শান্তির ভারতবর্ষে সন্ত্রাসী হামলা, অনিন্দ্য রায়চৌধুরী

aa-Cover-t7f7qptrqv1l45jckj1ttpccv1-20190214185334.Mediভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বেড়ে চলা উত্তাপকে কেন্দ্র করে একজন সাধারণ ভারতীয় নাগরিক হিসাবে কিছু প্রশ্ন করার অধিকার আমার আছে । এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর খোজার চেষ্টা করছি; আর ভাবছি এতগুলো শহীদের রক্তঋণ কি ভাবে পরিশোধ হবে। রাষ্ট্র শক্তির গাফিলতি এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ি। কি উত্তর দেবেন সাধারণ মানুষকে; অপেক্ষাতে থাকলাম।

৪৪ জন সিআরপিএফ জবানের মৃত্যু হোল। ৩৫০কেজি আরডিএক্স সমেত একটি সন্ত্রাসবাদীদের গাড়ি সিআরপিএফ কনভয়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে কি করে সেই বিষয়ে কিছু প্রশ্ন তৈরি করে।

উগ্রপন্থিদের কাছে যে অস্ত্র থাকে তা বাইরে থেকে সীমানা পেরিয়ে আসে। সীমান্ত রক্ষা বাহিনী ভারত সরকারের হাতে তাহলে কেন রোখা যায় নি।

জঙ্গিদের হাতে প্রচুর টাকা।অস্ত্রশস্ত্র কেনা হয় সেই টাকা দিয়ে। হুন্ডি ও আরবিআই এর মাধ্যমে সেই টাকা লেনদেন হয়। ব্যাঙ্কিং সেক্টরে ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন। কেন রোখা যায় না এ লেনদেন?

পুরো যোগাযোগে মাধ্যম ভারত সরকারের হাতে।তাহলে, সরকার টেলিফোনে কথোপকথন, ফ্যাক্স, ই-মেইল, WhatsApp এর ওপর নজর রাখতে ব্যর্থ হয় কেন ?

ভারতে নাশকতার পিছনে যে মাস্টারমাইন্ড কাজ করছে তাদেরকে এদেশে প্রত্যর্পণের জন্য বিদেশনীতি কোথায় ?

ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিরা বারবার এদেশে ঢুকে পড়ে, অথচ ভারতীয় সেনা, কোস্টগার্ড, নেভি তাদের আটকাতে পারে না কেন ?আড়াই হাজার জওয়ান এর কনভয়, সেখানে সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই কেন ??

আগামী ১০-১৫ দিনের ভিতরে বড় জঙ্গি হানার সম্ভাবনা আছে এই গোয়েন্দা রিপোর্ট থাকা সত্ত্বেও এত বড় দুর্ঘটনা হলো কি করে? কিসের উদ্দেশ্যে রিপোর্টকে গুরুত্বহীন রাখা হয়েছিল?

কোন রাস্তা দিয়ে, কোন সময়, কতজন সিআরপিএফ জওয়ান, কিসে যাচ্ছে, তার সমস্থ বিবরণ কিভাবে জঙ্গিদের কাছে পৌঁছে গেল? এর কি কোনো তদন্ত হবে ?

হামলা হতে পারে এই খবরটা আসার পর পথে প্রতি ৪০ থেকে ৫০ মিটার অন্তর রাস্তার দুই ধারে যে পাহারার ব্যবস্থা থাকে তা ছিল না কেন ? কি করে চেকপোস্ট ভেদ করল তারা ?

জঙ্গিহানা নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা জেনারেল শংকর রায় চৌধুরী সহ অন্যান্য প্রাক্তন অফিসাররা কেন বারবার আকার-ইঙ্গিতে রাজনৈতিক কারণ বলছেন ? কিসের কারণে?

উরীর আর্মি ক্যাম্পের অভূতপূর্ব জঙ্গি হানার প্রসঙ্গে একটি রেজিমেন্টের ডিউটি শেষ হচ্ছে আর রেজিমেন্টের অফিসাররা ডুকছে সেই কারণে কিছু জওয়ান বাইরে তাবু করছে এই খবর জঙ্গিদের কাছে কি করে পৌছলো ??

উরীর ঘটনা থেকে জানা গেল ভিতরে কোন যোগাযোগ না থাকলে এত বড় ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। কী করে ঘটল তার জন্য উচ্চ পর্যায়ের কোনও তদন্ত হলো না আর যদি হয়েও থাকে তার রিপোর্ট কি হলো?

১৯৭১ কে ভুলে গেলে চলবে না। শত্রুকে কি ভাবে পরাস্ত করতে হয়-শিখেছিলাম ইন্দিরা জি কাছ থেকে। loc ভেঙে পাকিস্তানকে আক্রমনকে সমর্থন জানাই। জানি না তাতে কি ৪২ শহীদের রক্ত ঋণ শোধ হলো- প্রশ্ন গুলো চিরস্থায়ী । উত্তর গুলো মেঘাচ্ছন্ন।

ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডভাইজার অজিত ডোভালের পুত্র আর আয ডোভালের পাকিস্তানের সাথে ব্যবসা ।

কংগ্রেস মাসুদ আজহারকে জেলে ভরে ছিল কিন্তু বিজেপি সরকার সেদিন ভুল করেছিল, মাসুদ আজহার কে পাকিস্তানের ছেড়ে এসে।

উধমপুর ও গুরুদাসপুরে জঙ্গি হানার পর মোদীজি বিনা নিমন্ত্রণে পাকিস্তান গিয়েছিল।

কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সত্যপাল সিং, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থনাথ সিং এবং বিজেপি সাংসদ রাজেন্দ্র আগরওয়াল শহীদ সিআরপিএফ অজয় কুমারের শেষকৃত্যে যোগ দেন। সেখানে তারা মোবাইল চ্যাট করেন এবং ভিডিও ভাইরাল হয়।

বিজেপির আইটি সেলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পাকিস্তানের গুপ্তচর সন্দেহে ধরা পড়েছে।বিজেপির আমলে সব থেকে বেশি ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে।পাঠানকোট এ আইএসআই কে ডেকে এনেছিল বিজেপি সরকার। বিজেপির রাজত্বের জঙ্গিহানা সব থেকে বেশি হয়েছে।

উগ্রপন্থী হামলায় ১০৯ জন ২০০৯ থেকে ২০১৪ এবং ৬২৫ জন ২০১৪ থেকে ২০১৯ এর মধ্যে। উগ্রপন্থী হামলায় নিহত জওয়ানের সংখ্যা ১৩৯ জন  ২০১৪ এবং ৪৮৩ জন ২০১৪ থেকে ২০১৯ এ। হিংসাত্মক ঘটনা ৫৬৩ জন ২০০৯ থেকে ২০১৪ এবং ৫৯৬ জন ২০১৪ থেকে ২০১৯ এর মধ্যে।

সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে ১২ জন ২০০৯ থেকে ২০১৪ এবং ২১০ জন ২০১৪ থেকে ২০১৯ এর মধ্যে। সাধারণ নাগরিক হিসাবে প্রসন্ন চিত্তে থাকতে পারবো না। ৪২ জন নিহত, তারাও ভারত মায়ের বীর সন্তান- এই নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। বীর শহিদদের শতো কোটি সেলাম জানাই। পরিবারের কেউ চলে গেলে জে যন্ত্রনা হয় সেই একই যন্ত্রনার সাক্ষী হয়ে থাকলাম।

অনিন্দ্য রায় চৌধুরী

অনিন্দ্য রায় চৌধুরী

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *