“কি করলে ব্যায়ামে সুফল মেলে”

woman-running-680x450ফিটনেস টেবিলঃ  সারাদিনের কর্মব্যস্ততার কারনে ব্যায়াম করার সময়টুকু ওঠে না।যদি হাজারো ব্যস্ততার মধ্যে একটি ব্যায়ামের রুটিন করা যায় তাহলে সহজেই প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ব্যায়ামটুকু করতে পারা যায়।প্রতিদিনের কাজের রুটিন দেখে ব্যায়ামের সময় ঠিক করুন।সারাদিনে যে সময়ই ব্যায়াম করতে পারেন শুধু সময় পরিবর্তনের কারনে ব্যায়ামের ধরনে কিছু পরিবর্তন আসবে। জেনে নিন ব্যায়ামের সঠিক সময়-

ভোরবেলা:
১) যেহেতু ব্যায়াম করার সময় শরীরে যথেষ্ট পজিটিভ এনার্জি রাখতে এবং মনঃসংযোগ করতে হয়, সে কারনে ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠেই ব্যায়াম শুরু করবেন না।

২) ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরটাকে একটিভ হওয়ার জন্য অন্তত তিন ঘন্টা সময় দিন। শরীরের এনার্জি লেভেল স্বাভাবিক অবস্থায় পৌছালে তবেই ব্যায়াম করা শুরু করবেন।

৩) সময়ের অভাবে যদি ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠার আধ ঘন্টা পরই শরীরচর্চা করতে হয় তাহলে হালকা জগিং করতে পারেন। হালকা ফ্রিহ্যান্ড এক্সারসাইজ ও হাঁটাচলা করতে পারেন।

৪) ভোরবেলা ব্যায়াম করার পরিকল্পনা থাকলে আগের দিনের সব কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করে সঠিক সময়ে ঘুমাতে যান। ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমানোর পর নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করে ব্যায়াম করা শুরু করতে পারেন। যদি কোন দিন ঘুমাতে যেতে দেরি হয়ে যায় তবে ঘুম থেকে উঠেই আগের নিয়মের নির্দিষ্ট সময়ে ব্যায়াম শুরু করবেন না। এতে আপনার শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।

দিনের বেলা:
১) দিনের বেলা ঘুম থেকে উঠার ৬ ঘন্টা পর থেকে ১২ ঘন্টার মধ্যে ব্যায়াম করার উপযুক্ত সময়। এ সময়ের মধ্যে যে কোন সময়কে বেছে নিতে পারেন আপনার প্রয়োজনীয় ব্যায়াম করার জন্য।

২) দুপুরের খাবার গ্রহনের পর কমপক্ষে দুই ঘন্টা পরে ব্যায়াম শুরু করতে পারেন। আগে কখনোই ব্যায়াম করবেন না।

৩) প্রতিদিন যদি দুই ঘন্টা ব্যায়াম করার ইচ্ছা থাকে তাহলে সময়টুকু দিনেরবেলা ফেলবেন। ভারী কোন ব্যায়াম করার ফলে শরীরের অনেক অঙ্গ প্রতঙ্গ প্রসারিত হয়ে থাকে। এদের রিলাক্স করার জন্য বেশ সময়ের প্রয়োজন।

সন্ধ্যাবেলা:
১) কাজ থেকে বাড়ি ফিরে একটু রেস্ট নিয়ে ব্যায়াম শুরু করুন।শরীর ক্লান্ত থাকলে ব্যায়াম করবেন না।

২) সন্ধ্যাবেলা যোগব্যায়াম খুবই উপযোগী।এছাড়াও ট্রেডমিল, সাইকিং করতে পারেন।মেডিটেশন করতে পারেন। ১৫ মিনিট মেডিটেশন করলে আপনার মন ও শরীর দুটোই শান্ত হয়ে যাবে।

জেনে রাখুন:
১) ব্যায়ামের সঠিক সময়ের সঙ্গে খাওয়ার সময়ের ভারসাম্য না থাকলে ব্যায়ামের সুফল পাবেন না।

২) যদি কর্মব্যস্ততার কারনে ব্যায়াম করার সময় না পান তাহলে যতটুকু সময় পাবেন ব্যায়াম করে নিন।ব্যায়াম একদমই না করার চেয়ে কিছু সময় করাটা অনেক ভালো। ব্যায়াম করার অভ্যাস বজায় রাখুন।

৩) ব্যায়াম করার পর শরীরের তাপমাত্রা, রক্ত চলাচল বেড়ে যাওয়ার কারনে শরীর অধিক কর্মক্ষম থাকে এবং শান্তভাব কেটে যায়। তাই ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগেই ব্যায়াম করা উচিত নয়। ঘুমাতে যাওয়ার কমপক্ষে ৩ ঘন্টা আগে ব্যায়াম করে নিন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *