয়া হয়।

এসজি গোলাপি বলের দাম ২৭০০ টাকা যা কোকাবুরা বলের তুলনায় অনেক সস্তা। কোকাবুরা গোলাপি বলের দাম ৮০০০ টাকা।লাল এসজি বলের দাম হয় ১৩০০ টাকাক মতন। ওয়ান-ডে ম্যাচে ভারত যে সাদা কোকাবুরা বলে খেলে তার দাম ১২ হাজার টাকার মত।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *