“লাগা লাগা, ধাক্কা লাগা- জোরসে লাগা’– দেবাশীষ পাইন।

wb-kcnB--621x414@LiveMintকলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গ  নির্বাচন কমিশনের ১০ই এপ্রিলের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে দিয়েছে। হাইকোর্টের এই রায় ঘোষণার পর রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকার জোর ধাক্কা খেল। আদালতের পক্ষ থেকে আজ মনোনয়ন পেশ করার জন্য দিন আরও একদিন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পঞ্চায়েত নির্বাচনে অনিয়ম, মনোয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় বাধা দান ও জেলায় জেলায় সন্ত্রাস সৃষ্টি ইত্যাদির অভিযোগে বিরোধীরা হাইকোর্টে মামলা করেছিল। এই মামলায় প্রথম ও প্রধান উদ্যোগ গ্রহন করেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ সভাপতি ও সাংসদ শ্রী অধীর চৌধুরী। আদালতের কর্মবিরতির তোয়াক্কা না অ্যাডভোকেট ইন পারসেন হিসাবে হাইকোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের এজলাসে রাজ্যসরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সওয়াল করেন। একই বিষয়ে সিপিএম ও বিজেপিও  হাইকোর্টের দ্বারস্ত হয়। গত বৃহস্পতিবার ১৯।৪।১৮ তারিখে তার শুনানি শেষ হয়।

শুনানির শুরুতেই বিচারপতি সুব্রত তালুকদার বলেন, দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে। সেজন্য সব পক্ষই যেন তাদের সাফাই আইনি যুক্তির ওপরেই সীমাবদ্ধ রাখেন। এই বিষয়ে আদালতে সকলের নজর কেড়েছেন প্রদেশ সভাপতি শ্রী অধীর চৌধুরী। নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু, শানিত যুক্তি ও ঝরঝরে ইংরাজিতে যেভাবে তিনি সওয়াল করেছেন তাতে দুঁদে পেশাদার আইনজ্ঞ থেকে বিচারপতি সকলকেই অবাক করে দিয়েছেন।বিচারপতি তালুকদার নিজেকে সামলাতে না পেরে বলেই ফেললেন- যদি ভবিষ্যতে ওকালতি করার ইচ্ছা পোষণ করেন তাহলে নিশ্চিত করে বলতে পারি আপনি সফল হবেন।

উল্টো দিকে, আদালতে বিচারপতির রায় ঘোষণার পর তৃনমূল কংগ্রেসের পক্ষে আইনজ্ঞ, সাংসদ কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসভ্য আচার আচরণ ও আইনের জ্ঞান নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। এজলাসে উপস্থিত অনেক অ্যাডভোকেট কল্যান বাবুর সওয়াল জবাবকে নিতান্তই ছ্যাবলামি ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারেন নি।

তৃণমূলের এমপি ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কংগ্রেস, বিজেপি ও সিপিএম গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করেছিল, তা খারিজ হয়ে গেছে। রায় ঘোষণার পর যে আইনজীবী এই ধরনের বিভ্রান্তিমুলক প্রচার করতে পারেন হয় তিনি আদালতের রায় বুঝতে অক্ষম নাহলে তার দায়িত্বজ্ঞান বোধটাই নেই।আদালতের বাইরে এসে চিৎকার চেঁচামেচি, একদল তৃনমূলের ধামাধরা আইনজীবীদের নিয়ে মিছিল সকলের কাছে নিন্দার বিষয় হয়েছে।তৃনমূল আইনজীবীদের এজলাসের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা হতাশা ছাড়া আর কিছুই প্রমান করে না। আসলে উনি এই পর্যায়ের মানুষ। অতীতেও একাধিকবার ওনাকে রুক্ষ ব্যবহার ও অসংযমী বাক্য প্রয়োগের জন্য ধিকৃত হতে হয়েছে।

পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেয়ার মেয়াদ প্রথমে বাড়িয়ে পরে তা বাতিল করে দেওয়ায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দু’টি বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে কোলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল বিজেপি।রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচনি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার পরে আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

hqdefault

গত ৯ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট জানায় তারা এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। কোলকাতা হাইকোর্টেই পঞ্চায়েত নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হবে। পরে ওই মামলা হাইকোর্টে ফিরে আসে।

রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী আদালতের এই রায়কে ঐতিহাসিক রায় হিসাবে দেখছেন। তিনি বলেন আদালত আর মানুষের ওপর ভরসা রেখেছিলাম বলে এই রায় পেলাম।‘নির্বাচনে যাতে মানুষ অংশ নিতে পারে সেজন্য হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন হোক। কারণ, আমাদের রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উপর কোনো ভরসা নেই। সেজন্যই আমরা আদালতে এসেছি। যদি নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকার ঠিকভাবে চলে তাহলে আদালতে এলাম কেন আমরা? আদালতে যখন এসেছি তাহলে আদালতের পর্যবেক্ষণে নির্বাচন হতে আপত্তির কী থাকতে পারে?’

রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই রায়কে বিরোধীদের জয় হিসাবে দেখছেন।সরকার পক্ষ ফন্দি করেছিল  হুড়োহুড়ি করে নির্বাচন করে দেবেন, বিরোধীরা প্রস্তুত হতে পারবে না। পিছনের দরজা দিয়ে জিতে যাবেন, সেটা হচ্ছে না।

এবার রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন কমিশনকে নতুন করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে হবে। একই সঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য আরও এক দিন বাড়াতে হবে, যাতে সবাই মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন।

মমতার দ্রুত নির্বাচন করার পরিকল্পনা বেদম ধাক্কা খেল।বেগতিক বুঝে এখন উনি গনতন্ত্রের ওপর আস্থার সাফাই গাইছেন। মহিলা ক্যান্ডিডেটদের যখন তৃনমূলী পুরুষ গুণ্ডারা চুলেরমুঠি ধরে রাস্তায় ফেলে পেটাচ্ছিল, নির্বাচিত মহিলা বিধায়িকা ফিরোজা বেগমকে নিগৃহীত করছিল তখন একটু গনত্রন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে মানাতো। এখন বেকায়দায় পড়ে রামজান মাসের দোহাই পেরে, বিরোধীরা নির্বাচন চাইছেনা তো আমি কি করতে পারি এসব ব্রজবুলি আউরালে কেউ শুনবে? ৯৯% উন্নয়ন করেছে দাবি করা  রাজনৈতিক দলকে যদি পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেতার জন্য এই মাত্রায় সন্ত্রাশের পথ বেঁচে নিতে হয় তাহলে সেই দলের নির্বাচনে না জেতাই উচিত। উন্নয়নের কি দরকার ছিল?

এই প্রসঙ্গে জলি এলএলবি সিনেমায় বিচারকের উক্তিটি বেশ প্রাসঙ্গিক লাগছে।আমাদের দেশে অন্যায় আছে, অবিচার আছে, আদালতে একটা মামলার নিস্পত্তি হতে দেরি হয় কিন্তু তবুও, এখনও এই দেশের মানুষ আদালতের প্রতি ভরসা রাখে তাই এখনও লোকে বলে– আই উইল সি ইউ ইন কোর্ট। তোমায় আদালতে দেখে নেব।

দেবাশীষ পাইন

দেবাশীষ পাইন

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *