মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন?

12540547_484671545051248_3819878847714942568_nআসন্ন বিধানসভা ২০১৬-র নির্বাচনে কংগ্রেস ও তৃনমূলের জোট হলে জানা কথা মমতা-ই মুখ্যমন্ত্রী হবে বা উনি যাকে চাইবেন সে হবে। যদিও অন্য কেউ মুখ্যমন্ত্রী হোক সেটা মমতা কখনোই চাইবেন না আর এতো বড় কুরবানি বা উদারতা ওর চরিত্রে কশ্মিন কালেও নেই। এটা ওর রাজনৈতিক চরিত্র বিচার করলে বুঝতে অসুবিধে হয় না, নাইলে কংগ্রেস পরিচালিত ইউ,পি,এ-(২) আরও পূর্ণ মন্ত্র দিতে রাজি ছিল কিন্তু উনি মমতা ব্যানার্জী নিজে ছাড়া বাকিদের হাফপ্যান্ট পরিয়ে রাখলেন, অতএব মুখ্যমন্ত্রী উনিই হবেন। কিন্তু বামেদের সঙ্গে জোট হলে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? বুদ্ধবাবু ছাড়া মুখ কোথায়? দল যদিও চায়, কিন্তু নিজের শরীরের কারনে ইতিমধ্যেই উনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে প্রায় অবসর নিয়েছেন। আবার রাজি হতেও পারেন… রাজনীতি এর নাম। সেক্ষেত্রে ওনার নাম এলেই তৃনমূল সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, নেতাইকাণ্ড নিয়ে বাজার গরম শুরু করবে। তৃনমূলের ওই প্রচার আক্রমনের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়াবার হিম্মত বুদ্ধবাবুর নেই। ২০১১ নির্বাচনের পর ওনার উচিত ছিল দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া, সেটা উনি করলেনই না উল্টে ঘরে খিল দিয়ে বসে থাকলেন, অথচ সব আক্রমণ ওনাকেই কেন্দ্র করে।আজ বামেদের এই করুণ পরিস্থিতির মূল কারন ওনার দুর্বল নেতৃত্ব আর অবাস্তব ও অবিবেচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ। তাহলে কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী? সূর্য মিশ্র? ওনার তো বাংলা ভাষাতেই আড় ভাঙ্গেনি এখনও, রইল বাকি গৌতম দেব!!!! নিজেকে কি করে হাসির খোরাক বানাতে হয় সেটা ওর থেকেই শেখা ভাল। ভেবে নেওয়া যাক যদি বামেরা কংগ্রেসকে মুখ্যমন্ত্রীর নাম দিতে বলে, কার নাম বলবে কংগ্রেস? আছে কি এমন কোন বিশ্বাসযোগ্য নাম যাকে সামনে রেখে বাম-কংগ্রেস নির্বাচনী জোট করে ভোটে যাওয়া যায়।
বিহারের নির্বাচনে যদি লক্ষ্য করা যায় তাহলে দেখা যাবে যে, লালু নীতিশের দূরত্ব থাকলেও নীতিশ ছাড়া যে মুখ নেই- তা বুঝে নিতে জোটে অংশ গ্রহণ কারি কোন দলের বুঝতে অসুবিধে হয় নি। কংগ্রেসের বিহারে না ছিল জনভিত্তি না ছিল বিশ্বাস যোগ্য নাম । সোনিয়া গান্ধির মহাজোটে যোগদানের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল সেকারনে কংগ্রেসকে ৪ থেকে ২৭ এ পৌঁছে দিয়েছে।পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস এর হাড়ির হাল দিল্লির অজানা নয়। আজ যে গোষ্ঠী কাউকে সভাপতি করতে বলে সেই গোষ্ঠী কাল ওকে সরাতে দারবার করে। সিনিয়ার নেতাদের সঙ্গে বর্তমান সভাপতি গোষ্ঠীর একদম বনিবনা নেই, যে যার জেলার সমীকরণ নিয়ে ভাবিত, কোন অঙ্কে গেলে নিজেরা বিধায়ক থাকতে পারবে দলের চেয়ে বেশি ওই ভাবনাতেই ডুবে আছে।যারা কংগ্রেস এর একা নির্বাচনে লড়া উচিত বলে গলা ফাটাচ্ছেন তাদেরকেই জিজ্ঞাসা করছি কে হবেন আপনাদের সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীর নাম? দিল্লি সব জানে কার কত দৌড়।এই অবস্থায় দিল্লির উচিৎ বিহারের মত তাড়াতাড়ি সঠিক সিদ্ধান্ততে পৌছনো। আর রাজ্য নেতাদের নির্দেশ প্রদান করা এই মর্মে তোমরা যেহেতু সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক নও সেহেতু চুপ করে থাক।সংবাদের শিরনামে আসার জন্য বাজার গরম করো না।
পরিশেষে যা না বললেই নয়, পশ্চিমবঙ্গে মমতা দিদির সরকার দুর্নীতির বল, অপশাসন বল, নোংরামি বল, সাড়ে চার বছরের শাসনে বাম ৩৪ বছরের কান মুলে দিয়েছে। অস্বীকার করার কোন জায়গা নেই তবুও বলছি না বাম না কংগ্রেস দলে এমন কোন নাম নেই যা মমতা দিদির পরিবর্ত নাম হতে পারে। এমন কেউ নেই যার ছবি আর নাম ভোট বৈতরণী পার করে দেবে। তৃনমূলে গোষ্ঠীবাজী যতই থাক মমতার হুংকারে সকলে সামলে নেবে। কারন মমতা তাড়িয়ে দিলে কোথায় যাবে? কংগ্রেস এ যেতে পারা যায় কিন্তু ভোটে জেতার সম্ভাবনা শূন্য। পাগলেও নিজের ভাল বোঝে আর এরা তো বুঝবেই কারন এরা স্বার্থপর নেতা। মানতেই হবে পশ্চিমবঙ্গে একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে বামেরা পরীক্ষিত, তৃনমূলও পরীক্ষিত, দীর্ঘ দিন কংগ্রেসকে পরীক্ষার কষ্টি পাথরে যাচাই করা হয় নি। সব গোষ্ঠীবাজী ভুলে দলকে সাজালে ভাল সুযোগ অপেক্ষা করছে কংগ্রেস এর পক্ষে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *