কিডনির কমন অসুখ “গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস”

downloadনাইট্রোজেন ঘটিত বজ্য পদার্থ নিষ্কাসন করে আমাদের দেহকে দূষণমুক্ত,দেহে জল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখা,অল্প ক্ষার সমতা রক্ষা করা,রক্তের উপাদান ও আয়তন ঠিক রাখা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ সব কাজের জন্য নিরলস খেটে চলেছে আমাদের দেহের মাত্র ১৬০ গ্রাম ওজনের ১০-১৫ সেন্টিমিটার লম্বা সিমবিজের মতো দুটি কিডনি।সাধারনভাবে আমাদের দেহের অকৃত্রিম বন্ধু কিডনি তার কাজে একদম ফাঁকি দেয় না।কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম-অত্যাচার,উচ্চরক্তচাপ,ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যা,এজ রিলেটেড ডিজেনারেসন,অপুষ্টি,বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এই ছোট্ট যন্ত্রটিকে বেঁকে বসাতে বাধ্য করে।

গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিসের কারনঃ কিডনির সবচেয়ে কমন অসুখ গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস।দেখা গেছে স্ট্রেপ্টোকক্কাল ইনফেকশন,ইনফ্লুয়েঞ্জা,টন্সিলাইটিস,সাইনুসাইটিস,নিউমোনিয়া,ফ্যারেনজাইটিস,স্কারলেট ফিডার,দাঁত ও মাড়ির সংক্রমন এমনকি গলব্লাডার বা প্রস্টেট গ্রন্থির সেকেন্ডারি ইনফেকসান থেকেও কিডনির ছাঁকনি অংশ বা গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস হতে পারে।

গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিসের ধরনঃ  গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস দু ধরনের হয়।অ্যাকিউট ও ক্রনিক।অ্যাকিউট গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিসের উপসর্গ হল হটাত করে দেখা দিয়ে কয়েক দিনের জন্য ভোগায় আবার চলেও যায় কিন্তু দেখা দেওয়ার সময় অবহেলা করলে অথবা বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখলে সেটা ক্রনিক গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার কারন হয়ে দাঁড়ায়।

গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিসের উপসরগঃ হিমাচুরিয়া(প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত),প্রটিনিউরিয়া(প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন),ইডিমা(দেহে জল জমা),রক্তে ইউরিয়া,ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি নাইট্রোজেন ঘটিত বজ্য পদার্থের পরিমান বেড়ে যাওয়া,অলিগিউরিয়া(প্রস্রাব বেরোনোর পরিমান কমে যাওয়া),ক্লান্তি অ্যানিউরিয়া(প্রস্রাব বেরনো একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া),সঙ্গে অল্প জ্বর,হাই ব্লাড প্রেশার, দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাসের হার ইত্যাদি যেকোনো এক বা একাধিক সমস্যা দেখা দিলেই চিকিৎসক ও ডায়েটিসিয়ানের সঙ্গে পরামর্ষ করে ওষুধ ও ডায়েট নেওয়া কর্তব্য।অবহেলা করলে অ্যাকিউট গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস ক্রমে ক্রনিক আকার ধারন করবে যেটা পরবর্তীকালে রেনাল ফেলিওরের কারন হতে পারে।

 

 

 

            

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *