এই তৃনমূল আর নয়, কেন?– অনিন্দ্য রায় চৌধুরী

TMC_logoশষ্য-শ‍্যামলা বাংলার বুকে ঐ শোনা যায় সাম্রাজ‍্যবাদের পদধ্বনি ; না এখন আর না , গনতন্ত্র উপভোগকারী বাংলার জনগণ সাড়া দেয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে।বাংলার নদ-নদী, পাহাড়-পবত, মাঠ-ঘাট সবত্র সন্মৃদ্ধিতে ভরাবে এবং চির নতুন এর আহ্বানে জনমানসে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রদান করবে… এই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আবারও বাংলা পট-পরিবর্তনের জন্য, শুভ সন্ধিক্ষণের সামনে দাড়ানোর প্রানপন চেষ্টা চালাচ্ছে।

২০১৯, সদ্য হয়ে যাওয়া লোকসভা নির্বাচন ঘিরে বাংলার বুকে আবার রাজ্য পটে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৪২ সিটের ভিতরে বাংলার নবান্ন আসনে অধিষ্ঠিত তৃণমূল সরকার এককভাবে ৩৪ টি আসন পায়, কংগ্রেস চারটি আসন, সিপিএম দুটি এবং বিজেপি দুটি আসন লাভ করে। কিন্তু এবার পট পরিবর্তন হয়ে তৃণমূল ২২টি বিজেপি 18 টি আসন এবং কংগ্রেস দুটি আসন পেয়েছে।
ফলস্বরূপ তৃণমূলের কপালে অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে।

গত বছরে পঞ্চায়েত ভোটে যেখানে প্রায় সর্বত্রই ঘাস ফুল ফুটে ছিল এত দ্রুত সেখানে কেন পদ্ম ফুল ফুটছে আর কীভাবে তা এখন লক্ষ্য টাকার বিষয়।

গণতন্ত্রের মানুষ সব সহ্য করে কিন্তু দাসত্ব সহ্য করে না। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে লাগামহীন সন্ত্রাসের মাধ্যমে একের পর এক গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূল দখল করে। এলাকার পর এলাকা যেমন বোমের আঘাতে বিধ্বস্ত হয় ঠিক তেমনি বিধ্বস্ত হয় মানুষের মন । একি তান্ডব, বাম শাসনের যোগ্য জবাব দিতে গিয়ে উপহার পেল গ্রামে বাংলার বিরোধী-শূন্য পঞ্চায়েত। তীব্র ক্ষোভে ফুটতে থাকে তাদের অন্তর; যার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ লোকসভা নির্বাচনে প্রকাশিত হয়।

তৃণমূল রাজত্বে কিছুদিনের মধ্যে তার ইজ্জত সঙ্গী কংগ্রেসকে মন্ত্রিসভার এবং জোট থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। তারপর চলতে থাকে একের পর এক কংগ্রেসের এমপি ও এমএলএ ও পঞ্চায়েত বা পৌরসভা সদস্য কেনাবেচা। শুধু তাই নয় ভয় দেখিয়ে দল ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। যার ফল স্বরূপ বাংলার বুকে বিরোধী নেতা শূন্য এক রাজত্ব স্থাপিত হয়। সাধারণ জনগণ অত্যাচারী সরকারের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিরোধী দল খুঁজতে থাকে।
ক্ষমতায় বসে থাকা সরকার সৃষ্টির শুরু থেকে চরমতম দুর্নীতিগ্রস্ত। টাকা দেখলে তারা নতুন ডানা গজানো পিপিলিকার মত আগুনে ঝাপ দিতে বিন্দুমাত্র চিন্তা করে না। সারদা ; রোজভ্যালি সহ সব চিটফান্ডের টাকা তারা প্রায় এক হাতে গ্রাস করে। ফলে রাজত্বের শুরু থেকেই তাদের সামনে CBI খাড়া ঝুলতে থাকে । এরই মধ্যে নারদ কান্ড চোখের সামনে আসে তাতে দেখা যায় তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় নেতা মন্ত্রী এম পি, এম এল এ সবাই ঘুষ নিচ্ছে। সোজা কথায় বলা যায় CBI ভয়ে TMC নেতারা BJP তে যোগদান করতে থাকে।

অন্তহীন দুর্নীতি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ কারি সরকারের প্রতি অন্তরে অন্তরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। যেমন স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ঘুষ খেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী কে নিয়োগ না দেওয়া, কোন বড় অন্য রাজনৈতিক দলের নেতা যদি তৃণমূলে যোগ দেয় তার পরিবারের কাউকে বিনা পরীক্ষায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পত্র দেওয়া। তৃণমূল করা বহু নেতা পরিবারের লোকজনকে একাধিক চাকরি দেওয়া।এসব কারনে বেকার যুবক-যুবতী এবং তাদের পরিবারে সরকারবিরোধী হাওয়া বইতে শুরু করে।

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা প্রতি বছরের পরিবর্তে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়।
সরকারি কর্মচারীদের ডিএ নিয়ে রাজত্বের শুরু থেকেই না দেওয়া বা খুব সামান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। তাছাড়া পে-কমিশন বসিয়েও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না করে বারবার তাদের ঝুলিয়ে রাখা হয় । শিক্ষকসহ বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মচারীদের ভোটের সময় ভোট কর্মী হিসেবে ভোট কেন্দ্রে পাঠিয়ে তাদের নিরাপত্তা না দেওয়া, এমনকি এক শিক্ষককে খুন করা হয় । এইরূপ বিপর্যয় সরকারি কর্মচারীদের বিকল্প দল ভাবনার দিকে ঠেলে দেয়।

সিন্ডিকেট রাজ স্থাপন , কারখানা বন্ধ করে দেওয়া নতুন করে কল কারখানা না খোলা, পঞ্চায়েত পৌরসভা সকল স্থানে আবাস যোজনার টাকা ভাগ নেওয়া ,১০০ দিনের কাজের টাকার ভাগ নেওয়া , ভয় দেখিয়ে স্বল্প মূল্যে জমি দখল করা ,অবৈধ বালি খাদান সহ এইরূপ অসংখ্য দুর্নীতির যা পঞ্চায়েত ও পৌর স্তরের নেতারা করতে থাকে । সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি বিতৃষ্ণা দেখা দেয়।

তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা বিজেপিতে যোগদান করে দ্রুতগতিতে সংগঠন করতে থাকে। যেহেতু তারা তৃণমূল, ফলে বহু তৃণমূল নেতাকে বিজেপিতে আনতে তাদের বিশেষ পরিশ্রম করতে হয় নি।

শুধু তাই নয় ,বিজেপি প্রচুর পরিমাণে টাকা খরচ করে সাধারণ মানুষ সহ নেতাদের কিনতে থাকে। এ প্রসঙ্গে বিশেষ উল্লেখযোগ্য বিষয় তৃণমূলের ভিতর তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব; যার ফলে এক্ শ্রেণীর নেতারা উপকৃত হয়। তারা উপরে তৃণমূল সেজে ভিতরে ভিতরে বিজেপির সাথে হাত মিলিয়ে সাধারন মানুষকে বিজেপিকে ভোট দিতে উৎসাহিত করেন।
বামেদের ভোটের বিরাট অংশ বিকল্পের সন্ধানে রামে অধিষ্ঠিত হয়।

এহেন পরিস্থিতিতে ঘাস ফুল শুকিয়ে সে সকল স্থানে পদ্মফুল করতে থাকে অর্থাৎ তৃণমূল পরাজিত হতে থাকে এবং সেখানে বিজেপির জয় লাভ করে।

অনিন্দ্য রায় চৌধুরী

অনিন্দ্য রায় চৌধুরী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *