komorer jor bujhe cholun…

04bengalcpm1(1)যে কোনও রাজনৈতিক দলের সংবিধান, নীতি এবং আদর্শই সেই দলের কাঠামো, এটা মানতে হবেই হবে। আবার এই নিতির কট্টর বাদিতার কারণে যখন কোণ রাজনৈতিক দল সংসদীয় রাজনিতিতে দশকের পর দশক ধরে হাতে গোনা কয়েকটি রাজ্জ্যের মধ্যে সীমিত থাকে, তখন ধরে নিতে হয় তথ্য ও পুঁথিগত ভাবে কতিপয় সংখ্যক নেতা ও কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে -আপামর জনগনের কাছে নয়।অথচ সংসদীয় রাজনিতিতে মানুষই শেষ কথা।রোজগার,রোটি,কাপড়া আর মকান এই আধারে সব কথা। এই কাজগুলি রুপায়নে দলগত ভাবে নীতিনির্ভর ভিন্ন প্রয়োগ পদ্ধতির থাকতে পারে কিন্তু মূলাধার এটাই।রাজনিতিতে বাস্তবধর্মী অবস্থান হল মানুষের চাহিদা অনুযায়ী দলের নীতি নির্ধারণ করতে পারার মানসিকতা(ভোটে জেতার জন্য)।বড় বড় নিতির কথা বলে সীমিত সংখ্যক শিক্ষিত মানুষকে সমর্থক বানানো যায় কিন্তু তৃনমূল স্তরে প্রসার ঘটাতে না পারলে, সব বৃথা।এই কারনেই বিগত কয়েক দশক ধরে বামপন্থীরা সীমিত সিমারেখার মধ্যে আবদ্ধ।দলীয় কট্টরপন্থী মানসিকতা থেকে বেড়িয়ে এসে বুদ্ধবাবু, সূর্য মিশ্ররা আন্তরিক ভাবে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট চেয়েছিল বলে অস্তিত্ব বজায় আছে নাহলে ধুয়েমুছে সাফ হতো। ২০১১ সালে বামপন্থীরা যে  আসন সংখ্যা পেয়েছিল সেটা অন্য কারণে এবং তার ব্যাখ্যাও অন্য, ২০১৬ নির্বাচনে কেরল বা ত্রিপুরা জোট চাওয়া বা না চাওয়ার ওপর নির্ভর করলে  ভাবাই যেত না কংগ্রেস ও বামপন্থীরা জোট বেঁধে নির্বাচন লড়বে! কিন্তু মানুষ চাক্ষুষ। এটাই রাজ্য বামপন্থীদের সময়ে চাহিদা অনুযায়ী পদক্ষেপ ছিল। কারন দু দলের তৃনমূল স্তরের কর্মীরা এই জোটের পক্ষে ছিল।

Rahul-Gandhi_20160427_600_855

অনেক জায়গায় ত্রুটি বিচ্ছুতি ছিল কারন মনে রাখতে হবে দশকের পর দশক এই দুটি দল নিতিগত ভাবে ভিন্ন মেরুতে অবস্তান করে এসেছে, এক মেরুতে আসতে সময় দিতে হবে।যে যার দলের নীতি আদর্শকে অটুট রেখে জোট রাজনীতির বাধ্যবাধকতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কমন প্যাসেজ বানাতে সময় লাগবে। মানছি সিপিএম দলে প্রদেশ নির্ভর ভিন্ন ভিন্ন কট্টরপন্থী অবস্থান আছে-কেরলে ও ত্রিপুরায় সিপিএম কংগ্রেস বিরোধী কিন্তু এই দুটি রাজ্যে সিপিএম শাসনে- বাংলায় নেই আর সময়ের ডাকে সাড়া দিয়ে কংগ্রেসকেও খেসারদ দিতে হয়েছে।ত্রিপুরায় কংগ্রেসের নির্বাচিত বিধায়করা দল ছাড়ার হুমকি দিয়েছে। সমানভাবে কেরল-ত্রিপুরার ওদেরকেও অনুভাব করতে হবে। ২০১১ সালে বাংলায় পরিবর্তনের পর সিপিএম   দল ক্রমে ক্রমে বুঝেছে যে তাদের আর আগের অবস্থা নেই। যে দলের নেতারা গর্ব করে বলত, পাড়ায় পাড়ায় কর্মীরা বলত- একবার যে সিপিএম সে চিরকালের সিপিএম। আমাদের দলে নিতির বুনিয়াদ এতো পাক্কা যে মরে যাবে কিন্তু দল ছাড়বে না। কিন্তু কি দেখলাম পঞ্চায়েত থেকে বিধায়ক অনেকেই দল ছেড়ে তৃনমূলে ভিড়েছে এবং তৃনমূলের টিকিতে জিতে নেতা-মন্ত্রি হচ্ছেন।

বুথে বসার লোক পাচ্ছিলো না। না পঞ্ছায়েতে না লোকসভায় না পুরসভা- পৌরসভা নির্বাচনে। জেলায় জেলায় দাপটের সঙ্গে যে নেতাদের ছড়ি ঘোরাতে দেখা যেত,বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খাওয়াত- তারা সব হাওয়া! ২০১৬ নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না করলে যা আসন পেয়েছে তাও পেত কি না সন্দেহ আছে। বাস্তবটা স্বীকার না করে ত্রিপুরা- কেরলের নেতারা বঙ্গের সিপিএম নেতাদের তুলোধোনা করছে। শোনা যাচ্ছে কেরল লবির সমর্থক প্রকাশ কারাত সামনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় সূর্য মিশ্র, বুদ্ধদেব সমেত আরওবঙ্গীয় নেতা যারা কেন্দ্রীয় কমটির সদস্য তাদের একহাত নেবেন। ইয়েচুরিও নাকি পার পাবেন না।আর সেটাই আন্দাজ করে ‘ইয়েচুরি’ তড়িঘড়ি বঙ্গে ছুটে এসেছেন রণকৌশল সাজাতে। ভাবতেও হাসি পায় জেলায় জেলায় কর্মীরা মার খাচ্ছে, বুথে লোক দিতে পারে না, কংগ্রেসের সঙ্গে হাত না মিলিয়ে একা নির্বাচন লড়লে কটা আসন পেতেন বলে মনে করেন দিল্লির তাত্ত্বিক বামপন্থী নেতারা! আজকে যখন উভয় দলের কর্মীরা মার খাচ্ছে সেই ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত ধরাধরি না করে, যৌথ প্রতিবাদের রাস্তায় না হেঁটে, একার মনের জোরে প্রতিবাদ করতে পারতেন বলে মনে করেন আপনারা! বুদ্ধবাবু সমস্থ ছুতমার্গ হেলায় ফেলে রহুল গান্ধির সাথে সভা করতে পারে কিন্তু বিমান বাবু আপনি কেন না? সূর্য মিশ্ররা বিধান সভার ভেতর জোটের ধারা অব্যাহত রেখে লড়াই করতে চান- সাধুবাদ জানাই। এটাই বাস্তব পদক্ষেপ। মানুষ জোট কতদিন বেঁচে থাকে  লক্ষ্য করছে এটা ভুলে যাবেন না।

images

নির্বাচনে যদি বামপন্থীরা একা লড়াই করত শে ক্ষেত্রে বিজেপির দ্বিতীয় শক্তিতে পরিনত সম্ভাবনা প্রবল ছিল। সে ক্ষেত্রে কংগ্রেস ও বামপন্থীরা তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে নেমে আসত।আর এটাই যদি হতো তাহলে ধর্মনিরপেক্ষ গনতান্ত্রিক জোটের কি হাল হতো, একবারও ভেবেছেন? লোকসভার নিরিখে বাম- কংগ্রেশের প্রাপ্ত ভোট কমেনি। বিজেপির ভোট লোকসভার থেকে ৭% কমেছে। কংগ্রেস- বামেরা সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে ভোট করাতে পারেনি। মানুষ এই জোটকে আরও দেখতে চাইছে আর সেই কারনেই ভোট তৃনমূলের দিকে মুখ ঘুরিয়েছে। এই রাজ্যে মানুষের সামনে জোটকেই একমাত্র বিকল্প করে তুলে ধরা এবং যদি সহমতের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন চলা। নাহলে ধর্মীয় হনুমানরাই কালেদিনে বিকল্প শক্তির আসন পেয়ে যাবে।আর কেরল পন্থীদের এতো রাগের কারনটাই বুজছি না—কংগ্রেসের সঙ্গে বামপন্থীরা জোট করে বাংলায় নির্বাচন লড়ে কেরলের তো কোনও ক্ষতি হয় নি। বাংলাতেও না, তাহলে অসুবিধে

09abdul1

কোথায়? উল্টে জোট অব্যাহত থাকলে কর্মীরা মনোবল পাবে ধিরে ধিরে পায়ের তলায় জমিও পেতে থাকবে। জানি না কি পরিনতি হবে ১৮ থেকে ২০ জুন কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে। কারাতের পাল্লায় পড়ে বামপন্থীরা যে ভুল ইউপিএ(১) করেছিল। সেই ভুল আবার করলে বামপন্থীদের পার্টি অফিস খোলার লোক থাকবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *