বাংলায় ডান – বাম জোট ….ছাত্র – যুবরা ভোট দেবে?

youth power posterবাংলায় আসন্ন বিধান সভার নির্বাচনে রাজনীতির মেরুকরণ সম্পূর্ণ হয়েছে, আপাত দৃষ্টিতে সেটা প্রতিপন্ন হলেও সত্যি  কি তাই হয়েছে ? আজকে কংগ্রেস ও সি পি এম এর জোট হয়েছে, বি জে পি একা লড়ছে আর তৃণমূল কংগ্রেস এমন ভাবে নির্বাচনের আসরে অবতীর্ণ হয়েছে যেন সবার উপরে তাঁরাই সত্য তাঁদের উপরে আর কেউ নাই। কিন্তু সব থেকে অবাক করেছে কং-সিপিএম এর জোটের নামে আসন সমঝোতা, দিকে দিকে তিরঙ্গা আর লাল ঝাণ্ডা এক সঙ্গে পতপত করে উড়ছে, দুই দলের নেতারা বাংলার জনগনের দাবী ও সময়ের প্রয়জনিতার কথা বলছেন এবং এই জোট কে সমর্থনের আর্জি জানাচ্ছেন। সত্যি কি এই অসম্ভব জুটি বাঁধার মাধ্যমে আদৌ নির্বাচনে জেতা সম্ভব? বাংলার রাজনীতি তে হয়তো সবই সম্ভব সেই জন্য “ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়ে” বলা কম্যুনিস্টদের সাথে ৩৪ বছরে বাংলায় কত হাজার কংগ্রেসিদের প্রাণ বলিদান দেওয়া ভুলে গিয়ে জোট করা কি এমন ক্ষুদ্র স্বার্থ চরিতার্থ করতে চাওয়া টা আপনাদের মনে হয়ে সময়ের চাহিদা। আমরা দেখতে পাচ্ছি কংগ্রেস কিছু যুব প্রার্থীদের মনোনীত করেছেন যারা বিগত ৩৪ বছরে বাম জামানায় জন্মেছেন এবং স্কুল-কলেজে পড়েছেন তারা কি উপলব্ধি করতে পারছেন না এই সিপিএম এর জামানায় কি ভাবে তিনটে প্রজন্ম কে “মাতৃ ভাষা মাতৃ দুগ্ধ সম” বলে রসাতলে পাঠিয়ে দিয়েছিল তার জন্য কত হাজার ছেলে-মেয়ে কে এই বাংলা ছেড়ে দক্ষিণ ভারতে উচ্চ শিক্ষার জন্য চলে যেতে হয়েছিল, কত মধ্যবিত্ত বাঙ্গালী তাঁদের সাধ্যের বাইরে গিয়ে লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা খরচ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। আর জ্যোতি বসুর নাতনিরা লন্ডনে গিয়ে পড়াশুনা করেছে, ইংরেজি ভাষায় কথা বলেছে তখন কি বাংলার কমিউনিস্ট এক বারের জন্য মনে হয়নি মাতৃ ভাষার অপমান, এ যেন নিজের বেলায় আটি শুটি আর পরের বেলায় দাঁত কপাটি। আজকে আসানসোল- বর্ধমানে লাল মাটিতে যখন দেখি যে সেই যুব কংগ্রেস কর্মীরা তিরঙ্গা ঝাণ্ডা নিয়ে লাল ঝাণ্ডার পাশাপাশি জনগনের দুয়ারে গিয়ে ভোট ভিক্ষা করছেন তখন সাঁই বাড়ীর সেই বিধবা মায়ের চোখের জল লজ্জায় শুকিয়ে যায়। তাই বোধয় আত্মশ্লাঘায় সাঁই বাড়ীর শহিদদের স্মৃতি তর্পণে কংগ্রেসিরা অনুপস্থিত থাকে। সেই দুয়ারে দুয়ারে ঘোরা বাম-কং  পতাকা নিয়ে জোটের ছবি ফেসবুক এ আপলোড করা হয়, অজস্র লায়িক এ ক্লিক পড়ে আর নিহত কংগ্রেস কর্মীদের হাহাকার আনলায়িক রয়ে যায়ে। অবাক লাগে যখন সিপিএম হার্মাদদের আঘাতে নিহত ছাত্র পরিষদের কর্মীদের লাল রক্ত কে বিস্মৃতির আড়ালে পাঠিয়ে বর্তমান ছাত্র পরিষদের সভাপতি যখন নিজের নির্বাচনী প্রচারের ফেস্টুনে কাস্তে-হাতুরি-তারার পাশে হাত সিম্বল এ ভোট চায় তখন বাংলার অগণিত নির্যাতিত হাত কাটা ছাত্র পরিষদ কর্মীরা নিভৃতে অশ্রু বিসর্জন করে। তাই তো মনের অন্তরে প্রশ্ন জাগে যখন এই প্রজন্ম ভোট প্রচারের মাঝে দুই রঙের ঝাণ্ডা নিয়ে চায়ের ভাঁড়ে তুফান তোলে তখন আরেক দল তিরঙ্গা বাহী তৃনমূল এই অশুভ জোটের পরিনাম সম্পর্কে মানুষকে বোঝাতে কি সক্ষম হবে। উত্তরের অপেক্ষায়ে রইলাম আমরা সবাই। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *