শ্রদ্ধেয় মানস বাবু … দেবাদিত্য দেবাংশী।

Kolkata: Former West Bengal Congress President Manas Bhuniya is offered juice by an envoy of Congress President Sonia Gandhi to break his 6-day long fast against State Government, in Kolkata on Monday. PTI Photo (PTI9_21_2015_000228B)শ্রদ্ধেয় মানস বাবু আপনাকে জানাই অগ্রিম বীজমুলি সুভেচ্ছা…আশা করি ভাল আছেন।ভাল তো আপনি থাকবেনই,বাংলার ২কোটি ১৫লক্ষ জোটপন্থী ভোটারের আবেগ আর ভালবাসাকে এত সুন্দর ভাবে আপনি বিক্রি করলেন-সত্যি আপনার এলেম আছে! নিজের ভাইকেও তৃনমূলে পাঠিয়ে দিলেন!

মানস বাবু আমি কৃষ্ণপ্রসাদ জানার অতৃপ্ত আত্মা বলছি,যেদিন আমার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অনশনে বসেছিলেন সেটাকি আপনার ভোটের রাজনিতি ছিল?নাকি নিজেকে লাইমলাইটে আনার জন্য ছিল!… আজ ভাবতেও আমার গা ঘিন ঘিন করছে।

getimage

মহাজাতি সদনে বড় বড় বক্তৃতা দিতেন আপনার ছাত্র আন্দোলনকে বিষয় করে অথছ আজ যখন ছাত্র পরিষদ তৃনমূলের সন্ত্রাস ও অপশাসনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ আন্দোলন করতে চাইছে তখন আপনি এবং আপনার কিছু পেটোয়া চামচা পেছন থেকে ছুরি মারার খেলায় মেতে উঠেছে!কনক দেবনাথ এমনি একজন নেতা যাকে ওনার বাড়ীর পাশে পানের দোকানিও চেনে না!নেগেটিভে রাজনিতি আর বড় নেতাদের উমেদারি করে চালিয়ে আসছিলেন এতদিন- অধীর বাবুর দোষ হল- উনি এইসব নেতাদের সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন- হয় দলের কাজ কর নাহলে যারা কাজ করতে চায় তাদের জায়গা ছেড়ে দাও। খালিদ ইবাদুল্লাহ নিজেকে সংখালঘু নেতা বলে কিন্তু আড়াই বছরে প্রদেশ কংগ্রেস সংখালঘু সেলের চেয়ারম্যান হিসাবে সাচার কমিটির রিপোর্ট ভিত্তি করে একটাও সুপারিশ আন্দোলন করেন নি।ব্যাঙ্কের প্রদেয় ঋণ যিনি নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না করতে পারার কারনে সিবিয়াই কেস করে এহেন ব্যক্তিকে সঙ্গী করে মানস বাবু আপনি কতদুর যেতে পারবেন?একবার ভাবুন। অজয় ঘোষ আদতে ব্যবসাদার, আজ থেকে ১৫ বছর আগে কি ছিলেন,কি ভাবে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হল বরানগরের মানুষ ভালকরে জানেন।জেলা কংগ্রেসের মেম্বার হওয়ার যার যোগ্যতা নেই তাকে আপনি প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারন সম্পাদক করেছিলেন-লোকে বলে আপনার রাজনিতির পেছনে টাকা ঢালার প্রতিদান দিয়েছিলেন।মনোজ পাণ্ডের কোন জাত নেই,দিল্লির নেতাদের খিদমত খাটা ওর কাজ-আজ মনে হয় সন্তোষ পাঠক মনোজকে আপনার সামনে কেলিয়ে ভাল করেছিল।মানস বাবু এই আপনার সৈন্যবাহিনী!এই বাহিনী দিয়ে আর যাই হোক অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে লড়া যায় না!!!

Manas-Bhunia-mamata.jpg.image.975.568

মানস বাবু আপনার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া আজ আপনাকে সব ভিলিয়ে দিয়েছে!দীর্ঘ এত বছর পর কংগ্রেস আজ বিধানসভায় বিরোধী দল হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।মানুষ এই সুযোগ দিয়েছে।রাজ্জ্যে আজ ১ কোটি বেকার,নতুন কোন শিল্প সম্ভাবনা নেই,রাজ্জ্য জুড়ে চূড়ান্ত অরাজকতা চলছে, তৃনমূলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা প্রকাশ্যে তোলা তুলছে, তৃনমূল প্রতিদিন পরিকল্পনা করে কংগ্রেস দলকে ভেঙ্গে টুকরো করার খেলায় নেমেছে।এই পরিস্থিতিতে কোথায় আপনি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করবেন, আপনি তা নাকরে তৃনমূলের অঙ্গুলি হেলনে কংগ্রেসকে পেছন থেকে ছুরি মারছেন!শুধু মাত্র পিএসি’র চেয়ারম্যান থাকার জন্য।ভুলে যাবেন না আপনি যখন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন তখন সকলকে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলার উপদেশ দিতেন কিন্তু আজ অবাক হচ্ছি, যখনই নিজের স্বার্থ সামনে এল তৎক্আষণাৎ আপনি নিজের দেওয়া উপদেশের কথা বেমালুম ভুলে গেলেন! সত্যি-আপনি পারেন দাদা!আপনার সময়ে বিধানসভায় বিরোধী দল ছিল সিপিএম তাহলে কি করে আর কোন আইনে ‘জিএস সোহনপাল জি’ পিএসি’র চেয়ারম্যান হয়েছিলেন?এর থেকেও বড় কথা সমগ্র বিষয়টা তো ঠিক করবে নির্বাচিত বিধায়করা, সেখানেও তো আপনি সংখালঘু তাহলে এত দিল্লি যাওয়া, প্রতিদিন সংবাদপত্রে বিবৃতির লড়াই চালানোর কর্মকাণ্ডগুলো কি তৃনমূলের নির্দেশে কংগ্রেসকে খাস্তা করার প্লান?পিএসি পদের বিনিময়ে!

CfNvpLlUAAA862r

মানস বাবু আপনি প্রায়শই বলে থাকেন যে আপনি ৪৬ বছর কংগ্রেস করছেন, এই বছরগুলোতে আপনি কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে সব পেয়েছেন, আপনার স্ত্রী, তিনি কবে কংগ্রেসের সক্রিয় আন্দোলনে অংশগ্রহন করেছিলেন আমি কেন কারোরই জানা নেই কিন্তু তবুও  আপনি তাকেও এআইসিসি মেম্বার করেছিলেন।অনেক উপযুক্ত দাবিদারকে বঞ্চিত করে- এটাকে কি বলবেন?শৃঙ্খলাভঙ্গ নয়!আজ যখন অধীর চৌধুরী সভাপতি এবং যখন আপনার সব অভিযোগ অধীর বাবুর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গকে কেন্দ্র করে তখন যদি কোন কংগ্রেস কর্মী আপনার দিকে আঙ্গুল তোলে-তার উত্তর আপনি কি দেবেন?আপনি নিজে যে দোষে দুষ্ট অপরকে অভিযুক্ত করেন কোন যুক্তিতে!আসলে আমার যেটা মনে হয় অধীর বাবু সভাপতি হওয়ার পর থেকেই আপনি ঈর্ষার জ্বালা ও অস্তিত্ব হিনতায় ভুগতে শুরু করেছিলেন।নিজে আর প্রদেশ সভাপতি নেই, ভবিষ্যতেও হতে পারবেন কিনা তারও নিশ্চয়তা নেই,মন্ত্রিত্ব নেই,শুধু মাত্র বিধায়ক হয়ে দলের কাজ করবেন সেই মানসিকতাও হারিয়ে ফেলেছেন তাই ক্ষুধাতুর মানুষ যেমন খাদ্যের গুনামান বিচার না করেই খেতে শুরু করে দেয় আপনার অবস্তাও তাই হয়েছে।এমন নেতার আমাদের দলে দরকার নেই।অনেক হয়েছে,অনেক নাটক করেছেন এবার মানে মানে বিদেয় হন।কংগ্রেসের টিকিতে জিতে অনেকেই দল ছেড়েছেন তাদের হালত আজ কি সেটা সকলেই দেখছে।ভোটাররা বেইমানদের ক্ষমা করেনা।অজয় দে,ইমানি বিশ্বাস, সাবিত্রি মিত্র, অসিত মাল, কৃষনেন্দু চৌধুরী,লেবু বাবু এরা সকলেই জলন্ত উদাহরন।আপনার যদি হিম্মত থাকে বিধায়ক পদ ত্যাগ করে আবার জিতে আসুন তার পর আপনার ভাষণ শুনবো।খুব খারাপ লাগছে এই কথাগুলো লিখতে কিন্তু নিরুপায়-আমরা দলের স্বার্থে ও প্রয়োজনে কাউকেই রেয়াত করি না।আপনার রাজনৈতিক যোগ্যতা,বাগ্মিতার প্রতিভা নিয়ে আজও আমার মনে একবারও সংসয় দেখা দেয় না কিন্তু স্বার্থসর্বস্য আপনার এই নগ্ন রুপ আমি কোনদিন কল্পনাতেও আনি নি।আজ সত্যি ভারাক্রান্ত লাগছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *