রাষ্ট্রগুরু-সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীর আজ জন্মদিন।

e0a6b0e0a6bee0a6b7e0a78de0a69fe0a78de0a6b0e0a697e0a781e0a6b0e0a781-e0a6b8e0a781e0a6b0e0a787e0a6a8e0a78de0a6a6e0a78de0a6b0e0a6a8e0a6be

স্যার সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী (জন্ম: ১০ নভেম্বর, ১৮৪৮ – মৃত্যু: ৬ আগস্ট, ১৯২৫)ব্রিটিশ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম যুগের একজন বিশিষ্ট নেতা। তিনি ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর রাজনৈতিক সংগঠন ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রতিষ্ঠাতা। পরে এ দলটিকে নিয়ে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। তাঁকে রাষ্ট্রগুরু সম্মানে ভূষিত করা হয়।

১৮৪৮ সালের ৩০ নভেম্বর কলকাতায় সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম। তাঁর বাবা দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন সে যুগের একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক। ছোটবেলা থেকে সুরেন্দ্রনাথ লড়াকু প্রকৃতির ছিলেন এবং এই লড়াই করার মানসিকতার জন্য  ব্রিটিশ শাসকরা তাকে “Surrender Not” Banerjee বলে সম্বোধন করতেন। ১৮৬৯, জীবনের প্রথম আই. সি. এস. পরিক্ষাতে বসেতে গিয়ে বয়স সংক্রান্ত এক বিবাদে জড়িয়ে পড়ে পরিক্ষা দিতে পারেন নি। এই ঘটনা কিশোর সুরেন্দ্র কে এক বড় লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করে দিল। তার পর ইংল্যান্ডের আদালতের দ্বারস্থ হয়ে, ১৮৭১ সালে দ্বিতীয় ভারতীয় হিসাবে আই. সি. এস. পরীক্ষা উত্তীর্ণ করে দেশে ফিরে আসেন। তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার শিলেটে, সহকারী ম্যাজিস্ট্রেট পদে যোগ দেন; কিন্তু জাতিগত ভেদাভেদের জন্য তাঁকে বরখাস্ত করা হয় ।

জাতীয় নেতৃত্বে জোড়ালোভাবে অংশগ্রহণ করার লক্ষ্যে তিনি পুণরায় ইংল্যান্ডে গমন করেন।
১৮৭৫ সালে পুনরায় মাতৃভূমি ভারতে ফিরে আসেন এবং শিক্ষকতার মহান পেশায় নিজেকে নিযুক্ত করেন। ইংরেজীর প্রফেসর হিসেবে প্রথমে মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন এবং সর্বশেষে রিপন কলেজে যোগ দেন। পরবর্তীকালে এই রিপন কলেজই তার নামে নামকরণ করা হয় সুরেন্দ্রনাথ কলেজ হিসেবে।

১৮৭৬ সালে সুরেন্দ্রনাথ সর্বভারতীয় আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভারতীয় সংঘ বা দি ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৭৮ সাল হতে তিনি বেঙ্গলী শিরোনামে একটি কাগজ সম্পাদনা করতেন। জাতীয় সংস্কৃতি, একতা, স্বাধীনতা ও মুক্তির বিষয়ে নিয়মিত লিখতেন।এছাড়াও, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয় বিধানসভার অন্যতম সদস্য ছিলেন। ১৮৭৬-১৮৯৯ সাল পর্যন্ত একাধারে তিনি কলকাতা কর্পোরেশনেরও সদস্য হিসেবে ছিলেন।

তার সুদক্ষ ও সুচারু নেতৃত্বের ফলে ভারতীয় সংঘ অল্প সময়েই জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে জায়গা করে নেয়। ১৮৮৩ সাল থেকে ভারতের সকল এলাকা থেকে আগত প্রতিনিধিদের নিয়ে নিয়মিতভাবে বার্ষিক সভা পরিচালনা করতেন তিনি। ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা পায়।জাতীয় কংগ্রেসের  লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ভারতীয় সংঘের সাথে মিল থাকায় ১৮৮৬ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের ২য় অধিবেশনে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়  ভারতীয় সংঘকে কংগ্রেসের সাথে যুক্ত করেন।

কংগ্রেস গঠন হবার পর সুরেন্দ্রনাথ মহাশয় কংগ্রেসের এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসাবে নির্বাচিত হন। ১৮৯৫ সালে পুনা ও ১৯০২ সালে আমেদাবাদে কংগ্রেসের সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হন। ১৯০৫ সালে বঙ্গ-ভঙ্গ আন্দোলনের সময় সব থেকে বেশি মুখর হয়ে কংগ্রেসের “মডারেট” তকমা লেগে যায়। মহাত্মা গান্ধীর “civil disobedience” আন্দোলনের কট্টর সমালোচনা করার জন্য তাঁকে কম অপবাদ শুনতে হয়নি । ১৯২১ সালে যখন তৎকালীন অবিভক্ত বাংলা সরকারে মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করলেন তখন অনেক সমালোচনার তির হজম করতে হয়েছিল। সুরেন্দ্রনাথের নেতৃত্বে Calcutta Municipal Corporation এক গনতান্ত্রিক রূপ পেতে  শুরু করে,তখন  সব সমালোচনার ঝড়  উধাও হয়ে যায়। তাঁর লেখা বই “A Nation in Making” বিপ্লবীদের অনুপ্রাণিত করত।

কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে মতানৈক্যের  কারণে তিনি নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। এরপর তিনি মধ্যপন্থী হিসেবে হিন্দু-মুসলিম উভয় পক্ষকে একত্র করার জন্য উদ্যোগী হন। ১৯২১ সালে তিনি নাইট উপাধি লাভ করেন এবং বাংলায় তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে ১৯২১ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত দেশের সেবায় মনোনিবেশ ঘটান।
শিক্ষক হিসেবে স্যার সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীর ভুমিকা অসামান্য।তিনি সর্বদা ছাত্রদের ভারতীয় জাতীয়তাবাদী চেতনায় উজ্জ্বীবিত, অনুপ্রাণিত করতেন এবং ভারতীয়দের একতাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তৃতা দিতে্ন।
৬ই আগস্ট, ১৯২৫: স্যার সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ৭৭ বৎসর বয়সে প্রয়াত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *