-এ কেমন রঙ্গ যাদু- লিখেছেন, বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক দীপঙ্কর গুহ

081আই এফ এ’র অনুমোদিত সংস্থা , তাঁর প্রতিনিধিও টিকিটের চাহিদাপত্র বুক পকেটে গুঁজে দাঁড়িয়ে | প্রাক্তন জাতীয় ফুটবলার শ্যাম থাপা, সুভাষ ভৌমিক, প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় , তরুন দে, প্রদীপ দত্ত, হেমন্ত ডোরা, বাসুদেব মন্ডল…এমন অনেকের ভিড়| টিকিট নেওয়ার জন্য ভিজিটার স্লিপ লিখে আর্দালির হাতে দিতে হচ্ছে| সময়ের সঙ্গে ধৈর্যের লড়াই| ডাকে নিজের নাম শোনার জন্য সদা সচেতন সকলে|
জর্জ টেলিগ্রাফের অফিসের ছবি| ভবানীপুর থানার উল্টো প্রান্তে| ফেডারেশনের সহ- সভাপতি সুব্রত দত্ত দফতরে বসে টিকিট দিচ্ছেন|
আর আই এফ এ অফিস? অনুমোদিত সংস্থার ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার অর্থের বিনিময়ে গোনা গুনতি টিকিট বিলি পর্ব|
সাত দিনে ছিল দশটা ম্যাচ ছিল| গুয়াহাটির সেমি ফাইনাল পেয়ে কলকাতায় হয়ে গেল ১১|
কিন্তু ফিফার ” মেজো খোকাদের” ( অনূর্ধ্ব ১৭) টুর্নামেন্টে ভারতীয় ফুটবল যেন আরমোড়া ভেঙে উঠতেই পারছে না|
সত্যি মিথ্যা জানা দুস্কর, কিন্তু কানে শুনে বুঝলাম, নক্ আউট ম্যাচের আগে অন্য ম্যাচের জন্য আই এফ এ”র অনুমোদিত সংস্থার জন্য বরাদ্দ ছিল ৭০-৮০ টা করে টিকিট| প্রায় ৬৮ হাজার দর্শক আসনের বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে নক্ আউটে তা হয়ে যায় ২০!!! তা হলে বাকি???
আই এফ এ যে কোনোদিনই সি এ বি হবে না , তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে ” দাদা” দের , ” ভাই”দের এই আসরে বোঝা হয়ে গেল|
বিশ্বকাপ ক্রিকেটেও হয়েছে | একাধিকবার| বিশ্বনাথ দত্ত- জগমোহন ডালমিয়া জমানায়| কেবল ডালমিয়া জমানায়| কিন্তু কোনো জাতীয় দলে খেলা ক্রিকেটারদের এভাবে টিকিটের জন্য সময় গুনতে হয় নি, আজও হয়না| সি এ বি’র পরিকাঠামো কাজ সহজ করে দেয়| একটি সি এ বি’র লোগো লাগানো খাম, তাতে ক্রিকেটারের নাম লেখা| সি এ বি’র স্টাফদের অ্যলটমেন্ট লেটার দেখিয়ে হেসে চলে যাওয়া…সবটাই সম্মানের|

083সৌরভ আবার ডালমিয়ার চেয়ার পাশে রেখে নতুন ব্যবস্থা নিয়ে এসেছেন|
ক্লাব কোটার টিকিট ছাড়াও আর্ন্তজাতিক ম্যাচ বা আই এস এলে প্রতি ম্যাচের জন্য বাড়তি টিকিটের খাম আলাদা করে দিয়েছেন ক্লাব প্রতিনিধিদের | সৌরভের জয় জয়কার, সি এ বি’র নয়|
আর আই এফ এ তে? ” বোম বোম বাপী’দা| ময়দানের বাপীদা মানেই বিশ্বনাথ দত্ত’র ছেলে সুব্রত দত্ত| এই প্রতিবেদকের মতন বহু সাংবাদিককে উনি টিকিট দেন| এই প্রতিবেদককেও কোনওদিন হতাশ করেননি| কিন্তু ভবানীপুরে দত্তবাড়ির বাড়ি কাম অফিসের এমন চেহারা কস্মিনকালে দেখিনি|
” বোম বোম “বাপী’দা হবে…
টিকিটের দাম কিন্তু ক্রিকেটের টিকিটের তুলনায় খুবই নগন্য| ৬০০, ৩০০,১৫০, ৬০ টাকার| ক্লাব এসব টিকিট পেয়েছে| অনলাইনে এসব মিলেছে| কিন্তু ভবানীপুরের দরবারে কমপ্লিমেন্ট্রি মিলেছে, ভি আই পি মিলেছে…সবই লোক আর গুরুত্ব বুঝে|
বেচারা ফুটবলাররা| নার্সারি থেকে সারি সরি বড় দাদা ফুটবলাররা…যাদের মাঠে বসে এসব খেলা দেখলে লাভ হত, তারা হতাশ| কতিপয় এক প্রমোটার এক প্রাক্তন জাতীয় ফুটবলারের সামনে টিকিটের গোছ নিয়ে ঘুরছিল| কিভাবে এমন সব টিকিট তাঁর কাছে…জানতে চেয়ে থ !! জবাব মিলেছিল: ” **দা দিয়েছেন|” কোন সে দাদা? ময়দানের কোনো দাদা নয়, রাজনৈতিক দাদা ওঁরা….
কলকাতায় আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট ম্যাচ হলে টিম সি এ বি কাজ করে| ডালমিয়া জমানায় যুগ্ম সচিব’রাও পছন্দমতন টিকিট বিলোতে পারতেন| সৌরভ জমানায়, এক যুগ্ম সচিবকে মূল্যের টিকিট কিনে প্রিয়জনকে দিতে হয়| ভগ্যিস তিনি গোঁসা করে নিজের গন্ডিতে এখনও বলেননি..” নাহ্, এভাবে আর নয়”| কিন্তু আই এফ এ তে “রাগ-অভিমান” পালা শুরু হয়ে গেছে| সচিব উৎপল গঙ্গোপাধ্যায় নিজের মহলে বলে চলেছেন, এমন পদে বসে লাভ কী!! হাত-পা বাঁধা| লিগ চালাতে, শিল্ড চালাতে টাকা ঢালছে তাঁর সংস্থা – অথচ তিনি নাকি খেলনা| ভাবনা শুরু করেছেন, আই এফ এ ছাড়ার| ময়দান জানে আই এফ এ’র স-স ( সভাপতি-সচিব) সংঘর্ষের কথা| বিশ্ববাংলার বিশ্বকাপ শেষেই কেউ কেউ বিরাগভাজন হবেন| আর ঘোলা জলে মাছ ধরতে নামবেন অনেকেই|
রাজ্যের ক্রীড়া পূর্ণমন্ত্রী কতোবার তাঁর প্রতি মন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন? ঘনিষ্ঠ মহল জানে , ক্রীড়ামন্ত্রী নম্বর টু মোটেই ওয়ানের প্রীতিমহলে বিরাজ করেন না| তাই টু’য়ের ছায়াসঙ্গীদের দৌড়তে হচ্ছে ভবানীপুরে| বিশ্ববাংলার বিশ্বকাপ বলে কথা |
” বিশ্ববাংলা”র স্লোগান যাদের হাতে, তাঁদেরই পোয়া বারো| বাংলার আইকন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় তো তাঁর গাড়ি দিয়ে ড্রাইভারকেও পাঠালেন ভবানীপুরে!!! আর সেই দরবারের দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে এক প্রাক্তন জাতীয় ফুটবলার হতাশ হয়ে বললেন, ” ৯০ টা মাত্র নাকি ফিফা পাস দিয়েছে প্রাক্তন ইন্টারন্যাশানাল ফুটবলারদের জন্য| আমাদের এখানে ২০০ র বেশি এমন ফুটবলার| বলা হচ্ছে, লটারি হবে| তাই বাপী দা ই ভরসা| ” সত্যি, _ _ _ _ ; বড় বিচিত্র এই দেশ!!!

দীপঙ্কর গুহ

দীপঙ্কর গুহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *