Didi chara goti nei…By Dipankar Guha

79391e26-6991-4b2d-afe9-5b8c7915c40cএকটা ফ্রক পড়া মেয়ে, কাঁধের পাশ দিয়ে দুটো বিনুনি, সাইকেলের সামনে বাস্কেটে স্কুল ব্যাগটা রাখা। আসে পাশে আরও সহেলী সাথী স্কুলে চলেছে ওরা । গতি আর বাহনে চড়ে, নতুন সাইকেল । বাড়ীতে  বাবা আছে কিন্তু কিনে দিতে পারতো কি? হয়তো না, কিন্তু সরকার দিয়েছে।

হাফ প্যান্ট পড়া ছেলেটার কি আপ্রাণ প্রচেষ্টা! পায়ে কাদা মাটি লাগুক, জুতোটা যেন নতুন থাকে। এতোদিন খালি পায়ে তো স্কুল যেতে হয়েছে। জোঁক, কেন্ন, শামুক মারিয়ে, প্রচণ্ড রোদ্দুরে পায়ের তলায় ফোসকা পড়ে যেত।  আজ পা-টা যে সুরক্ষিত! বাবা দাদারা নিজেরা জুতো পড়তে পারে নি। ছোট্ট ছেলেটিকে দিতে পারে নি, কিন্তু সরকার তো দিল!!

এই আবেগটা শহর বা শহরতলীতে বসে টের পাওয়া যাবে না। একটু সীমানা ছাড়িয়ে বেরলে এই আবেগটা বোঝা যাবে। ওরা হাসছে, হাসছে মন খুলে। দিদির জন্য মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর জন্য মমতাময়ী মমতার জন্য।  নারদা নিউজ ডট কম এর স্ট্রিং অপারেশনে হাজার প্রশ্ন লোকসভা উত্তাল বিধানসভা নির্বাচনের আগে খোদ তৃনমূল প্রার্থীরা অসহায়। কি বলবে তারা এমন ছবির জবাবে? জবাব একটাই- দিদি ২০১১-র বিধানসভা নির্বাচনে আম-জনতা ৩৪ বছরের রাজ রাজত্ব এক টানে ধূলিসাৎ করেছিল একজনের ডাকে। তিনি মমতা। তার পর না সকলে… মুকুল, ববি, শোভন, শুভেন্দু, সুব্রত, পার্থ, অরুপ, মদন-দের চেনে ভাল করে। দিদি মমতা ম্যাজিক কাজ করেছিল। সারদাকাণ্ডে ধস নেমেছে ঠিকই। কিন্তু মমতার ইমেজ ধোসে যায় নি। গঙ্গা দিয়ে বাংলার দক্ষিণ আর উত্তর এই কয়েকটা দিনে অনেক জল বয়ে গেছে। তবু মমতার নামে কলঙ্কের সরাসরি আঁচড় লাগে নি।

এই স্ট্রিং অপারেশনে অনেকে নিজের অন্দরমহলে বহিরাগত এজেন্সির প্রতিনিধিকে ডেকে টাকা নিয়েছেন (ছবিটাই বলছে) সৌগত রায় ছাড়া কাউকে দ্বিধা অসস্তিতে নিতে দেখা যায় নি। প্রশ্ন হলঃ এভাবে মন্ত্রী-এমপি-দের কাছে এই এজেন্সি পৌঁছে গেল কার বা কাদের রেকমেন্ডেশনে? কিসের জন্য ৫-৬-৭ কিম্বা ২০ লাখ নিলেন ওরা? কোটিতে অঙ্ক কেন নয়!!! বড় ডিলের জন্য এটাই কি শুরু?? তা যদি হয়, তাহলে এরা সমাজের উন্নতিতে টাকা দিতে চায় নি। সংস্থার কিছু বিশেষ 

SILIGURI, MAR 14 (UNI):- West Bengal Chief Minister Mamta Banerjee during a rally in Siliguri on Monday. UNI PHOTO-125U

সুবিধা নিতে এই পরিকল্পনা ছিল। কিম্বা চক্রান্ত চালানোর চেষ্টা ছিল। যাই থাকুক, এটা পরিষ্কার অনেকে এমএলএ, মেয়র কিংবা মন্ত্রী আর হয়তো এভাবে এমন…এমনটা হয়েই থাকে। সত্যিই!!! এভাবে?? এমনটা হতেই পারে যদি এটা সিস্টেম হয় কোন রাজনৈতিক দলের।  দল চালাতে অর্থ চাই সে কেন্দ্র হোক বা রাজ্যই হোক। অনেকে নিজেদের চেয়ে দলের জন্য ভাবেন। টাই হাসি মুখে এইসব নিয়ে থাকেন (যুক্তি তর্কের খাতিরে এটা মেনে নেওয়া হল) ওনারা।

এটা অন্যায়? আজ যদি কেউ কলকাতা এয়ারপোর্টে চার বছর পর নেমে গাড়ীতে চড়ে শহরে ঢোকেন আর মধ্য কলকাতা টোপকে যেতে যেতে বলেন- “কলকাতা সত্যি অন্যরকম হয়ে গেছে। তিলোত্তমা বললে মানায় এখন।” হয়তো খুব খারাপ বলবেন না। রাস্তার উন্নতি হয়েছে। ব্রিজ হয়েছে। পার্ক গুলো নজর কাড়ছে। সন্ধ্যায় আলোর বন্যায় ভাসছে শহর। আর গ্রামে গঞ্জে ছেলে মেয়েরা হাসছে। আর কি চাই? হোক না এমন ‘চক্রান্ত’… দিদি তো এই পাঁচ বছরে কন্যাশ্রি এনেছে। গরীব গর্ব বাড়ীর মেয়েরা আজ সাত তাড়াতাড়ি বিয়ের পিঁড়িতে না বসে, শিখছে আর স্বপ্ন দেখছে।

দিদিকে দেখেই তো অন্যদের জিতিয়ে ২০১১ তে ‘বদলা না চেয়ে বদল’ এসেছিল। আরও ৫টা বছর রইলো না হয় দিদিভাই। দিদি আর ভাই বোনেদের, তা দিদিই ঠিক করুন।

children

এতো কিছু করে তৃনমূল আবারও ফুল ফুটিয়ে জিতে গেলে কি হবে!!  পদ্ম পাতায় জল দাঁড়ায় না, জনতার জালে না জল সাফাই হয়ে যায়। কাস্তে হাতুড়িতে যদি জনতার দেওয়াল না ভাঙ্গে?? আর হাতে কি সেই জোড় আছে যে, যা ঐক্যের শৃঙ্খল বানিয়ে নয়া পরিবর্তন আনবে?? এখন আর নারদ নারদ করে ঠোক্কর না লাগালে, দিদির জন্য কি সুবিধা পেয়ে রইলো মূল সমেত তিনটি ফুল???  

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *