স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর জন্মদিনে আমাদের শুভেচ্ছা।

 

jawaharlal-nehru-9421253-1-402

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম প্রধান নেতা  এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জহরলাল নেহেরুর আজ জন্মদিন।এই দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, আদর্শবাদী নেতার জন্মদিনকে শিশুদিবস হিসাবে পালন করা হয়।১৮৮৯ সালে আজকের দিনে এলাহাবাদ শহরে আনন্দ ভবনে জন্মগ্রহন করেন।পিতা সেকালের প্রখ্যাত ব্যারিস্টার মতিলাল নেহেরু ও মাতা স্বরুপ রানি।

আনন্দ ভবনে পাশ্চাত্য পরিবেশ থাকলেও পিতা মতিলাল পুত্র জহরলালকে ইংরাজি শিক্ষার পাশাপাশি হিন্দি ও সংস্কৃত শিক্ষা সমান্তরাল চলত।১৫ বছর বয়সে জহরলাল ইংল্যান্ডে হ্যারোতে পড়তে যান। এরপর তিনি কেমব্রিজে ব্যারিস্টারির পাঠ শেষ করেন।ইংল্যান্ডে থাকা কালীন তিনি ভারতীয় ছাত্র সংসদের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।এই সময় সমাজতন্ত্রের প্রতি তার বিশেষ অনুরাগ লক্ষ করা যায়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নিজেকে আইনজ্ঞ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি ভারতীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে নেন।এই সময় তাকে সামাজিক সমস্যা ও স্থানীয় সরকারের প্রতি বিশেষ নজর দিতে দেখা যায়।১৯২৪ সালে এলাহাবাদ মিউনিসিপাল কর্পোরেশনে সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯২০ সালে নিখিল ভারত শ্রমিক ইউনিয়ন কংগ্রেসে সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯২৯ সালে লাহোর সম্মেলনে গান্ধীজীর পরামর্শে তিনি কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হন।১৯২৯ সালে ৩১ ডিসেম্বর রাভি নদীর তিরে এক জনসভায় স্বাধীন ভারতের পতাকা উত্তোলন করেন। ১৯৩০ সালে ২৬ জানুয়ারি কংগ্রেস পূর্ণ স্বরাজের ডাক দেয়, নেহেরু লবনের ওপর করারোপ করার বিরুদ্ধে গুজরাট সহ দেশের অন্যান্য প্রান্ত ঘুরে ঘুরে এই আন্দোলনের পক্ষে যোগদানের আবেদন করেন। ১৯৩১ থেকে ১৯৩৫ মাত্র চার মাষ ছাড়া বাকি সময় স্ত্রী, কন্যা ও বোন সমেত কারারুদ্ধ হন।

লখনউ সম্মেলনে ভবিষ্যৎ ভারতের অর্থনৈতিক নীতি হিসাবে সমাজতন্ত্রকে বেছে নেওয়ার স্বপক্ষে সওয়াল করেন।১৯৪৭ সালে ১৫ই আগস্ট ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন।তার শাসনকালে ভারতে ব্যাপক শিল্পায়ন হয়। এই সময়ে ভারত পাকিস্তান ও ভারত চিন যুদ্ধ সংগঠিত হয়।নেহেরু চিরকাল শান্তির পক্ষে সওয়াল করে গেছেন।১৯৬৪ পর্যন্ত তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

নেহেরু একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখক ছিলেন। তার লেখা   An Autobiography, Glimpses of the World History, and Discovery of India  এই তিনটি বই আজও পাঠককুলের কাছে মর্যাদার আসনে বসে আছে।

১৯৬২ সালে চিন ভারত যুদ্ধের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন।বিশ্রাম নিতে কাশ্মীর গিয়েছিলেন।১৯৬৪ সালে মে মাসে কাশ্মীর থেকে ফেরার পরে হৃদ রোগে আক্রান্ত হন। ১৯৬৪ সালে ২৭সে মে মৃত্যু বরন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *