আমাদের দেশীয় খেলাগুলো অস্তিত্ব হারাচ্ছে!!!!

gollachutসভ্যতার ক্রমবিকাশ আর আধুনিকার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলো। গ্রামীণ খেলা আমাদের আদি ক্রীড়া সংস্কৃতি। এসব খেলাধুলো এক সময় আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করত।এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে ভারতের কিছু রাজ্যে যেমন পাঞ্জাবে,হরিয়ানায় উত্তর প্রদেশের কিছু জেলায় বাৎসরিক ভাবে গ্রামীণ ক্রীড়ার আয়োজন করে বিভিন্ন সংগঠন। কখনও সরকারি উদ্যোগে কখনও গ্রামীণ সংগঠন সরকারি ও বেসরকারি পিষ্টপোষকতায়। ভারতের একটি রাজ্যে গ্রামীণ ক্রীড়ার মিনি অলিম্পিক আসর বসে এবং এই খেলার আসর দেখতে বিপুল জন সমাগম হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের রাজ্যে সেরকম কোনও উদ্যোগ না থাকায় শৈশবে যেসব খেলাগুলি খেলেছিলেন আজকের বৃদ্ধরা সেসব খেলাগুলি না দেখতে পেয়ে তারাও এখন বহু খেলার নাম ভুলে গেছেন। এক সময় গ্রামের শিশু ও যুবকরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলোয় অভ্যস্ত ছিল। তারা অবসরে গ্রামের খোলা মাঠে দলবেঁধে খেলতো এসব খেলা। আর খেলাধুলোর মাধ্যমে শৈশবে দুরন্তপনায় জড়িয়ে থাকতো ছেলেমেয়েরা। কিন্তু মাঠ-বিল-ঝিল হারিয়ে যাওয়া, আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া ও কালের বিবর্তনে মহাকালের ইতিহাস থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে এসব খেলাধুলো।

download (2)

বর্তমানে গ্রামীণ খেলা বিলুপ্ত হতে হতে আজ তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াই কঠিন। খোদ অজপাড়াগাঁয়েও সবচেয়ে বেশি প্রচলিত কাবাডি, দাঁড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, বৌচি, কানামাছি প্রভৃতি গ্রামীণ খেলার প্রচলন নেই। গ্রামবাংলার খেলাধুলার মধ্যে যেসব খেলা হারিয়ে গেছে তাদের মধ্যে হা-ডু-ডু, কাবাডি, দাঁড়িয়াবান্ধা, মন্দুরুজ, গাদন, খো-খো, ডাংগুলি, গোল্লাছুট, গোশত তোলা, চিক্কা, এ্যাঙ্গো এ্যাঙ্গো, কুতকুত, ল্যাংচা, কিং কিং খেলা, বোমবাস্টিং, হাড়িভাঙা, বুদ্ধিমন্তর, চাঁ খেলা, বৌচি, কাঠিছোঁয়া, দড়ি লাফানো, বরফ পানি, দড়ি টানাটানি, চেয়ার সিটিং, রুমাল চুরি, চোখবুঝাবুঝি, কানামাছি, ওপেন্টি বাইস্কোপ, নৌকাবাইচ, ঘোড়াদৌড়, এলাটিং বেলাটিং, আগডুম বাগডুম, ইচিং বিচিং, ইকড়ি মিকড়ি, ঝুম ঝুমা ঝুম, নোনতা বলরে, কপাল টোকা, বউরানী, ছক্কা, ব্যাঙ্গের মাথা, লাঠিখেলা, বলীখেলা, আইচ্চা ভাঙ্গা, এক্কাদোক্কা, কুৎ কুৎ, মইলা, রাম সাম যদু মদু, চোর ডাকাত, মার্বেল, সাতচাড়া, থিলো এম্প্রেস, ষোলগুড্ডা, ষাঁড়ের লড়াই, মোরগ লড়াই, চিলমোরগ, বুঝাবুঝি, বদন, লাপা লাপি, লগো লগো, ডালিম খেলা অন্যতম। ঐতিহ্যবাহী হারিয়ে যাওয়া এসব খেলাধুলা এখন আর তেমন কোথাও চোখে পড়ে না।

download (1)

নতুন প্রজন্মের কাছে এগুলো এখন শুধুই গল্প। আবার নাম শুনে অনেকেই হাসে। গ্রামের এসব খেলাগুলোর মধ্যে হা-ডু-ডু, দাঁড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, বৌচি, ডাংগুলি ছিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এসব খেলা চলাকালে শতশত মানুষের ঢল নামতো খেলা প্রাঙ্গণে। কিন্তু এখন গ্রামের খোলা মাঠ কমে যাওয়ায় এসব খেলা শুধুই স্মৃতি। এক সময় এ দেশের ছেলেমেয়েরা গ্রামীণ খেলাকে প্রধান খেলা হিসেবে খেলতো। আমাদের আদি ক্রীড়া সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে অবশ্যই গ্রামীণ ক্রীড়া ফেডারেশন 55_boat+race_nouka+baich_26032015_0014গঠন করা অতি জরুরি। যাতে করে আগামী প্রজন্ম আমাদের গ্রামীণ খেলাকে জানতে পারে। ভুলে না যায় আমাদের নিজস্ব ক্রীড়া ঐতিহ্য। ওপরের উল্লেখ করা খেলাগুলির মধ্যে কিছু কিছু খেলা আছে যা কেবল মেয়েরাই খেলে। কিছু কিছু খেলা আছে যা কেবল মেয়েরাই খেলে। এখনকার মেয়েরা ফুটবল বা ক্রিকেট অল্প হলেও অংশগ্রহণ করে কিন্তু সেযুগে করত না সে কারণেই হয়তো তাদের খেলাগুলো এখনও অল্পবিস্তর টিকে আছে।

Scene-from-another-local-game-called-Dariabandha_71839390010182_zps602428db

আমাদের রাজ্যে মেয়েদের মাঝে সবচেয়ে প্রিয় দুটো খেলা হলো টোপাভাতি খেলা ও পুতুল খেলা। এছাড়াও আছে এক্কা দোক্কা, কড়ি খেলা, ঘুটি খেলা, এলাটিং বেলাটিং, ওপেনটি বায়োস্কোপ ইত্যাদি।

পরিশেষে বলি আমাদের উচিৎ জনমত তৈরি করে মজবুত সংগঠনের মাধ্যমে সরকারকে জানান যে অন্য রাজ্য নিজ ক্রীড়া সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার জন্য সব রকম প্রচেষ্টা করতে পারে তাহলে আমরা পারব না কেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *