“শাষকের চরিত্র কবে বদলাবে”? লিখেছেন, সৌম্য আইচ রায়।

20150227001645৬০এর দশকের রক্তঝরান আন্দোলনের পর বাংলার মরুভূমিতে যখন সন্ধ্যা নেমে আসে,পরিশ্রান্ত যোদ্ধারা ঘরে ফেরার তাগিদ অনুভব করে।চারু মজুমদার,কানু সান্যালরা দণ্ডকারণ্য বা বস্তারের জঙ্গল বেছে নেয়।নিঃশেষ হয় না কিন্তু স্ফুলিঙ্গের মতো আজও রক্ত ঝরায়।বিপ্লবী বাংলা নবকলেবরে রুপান্তরিত হয় গনতান্ত্রিক সমাজবাদের পথে।চিনের চেয়ারম্যান মাও সে তুং পরিবর্তিত হতে হতে আয়নার সামনে থমকে দাঁড়িয়ে সমাজবাদের পথপ্রদর্শক সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী গান্ধী ও নেহেরুকে খুঁজতে শুরু করে।বহু বিপ্লবের সাক্ষী মনুমেন্ট বা রাইটার্স বিল্ডিং মুচকি হাসি হাসতে থাকে।মরুভূমিতে রাত্রির স্নিগ্ধতা ও শীতলতা ক্ষণস্থায়ী হয়।

শাষক  তার চরিত্র বদল করেনা কখনই।গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা কোনও শাসকের দান নয়।নয় কোনও শাষকের বদান্যতা,এটা আমার বেঁছে থাকার প্রথন শর্ত,আমার অধিকার,আমার মর্যাদা,আমার সম্মান।শাষকের মস্তিষ্কের ভেতর উপনিবেশিকতা,সামন্তবাদ ও শোষণ থেকেই যায়। তখন শুরু হয় মূল্যবোধের অবক্ষয়, সর্বগ্রাসী ভয়ঙ্কর দমনপীড়ন।তর্জনী উঁচু করে বলে আমি শাষক,শোষণটা আমার অর্জিত অধিকার। আমরাই ঠিক, আমাদের সবটাই চাই,তোমরা ভুল।আমরাই ঠিক করে দেব তোমার ভাগ্য,আমিই নিয়ন্ত্রক।আমার হাতেই ধরা আছে তোমার মরা বাঁচার চাবিকাঠি।

বাংলায় কিন্তু আদর্শের মৃত্যু হয়না বলেই জানতাম কিন্তু আমি নির্বোধ প্রমানিত হলাম,এসমাজে আমি এক অচল পয়সা যার কোনও মুল্য নেই।

3C7CF4DE00000578-4151160-image-a-1_1485342453177

দম্ভ,অহঙ্কার,নিপীড়ন ও শোষণ সেদিন জন্ম দিয়েছিল-মরিচঝাঁপি,সাঁইবাড়ি,নন্দিগ্রাম, নেতাই এবং ২১ শে জুলাই শাসকের নির্মম অস্রধ্যা গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে।কিন্তু কি আশ্চর্য,বিশ্বাস আজও মরেও মরেনা। আজও খোঁজে রবীন্দ্রনাথ,নজরুল,রামকৃষ্ণ,চৈতন্য ও লালনের বাংলাকে।আজও আমার রক্তে আয্যাবর্তের হিন্দুত্ব বাসা বাঁধেনি কর্কট রোগের মতো।

প্রকৃতির নিয়মের মতো শাষক বদল হয়ে গেল।কিন্তু রক্ত ঝরা?অব্যাহত।শাষক বললেন তোমরা তো আগে অনেক ঝরিয়েছ আমরা সেই তুলনায় কিছুই না।এটুকু তোমাদের প্রাপ্য।কারন আমি আজ শাষক তাই তুমি শোষিত হতে বাধ্য। আজও বহু শহীদের আত্মা বাংলার প্রান্তরে প্রান্তরে ঘুরে বেরিয়ে বলে আমার আত্মা তো শাষক হয়েছে তাহলে আজ কেন সেদিনের হত্যাকারিরা পুরস্কৃত তোমার বদান্যতায়?সেদিনের ফেলানি বসাক বা অনিতা দেওয়ানরা তো আজকেও কামদুনি ও সুটিয়ায় মুখ লুকোয়।

তবে কি লাশের প্রয়োজন হয় আজকের ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছানোর জন্য?আমি তো বাংলায় নব যৌবনের গান গাইতে চেয়েছিলাম,যদি সেই গান পল রব সন বা কালিকাপ্রসাদের হয় তাহলে ক্ষতি কোথায়!

আমার হাত তো আজও কাজ খোঁজে, দিনের শেষে খোঁজে বৃদ্ধ বাবা-মা ও পরিজনদের নিরাপত্তা।আমিতো আজও উন্নয়নের জন্য তাকিয়ে রয়েছি তবে সেটা ইট,কাঠ,পাথরের নয়,মানবিকতা ও মনুষ্যত্বের।শাষকের নতুন খেলনা সাম্প্রদায়িকতা,সেটা নাকি ভয়ঙ্কর রাক্ষসের মতো আমায় হত্যা করবে।এটা তো ঠিক- নাগপুরের কমলালেবু সাগরপারের ক্যালিফোর্নিয়ার কাছে হেরে গেলেও,সেই সাম্প্রদায়িকতা ভারতের বাস্প বিষিয়ে তুলছে।কিন্তু আমিতো অসুস্থ,মৃতপ্রায়,মৃত্যুপথ যাত্রী। আমার দু চোখে স্বপ্নের মৃত্যু তো বহুকাল আগেই হয়েছে।কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলাম তাতে তোমার কি যায় আসে।শাষকের শুধু সংখ্যা প্রয়োজন হয় আর আমিতো শাষকের কাছে সংখ্যা বইতো অন্য কিছু নই!

লাশকাটা ঘরে আমার পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে ঝোলানো সাদা টিকিতে লেখা কয়েকটা সংখ্যা,শুধু দিনের শেষে মিলিয়ে নেওয়ার পালা,এই টুকুই যা।এটা আমাদের ওটা তোমাদের।

হে আমার বাংলা মা,তোমায় আমি আজও ভালবাসি।তোমার হয়তো বস্ত্র শতছিদ্র ছিল, পাইনি হয়তো নিয়নের আলোয় তোমায় দেখতে।পারবে তো বেনারসি শাড়ি পরে ঝলমলে আলোর তলায় সন্তানহিনা হয়ে থাকতে?

সৌম্য আইচ রায়

সৌম্য আইচ রায়

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *