মানবাধিকার সম্পর্কে সাধারন মানুষের জ্ঞান না থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাধারন মানুষকে অযথা হয়রানির শিকার হতে হয়

2যাদের হয়ে প্রতিবাদ করার কেউ নেই, অত্যাচারিত হলে,অন্যায় অবিচার হোলে তাদের হয়ে কথা বলবে, প্রতিবাদ করবে বলেই গঠিত হয়েছিল মানবাধিকার কমিশন। ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারন সভায় মানবাধিকারের ঘোষণা ও গৃহীত হয়। ১০ই ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসাবে পালন করা হয়।৩০টি ধারা নিয়ে নানা মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে।১৯৭৬ সালে দুটি সনদ আইনি ক্ষমতা লাভ করে… ১-নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তজারতিক সনদ… ২- আর্থিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের সনদ। এর পরেও আরও কয়েকটি সনদ গৃহীত হয়, নারীর স্বাধীনতা ও শিশুর অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

১৯৯৩ সালে ভারতবর্ষে মানবাধিকার আইন লাগু হয়। যদিও ভারতের বহু রাজ্যে আজও মানবাধিকার কমিশন গঠন হয় নি। বিশ্ব মানবাধিকার কমিসনের লিখিত ধারাগুলির মধ্যে বেশীর ভাগই ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ে থাকা মৌলিক অধিকারের মধ্যে স্তান পেয়েছে। ভারত সামাজিক, সাংস্কৃতিক অধিকারের সনদে স্বাক্ষর করে নি কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ে আর্থ সামাজিক বিভিন্ন দাবীকে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। যেমন মিড ডে মিল, গৃহহীনদের আশ্রয়, খাদ্যের অধিকার এখন মৌলিক অধিকার।

3

আমি অন্য রাজ্যের কথা বাদ দিয়ে নিজেদের রাজ্যের কথা বলছি, কারন অন্য রাজ্যের সমালোচনা করতে গেলে নিজেদের মুখ পুড়বে।পশ্চিমবঙ্গে মানবাধিকার বলতে কিছুই নেই। আগের সরকার ৩৪ বছরে কমিশনকে পঙ্গু করে রেখেছিল। নাগরিক স্বাধীনতার রক্ষার ব্যাপারে কোনও আগ্রহ প্রকাশ করেনি নতুন সরকারও পাঁচ বছর ধরে বার বার নাগরিক সুরক্ষা ও স্বাধীনতার অধিকারকে অবহেলা ও অবমাননা করেছে। প্রাক্তন বিচারপতি অশোক গঙ্গপাধ্যায়ের একান্ত ব্যাক্তিগত কিছু সমস্যা থাকতে পারে কিন্তু ওনার সময়ে মানবাধিকার কমিশন সাধারন মানুষের আশা ভরসার কেন্দ্র ছিল। এমনও নজির আছে উনি রাজ্য সরকারের বিরাগভাজন হতে পারে জেনেও ন্যায্য অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। অশোক বাবুকে সরিয়ে প্রাক্তন ডিজি নপরাজিত মুখোপাধ্যায়কে অস্থায়ী কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান করে আনা হল। এই নপরাজিত বাবু যখন পুলিশ প্রধান ছিলেন ওই সময়ে ৫১ টা মানবাধিকার কেস আছে যে কেসগুলির ফাইল আজও খোলা হয় নি এবং কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নি এমন একজনকে মানবাধিকার কমিশনের মাথার ওপর বসানো নিশ্চয় উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছিল এবং সরকার ছেয়েছিল কমিশন হাতের পুতুল হয়ে থাকুক, বাস্তবে তাই হল। পরিস্কার বোঝা যায় রাজ্য সরকার স্থায়ী চেয়ারম্যান করতে চান না আর এই কারনে রাজ্য জুড়ে খুন, ধর্ষণ, উগ্রপন্থা, রাজনৈতিক সন্ত্রাস চূড়ান্ত সীমায় কিন্তু সরকারের তরফ থেকে সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না। শুধু সরকারকে না দুষে আমরা নাগরিকরা সচেতন হলেই সরকারের টনক নড়বে। আমরা নিজেরাই জানি না কি কি অধিকার আমাদের দেওয়া হয়েছে, জানা থাকলে রাজ্য কমিশন দায়িত্ব পালন না করলে জাতীয় কমিশনের কাছে দরবার করা যায়।

মানবাধিকার প্রসঙ্গে কয়েকটা জিনিস জানা খুব দরকার।

*সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক কোনও ব্যক্তিকেই গ্রেফতারের কারন না জানিয়ে গ্রেফতার করা যাবে না।

*ধৃত ব্যক্তিকে নিজের পছন্দমতো আইনজীবীর সাহায্য নেওয়া থেকে আটকানো যাবে না।

*গ্রেফতার হাওয়া ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাছাকাছি কোনও ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিয়ে যেতে হবে

*আদালতের নির্দেশ ছাড়া কোনও ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার বেশী লক আপে আটক করা জবে না।

*কোনও ব্যক্তিকে আটক করার সময় পুলিসকে পরিচয় পত্র দেখান বাধ্যতামূলক, পরিচয় পত্র যেন পরিস্কার রূপে পড়তে পারা যায়।

*জেরার কাজে নিযুক্ত পুলিস অফিসারদের বিবরণ অবশ্যই রেজিস্টারে লিখতে হবে।

*গ্রেফতারের সময় পুলিসকে অবশ্যই কাস্টডি মেনো দিতে হবে। মেনোতে গ্রেফতারের তারিখ ও সময় লিখে দিতে হবে এবং তাতে ধৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর থাকতে হবে। সেটিকে পরিবারের কাউকে দিয়ে অথবা প্রতিবেশী কাউকে দিয়ে প্রত্যয়িত করতে হবে।

*হেফাজতে থাকাকালীন আটক ব্যক্তি তার পরিবারের লোকজন বা বন্ধু,পরিচিতকে গ্রেফতারের স্থান ও খবর জানানোর অধিকারী থাকবেন।

*গ্রেফতারের সময় ধৃত ব্যক্তির শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন বা ব্যক্তি অসুস্থ থাকলে ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করাতে হবে এবং সেই ডাক্তারি পরীক্ষাপত্রে ধৃত ব্যক্তি ও গ্রেফতারকারি পুলিস অফিসারের স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক।

*কাস্টডি মেমোসহ গ্রেফতারের সব নথি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে হবে।

*জেরার সময় পুরো সময় না হলেও তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে দিতে হবে। সর্বোপরি জেরার সময় কোনও প্রকার থার্ড ডিগ্রি বা অত্যাচার করা চলবে না।

*এই সব মানবাধিকার সম্পর্কে সাধারন মানুষের জ্ঞান না থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাধারন মানুষকে অযথা হয়রানির শিকার হতে হয়।অনেক ক্ষেত্রে হেফাজতে ধৃত ব্যক্তির মৃত্যু হলেও দোষী পুলিশকর্মী শাস্তি পায় না।এছাড়াও ধৃত ব্যক্তিকে হাতকড়া বা লোহার চেনের বেড়ি পরানোর ক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্টের বিধি নিষেধ রয়েছে। বিচারকের আনুমতি ছাড়া হাতকড়া বা কোমরে দড়ি পরানো যায় না। কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে পুলিশ অনুমতি সাপেক্ষে করতে পারে।

**** এই ধরনের কোনও অন্যায়, গাফিলতি বা জোর জবরদস্তি চোখে পড়লে বা জানতে পারলে একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।

যোগাযোগঃ media.ekabinsha@gmail .com

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *