১৪ই মার্চ ২০০৭ নন্দিগ্রাম আন্দোলনের ১০ বছর ### ফিরে দেখা।

1005pg13bযারা বলেন ‘সিঙ্গুর ও নন্দিগ্রাম আন্দোলনে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক উত্থান ঘটিয়েছে।এমনটা সংখ্যাগুরুদের মত কিন্তু আমি ঐ সংখ্যাগুরুদের সঙ্গে একমত নই।আমার ধারনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একজন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উত্থান অনিবার্য ছিল,মমতা তারই ফসল।সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম তাকে হয়তো একধাপ এগিয়ে দিয়েছে।কিন্তু আমার ব্যক্তিগত ধারনা সিঙ্গুর বা নন্দিগ্রাম আন্দোলন হলো ভারতীয় রাজনীতির আধুনিক পাঠশালা। যিনি বা যারা সঠিকভাবে এই পাঠশালায় পাঠ নিতে পারবেন আগামী দিনে তিনি ভারতের রাজনীতিতে মমতার মত সফল ও জননেত্রী হবেন।

প্রবল প্রতাপশালী পুঁজিপতি সালেম গোষ্ঠীর কাছে পশ্চিমবঙ্গের তদানীন্তন শাসক বাম সরকার মাথা টেকে দিয়ে ছিল।নিরস্ত্র এবং নিরীহ গ্রামবাসীদের ওপর অত্যাচার চালানোর জন্য প্রায় চার হাজারের ওপর পুলিশ ও পেটোয়া ক্যাডার বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছিল।যার পরিনামে ১৪ জন মানুষকে প্রান দিতে হয়েছিল।বাস্তব শিক্ষা এটাই যখন জমিদানে অনিচ্ছুক নিরস্ত্র কৃষকের কাছে প্রবল ক্ষমতাশালী শাসক পরাস্ত হয় তখন বুঝতে হবে এখানে মমতা বা অন্যরা উপলক্ষ মাত্র।কারন প্রতিরোধ নিরীহ গ্রামবাসীরাই করেছিল।আন্দোলন মর্মের উপাদান অন্য কোথাও ছিল।

এতকাল জেনেছি বা শুনেছি বড় পুঁজি ছোট পুঁজিকে গিলে খায়, তাই কৃষকের জমি ছিনিয়ে গড়ে ওঠে পুঁজিপতির কলকারখানা।বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বাম সরকার সেই কাজটিই করতে চেয়েছিলেন।শেষরক্ষা যে হয়নি তার সাক্ষী আজ ইতিহাস।১৪ জন মানুষ মৃত্যুকে বেছে নিতে রাজি ছিল রাজি ছিলনা শুধু নিজের জমি থেকে হটে যেতে।

Lalgarh: The Trinamul leader Mamata Banerjee and Medha Patkar at the rally aɬ¢a¢,Äö¬¨aÖ,ÄúLalgarh Chaloaɬ¢a¢,Äö¬¨aǬù to protest against the violence at Lalgrah in Paschim Medinipur district of West Bengal, the hard belt Maoist. Photo: Arunangsu Roy Chowdhury. Aug 09, 2010. Kolkata.

আপাত দৃষ্টিতে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম-জঙ্গলমহাল পশ্চিমবঙ্গে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বা বাম জামানার জন্য কালো অধ্যায়।আর বিপরীতে মমতা বন্দোপাধ্যায় আন্দোলনের প্রতিক।গনগনে সূর্য আর সেই জন্য এই আন্দোলনের সফলতার মালার প্রাপক হিসেবে বিবেচিত হবে ঠিকই,কিন্তু এর অন্তরালে পশ্চিমবাংলা বা ভারতীয় রাজনীতিতে যে নবচেতনার উদয় হল সেটা আড়ালে থাকলে তা ইতিহাসের সঠিক পাঠ হবে না।

এখন প্রশ্ন হলো পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একজন মমতার উত্থান ঘটলো কেন? কেনই বা তা ছিল অনিবার্য। মমতার সাদামাটা পরিচয় মমতা ছিল যে তিনি এককালের একজন সাধারন কংগ্রেস কর্মী ছিলেন। তিনি বাম জমানায় রাজপথে নেমে মানুষের জন্য লড়েছেন।কংগ্রেস তার এই লড়াইয়ে বাধ সাধলে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে নিজেই দল গড়েছেন।নাম দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস। তার রাজনীতির মূল উপাদান হলো দলের নামের ‘তৃণমূল’ অংশটি।পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু-মুসলিম, বাঙালি-অবাঙালি, আদিবাসী, ভূমিপুত্র অর্থাৎ সমাজে নানাভাগে বিভক্ত তৃণমূল অংশের ব্যথা-বেদনা, বঞ্চনা, অপমানকে মূলধন করেই মমতার রাজনৈতিক উত্থান।১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় থাকা দুটি সর্বভারতীয় দল কংগ্রেস এবং সিপিএম যা পারেনি। তারা বৃহৎ ভারতের স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে আমল দেয়নি।তার খেশারত দিয়েছে সেই সমাজের প্রান্তিক বা তৃণমূল অংশ।ঐ অংশরা বুঝেছে মমতা তাদেরই।আর সে কারণেই মমতার অপ্রতিরোধ্য উত্থান, বিজয়।

আর সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রাম হলো  স্বাধীন ভারতের জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস, সাম্যবাদী বামপন্থা আর হিন্দুত্ববাদের পদতলে পিষ্ট ধর্ম-গোত্র-বর্ণহীন, তাত্ত্বিক পরিচয়হীন মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিক।

আজ আন্দোলন অতিক্রান্ত ১০ বছরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।শহীদের রক্ত হবেনাকো ব্যর্থ

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *