রেল বাজেট – আশা ও ভরসার দোলাচলে

430837-railway-budget-ptiলোকসভায় মাননীয় রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু তাঁর দ্বিতীয় রেল বাজেট পেশ করলেন।এই রেল বাজেট অনেক নতুন আশা ও ভরসার সৃষ্টি করে সমগ্র ভারতবাসীকে একটা দোলাচলে রেখে দিলেন।১২৫ কোটির ভারতবর্ষে,একটা সাধারণ বাজেট ও একটা রেল বাজেট আলাদা করে সংসদে পেশ করা হয়।বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম রাষ্ট্রে যত সংখ্যক রেল চলে ও তাঁর ব্যাপ্তি এবং কর্মচারীদের পরিধি, তাতে সরকারকে একটা আলাদা রেল বাজেট পেশ করতে বাধ্য থাকতে হয়।আমরা সত্তর দশকের দ্বিতীয় অর্ধ থেকে দেখে আসছি রেল মন্ত্রক রাজনীতির হাতিয়ার হয়েছে, যারাই রেল মন্ত্রী হন তাঁরা নিজেদের রাজ্যের জন্য রেল বাজেটের সিংহভাগ বরাদ্ধ করে থাকেন বাকি ভাগটা অন্য রাজ্যের কপালে জোটে। এতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কিন্তু এটাই রীতি হয়ে এসেছে এতকাল সেটা জোট রাজনীতির বাধ্যবাধকতা হোক বা আঞ্চলিক দলগুলোর প্রাধান্যতা।এবারে দেখলাম বর্তমান রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু সেই পথে না হেঁটে নিজের রাজ্য মহারাষ্ট্র বা হরিয়ানা যে রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করেন রাজ্যসভায় সেই দুই রাজ্য তো নয়ই বরং সারা ভারতবর্ষে সেভাবে কোন রাজ্য কে মুক্ত হস্তে নতুন ট্রেন বরাদ্দ করেন নি।কারন ভারতে রেলের সংখ্যা বছর বছর বেড়েছে কিন্তু লাইনের সংখ্যা বাড়েনি, রক্ষনা বেক্ষনের উদাসিনতার ফলে দুর্বল রেল লাইন গুলো দুর্বলতর হয়েছে।রেল সুরক্ষা ও যাত্রী সাছন্দের কথা না ভেবে সস্তা জনপ্রিয়তার রাজনীতি রেলকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছে আর বঞ্চিত থেকেছে আপামর ভারতবাসী।রেল বাজেটের এই অবধি মোটামুটি বোঝা গেল কিন্তু রেলমন্ত্রী বাজেটে ১ লক্ষ ৪৩ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন তা কি করে পূরণ হবে তাঁর কোন দিক চিহ্ন পেলাম না।উনি বলছেন রেল লাইনের ধারে পড়ে থাকা খালি জমি বাণিজ্যিক ভাবে ব্যাবহার করবেন।এরকম আগের মন্ত্রীরাও বলেছিলেন কিন্তু কেউ করেন নি, ট্রেনএ এবার থেকে “BIO TOILET” লাগানো হবে তাতে পরিবেশ দূষণ মুক্ত থাকবে,খুব্ ভাল কথা।রেল ষ্টেশন গুলো “WI-FI” করা হবে কিন্তু গ্রামগুলোতে শেডহীন,বসার জায়গা বিহীন,পানীয় জল বর্জিত ষ্টেশন গুলো রয়েছে তাঁর “HI-FI” কবে হবে।তিনি রেল এর যাত্রী ভাড়া বাড়ালেন না ও পণ্য মাশুল বিদ্ধি করলেন না এতে হয়ত জনগনের সাধুবাদ কুড়বেন কিন্তু সেটা সাময়িক নয়তো? কারন সামনে পাঁচ রাজ্যর নির্বাচন এবং আমরা এই সরকারকে অতীতে দেখেছি সংসদের ভেতরে যা বলা হয়,অধিবেশন শেষ হওয়ার পর অর্ডিনান্স জারির মাধ্যমে সব কিছুই বদলে যায়।বর্তমান আর্থ সামাজিক পরিস্থিতিতে মনে হয় না কেউ রেল ভাড়া বাড়ালে আপত্তি করবে যদি যাত্রী সাছন্দ ও সুরক্ষ্যার দিকটা নজর দেওয়া হয়।এটা মনে হয় না রেল মন্ত্রির অজানা,তা সত্তেও ভাড়া বাড়ালেন না এটাকে সস্তা রাজনীতি ছাড়া কি বলব? আমরা জানি না আগামীদিনে এই রেল বাজেট এর ভবিষ্যৎ কি? তবে যে দিশা দেখানো হয়েছে, যে উন্নতির কথা বলা হয়েছে, তা ভঙ্গুর রেল লাইনে কতটা করা সম্ভব সত্যি জানা নেই।শ্রী প্রভু ভারতীয় রেলকে গতি দিতে চেয়েছেন সেহেতু ভাড়া সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য “Railway Tariff Regulatory Committee” গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।এই কমিটির রূপরেখা ও সভ্য কারা হবেন তা পরিষ্কার নয় এবং এই বিল সংসদে কবে পেশ হবে সেটাও পরিস্কার করেন নি, লোকসভায় বিজেপি-র বেশী আসনের সংখ্যার জোরে পাশ হলেও রাজ্যসভায় পাশ হবে তাঁর নিশ্চয়তা কোথায়?অতএব এই সরকারের সময়কালের মধ্যে আদৌ সম্ভব কিনা তা নির্দিষ্ট নয়।সংসদের উভয় কক্ষে সংশোধনীর মাধ্যমে বিলটির কি আকার নেবে তা ভবিষ্যৎ বলবে।আপামর জনগণ অনেক কিছু আশা করেন কিন্তু বার বার আশাহত হন,আগের রেলমন্ত্রীরা অনেক নতুন ট্রেন ,কারখানা , উড়ালপুল এসবের শিলান্যাস করেছেন, মানুষ আশায় বুক বেঁধেছে, পরের মন্ত্রীরা এসে ওই প্রকল্পগুলিকে অবাস্তব বলে বাজেটে বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছেন।নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন, সবগুলিই ওই রাজ্যের জন্য যেখান থেকে উনি জিতে এসেছেন,আখেরে মানুষই বঞ্চিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *