Modir 2 Bachor..Fire dekha by debasish pyne,

pm-modi-desk_650x400_51433059715জাতীয় গনতান্ত্রিক জোট(এনডিএ) নরেন্দ্র মোদীর নেতৃতে(প্রধান মন্ত্রী) শাসন ক্ষমতায় আসীন হয়েছিল ঠিক দু বছর আগে ২৬।৫।২০১৪ এখন আমজনতার সময় এসেছে অনুভব করার সত্যি করে মোদী তার নির্বাচনের সময় করা পতিশ্রুতি রাখতে পেরেছেন কি পারেন নি। আজকের ভারতের বেশীর ভাগ মানুষই বুজতে পারছেন ‘আচ্ছে দিন’ আনতে মোদীজি বিফল হয়েছেন।

যে উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে দু বছর আগে নরেন্দ্র মোদী ভারত জনতার দরবারে হাজির হয়েছিলে, আজ মনে হচ্ছে সম্পূর্ণ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।

odgjGbifjegsi

তাহলে কি মোদীজী হেরে গেলেন?এটা অবশ্য একটু তাড়াতাড়ি ভেবে নেওয়া বা মন্তব্য করা হবে।কিন্তু সমালোচকরা বলছেন দিল্লি এবং বিহারের নির্বাচন হেরে যাওয়া প্রমান করে মোদী ম্যাজিক কর্পূরের মতো উবে গেছে। ঠিক আছে, বলা যেতে পারে কিন্তু এটাও সাথে সাথে মনে রাখতে হবে এই মুহূর্তে মোদীর সমকক্ষ জনপ্রিয় নেতাও ভু ভারতে নেই। রাজনিতিতে কাল কি হবে কেই বলতে পারে না তবে আজকের দিনে এটাই সত্যি।

25modi-nawaz6

যে মুহূর্তে আমরা মোদীর কর্মদক্ষতা ও কর্মকুশলতা নিয়ে সংখ্যার নিরিখে চুলচেরা বিচার করতে যাব তখনি মনে পড়বে মোদী একটা অবাস্তবতার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন। স্বপ্নের সওদাগর হতে গিয়ে মানুষের প্রত্যাশার পারদ চরিয়ে বিপদে পড়ে গেছেন।ভারতের মানুষ ওনার কথায় অনেক বেশী চাহিদা এবং সেটার দ্রুত সমাধান আশা করেছিল।সমগ্র দেশের জন সংখ্যার অর্ধেকেরও বেশী যুব সম্প্রদায় কর্মসংস্থান আশা করেছিল। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষের দাম কমবে, মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস নেবে, আশা করেছিল। কৃষির উন্নতি, শিল্প ও বানিজ্যের অগ্রগতি ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক আশা কিন্তু কোণ প্রত্যাশাই পুরন হয় নি। মিলিজুলি সরকারে নানা মুনির নানা মত, ইচ্ছে থাকলেও ওপরের বাধায় উন্নয়ন ব্যাহত হয় তাই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছিল। কিন্তু বাস্তবে আনন্দ মঠে ব্রজেন্দ্রকে ভবানী পাঠকের যে প্রশ্ন ছিল—মাকে কেমন দেখলে? উত্তর- মা যেমন ছিলেন তেমনিই আছেন!!

rohith_story_647_012816062442

মোদীর নির্বাচনে জয়লাভের চাবিকাঠি ছিল উন্নয়ন ও উচ্চমানের শাসন। দু বছরের পূর্তি সমারোহের মহেন্দ্রক্ষণে আমাদের বুঝে নেওয়া দরকার ওপরের দুটি দিতে উনি কতটা সক্ষম হয়েছেন।

দু বছরে দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে যদি বিচার বিবেচনা করি তাহলে ত্রুটি ও অবহেলা দুটোই সামনে আসবে। যদিও এই সরকার অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছু উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনা

নিয়েছেন যেমন—‘মেকইন ইন্ডিয়া’, ‘সচ্ছ ভারত’, ‘গঙ্গা সাফাই’, ‘স্কিল ইন্ডিয়া’,‘জন ধন যোজনা’, ‘শস্য বিমা করন’, এসবই প্রকল্প। সবকটাই,দৃঢ়তার সঙ্গে প্রয়োগ করতে হবে যাতে করে জনসাধারন দ্রুত এর সুফল পায় নাহলে প্রকল্পই থেকে যাবে। অর্থণৈতিক বণ্টনের বুনিয়াদ তৈরির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় যাতে করে আরও বেশী করে কর্মসংস্থানের পরিসর বানানো যায়।স্বচ্ছতাকে গুরুত্ব দেবার দরকার আছে। এই অভিযানে রোগের প্রকোপ কোমলেই সঙ্গে সঙ্গে রোগের কারণে খরচও কমে যাবে। উপযুক্ত সরঞ্জাম ও তালিম দিয়ে মানুষকে কাজের উপযোগী করে তুলতে হবে তাহলেই প্রতি মাসে ১মিলিওন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এবং  উৎপাদনের মাত্রা বাড়িয়ে কৃষক ও গ্রামের উন্নিতি সাধন প্রয়োজন। যুবকদেরও আঞ্ছলিক পারম্পরিক উৎপাদনের তালিম দেওয়া দরকার যাতে করে তারা পূর্ণ লাভ ওঠাতে পারে।

kanahiya-k7zC--621x414@LiveMint

কিন্তু আজ দেশের অর্থনীতি সমস্যার সামনা সামনি।যদিও দেশের সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি খানিকটা হলেও রোধ করা গেছে, কিন্তু নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য আকাশছোঁয়া এবং এটাই মোদী সরকারের সর্ববৃহৎ ব্যারথতা। আরও একটা বড় ব্যাথ’তা হল যুবকদের কর্মসংস্থান করেদিতে না পারা।এফডিয়াই দেশের তৃনমূল স্থরে টাকার যোগান দিতে সাহায্য করেই, এই সরকার ৭.৫% জিডিপি গ্রোথের কথা বলছে, এর কোনও মূল্যই থাকে না যদি না নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষের দাম কমানো ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান করে দেওয়া যায়। ইতিমধ্যে বিগত ২০ মাষে ভারতের রফতানি বানিজ্য তলানিতে এসে ঠেকেছে।

ghar-wapsi-PTI1

শাসন পরিচালনায় দু বছরের মাথায় এই সরকার বহু ক্ষেত্রে প্রশ্নের মুখে। স্লোগান ছিল ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ স্লোগানেই পড়ে আছে কাজে প্রতিফলন হয় নি।যদি হত তাহলে তথাকথিত- ‘লাভ জিহাদ’, ‘ঘর বাপশি’ গোমাংশ ভক্ষণে বাধাদান ইত্যাদি কাজগুলি যারা করছেন সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছেন না উল্টে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।বিজেপি,আরএসএস,বিএইচপি এদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অসহিষ্ণুতার পরিবেষ তৈরি করার দোষারোপ। সরকার চুপ!! হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যায়, যেএনইউ বা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সমস্থ ঘটনায় সরকারের ভূমিকা এবং ছাত্রদের প্রতি সরকারের আচরণ দেশ জুড়ে নিন্দনীয় হয়েছে। বিজেপি হয়তো ভুলে গেছে এই সরকার গড়তে ছাত্র-যুবদের কি ভূমিকা ছিল,মোদীজি স্বপ্নভঙ্গ করেছেন।

images

মোদীর বিদেশনীতি নিয়ে সরকারের সহযোগী দলরাই প্রশ্ন তুলছেন- মোদীজি ঠিক করে নিন- দেশে থাকবেন না বিদেশে! ক্রমশ পাকিস্থান,চায়না,নেপাল,মালদ্বীপ দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক উত্তেজক।ভারত- পাকিস্তান সীমানায় গোলাগুলি রোজের ঘটনা।চায়না সমান্তে সেনা বাড়াচ্ছে, রাস্তা বানাচ্ছে। মোদী কই-কি করছেন? এসব ঘটনা যখন ইউপিএ আমলে ঘটত, মোদীজী জনসভায় ভাষণে বলতেন, বিজেপি সরকারে এলে পাকিস্তানকে ‘মু তোর’ জবাব দেবেন। কি জবাব দিচ্ছেন দেশের মানুষ দেখছে। আজও দাউদ ইব্রাহীমকে দেশে ফেরত এনে বিচার হল না- মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মাসুদ আজাহারকে এখনও মোদী সরকার কিছুই করতে পারল না। কাল টাকা ফেরত আনার অঙ্গীকার করেছিলেন, দেশের মানুষ অপেক্ষা করছে কবে ওই টাকা তাদের পকেটে আসবে।

download (2)

নির্বাচনে মোদীর জয়লাভের পেছনে কাজ করেছিল ‘আচ্ছে দিন’ প্রচার। স্বপ্নের ফেরিওয়ালা মোদী ফেরি করতে গিয়ে গুনাক্ষরেও টের পান নি ‘আচ্ছে দিনে’র সারবত্তাটা কি। দু বছর বাদে মোদী ও তার সঙ্গীরা মালুম পাচ্ছেন কতটা তৃনমূল স্তরে পৌছে সরকারি পরিষেবা দিলে তবেই জনগণকে ‘আচ্ছে দিনে’র অনুভব করান যায়। সরকারের আশু কর্তব্য হল ধর্মীও ‘মারুতি’ সেনাকে শক্ত হাতে প্রতিহত করা নাহলে ২০১৯শে এর ফল ভুগতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *