মহারাজ, তোমায় প্রনাম।

images (1)খেলাধুলার টেবিলঃ  বিশ্ব ক্রিকেটে যতজন লড়াকু ক্রিকেটার এসেছেন তাদের মধ্যে প্রথম সারির ক্রিকেটারের নাম- সৌরভ গাঙ্গুলি।বাড়ির ডাকনাম মহারাজ কিন্তু সারা ভারতে তিনি  ‘দাদা’ নামেই বেশি পরিচিত। বাঁ হাতের ব্যাট যখন চলত, বিপক্ষের খেলোয়াড়রা বলত, ওপরে ভগবান আর ক্রিজের বাঁ দিকে সৌরভ।প্রতিপক্ষ বোলারদের নাকানি-চুবানি খাইয়ে যখন বলটাকে সোজা গ্যালারিতে ঠিকানা করে দিত- বাপি বাড়ি যা, বিখ্যাত হয়ে যায় কথাটা।যার ব্যাটের ঝলকানিতে বহুবার হেসেছে টিম ভারত। বিশ্বনন্দিত এই ক্রিকেট যোদ্ধার আজ জন্মদিন। শুভ জন্মদিন দাদা।

১৯৯২ সালের ১১ জানুয়ারি সৌরভ প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন। কিন্তু সেই অভিষেক ম্যাচে তিনি মাত্র ৩ রান করেন। এরপর ১৯৯৩-১৯৯৪ এবং ১৯৯৪-১৯৯৫ সালের রঞ্জি ট্রফিতে চমৎকার সাফল্য লাভ করার পর তিনি আবার ১৯৯৬-এর ইংল্যান্ড সফরের জন্য খেলার সুযোগ পান। সেই সফরেই ২০ জুন তিনি তার জীবনের প্রথম টেস্ট খেলেন।

সৌরভ গাঙ্গুলি তার ক্রিকেট জীবনে ৩১১টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ১১,৩৬৩ রান সংগ্রহ করেছেন। উইকেট নিয়েছেন ১০০টি। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০টি ক্যাচ তালুবন্দি করেছেন। সৌরভ মোট ৩১টি আন্তর্জাতিক একদিনের ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে তার অধিনায়কত্বেই ভারত ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করে। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটার ১১৩টি টেস্ট খেলে ৭,২১২ রান সংগ্রহ করেছেন। উইকেট নিয়েছেন ৩২টি। তিনি টেস্টে ৭১টি ক্যাচ নিয়েছেন।

সৌরভ গাঙ্গুলি শুধু একজন ভালো খেলেয়াড়ই ছিলেন না, ভারতের অন্যতম সফল অধিনায়কও ছিলেন। তিনি ৪৯টি টেস্ট ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ২১টি ম্যাচে ভারতকে জয় এনে দেন। আর ১৪৬টি একদিনের আন্তজার্তিক ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ভারত জয় পায় ৭৬ টি ম্যাচে। একইসঙ্গে তিনি শুধু একজন আগ্রাসী মনোভাবাপন্ন অধিনায়কই ছিলেন না, সব সময় তরুণ ক্রিকেটারদের উদ্বুদ্ধ করতেন।

২০০৮ সালের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলার পর তিনি ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০-এ আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলেন এবং ২০০৮ ও ২০১০-এ এই দলকে নেতৃত্ব দেন। ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত আইপিএলের চতুর্থ সিজনে নিলামে তিনি অবিক্রীত থেকে গেলেও শেষ পর্যন্ত পুনে ওয়ারিয়র্সের দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *