‘রাজ্যপালরা কতোটা নিরপেক্ষ-আজ।

Vajubhai

কর্ণাটকের জন্য যে নিয়মে রাজ্যপাল বিজেপিকে সরকার গড়তে আহ্বান জানালেন একই নিয়মে গোয়া, মনিপুর ও মেঘালয়ে কংগ্রেসকে সরকার গড়তে আহ্বান জানালেন না কেন? এই দাবীতে কর্ণাটকে বিরোধীরা একত্রে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছে। ১৭তারিক সকাল বেলায় ইয়েদুরাপ্পা শপথ নেওয়ার পর বিরোধীরা ধর্নায় বসে গেলেন। এই মুহূর্তে বিরোধীরা বিজেপি’র অস্ত্রেই বিজেপিকে ঘায়েল করতে উঠেপড়ে লেগেছে।বৃহত্তর দলকেই সরকার গঠনের সুযোগ দিতে হবে।এই ইস্যুতে বিরোধীদের ক্রমশ বাড়িয়ে চলা চাপের সামনে কর্ণাটকের রাজ্যপাল ভাজুভাই ভালা ফ্যাসাদে পড়ে গেছেন।

বিগত বেশকিছু বছর ধরে দেখা গেছে, কেন্দ্রে যখন যে রাজনৈতিক দল সরকার পরিচালনা করে তখন সেই দল রাজ্যে রাজ্যে স্বমনোভাবাপন্ন লোকদের রাজ্যপাল করে পাঠান।এই প্রবনতা বেশী দেখা দেয় ২০১৪ সালে বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারে আসার পর থেকে। আগে সমাজের বিশিষ্ট মানুষ যারা সাংবিধানিক জ্ঞানসম্পন্ন এবং সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তিদের রাজ্যে রাজ্যে রাজ্যপাল করে পাঠানো হতো। বর্তমানে এই সাংবিধানিক পদটি রাজনৈতিক পদে পর্যবসিত হয়েছ।রাজ্যের নিয়মতান্ত্রিকতার প্রধান আজ আর নিরপেক্ষ নয়।

কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দল সরকারে থাকলে সমস্যা হয়না কিন্তু ভিন্ন দল হলেই সমস্যা।সমস্যার পারদ আরও বেড়ে যায়  যদি সেই দল কেন্দ্রীয় সরকারের আজ্ঞাবহ না হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্যপাল মারফত রাজ্যের স্বাশনাধীন সরকারের বিরুদ্ধে কলকাটি নেড়েই চলে। আজ আমরা প্রায়শই যে ঝগড়া শাসক ও রাজ্যপালের মধ্যে রাজ্যে রাজ্যে দেখতে পাই সেটা ঐ কলকাটি নাড়ার কারনে।

৪০ আসন বিশিষ্ট গোয়াতে কংগ্রেস জিতল ১৭টি আসনে, আর নির্বাচনের পর বিজেপি এমজিপি, জিএফপি সঙ্গে জোট বেঁধে ১৪টি আসন নিয়ে সরকার গড়ল!! মেঘালয়ে কংগ্রেস জিতল ২১টি আসনে, বিজেপি মাত্র ২টি আসন পেয়ে নির্বাচনের পর এনপিইপি,ইউডিপি, পিডিএফ, এইচএসডিপিডিপি দলগুলির সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার গড়ল!! মনিপুরে কংগ্রেস জিতল ২৮টি আসনে আর বিজেপি মাত্র ২১টি আসন জেতার পর বাকি আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার গড়ল!!

আজ যে অগণতান্ত্রিক উপায়ে কর্ণাটকে বিজেপিকে সরকার গঠনের ও আস্থা প্রমানের সুযোগ কেন্দ্রের অঙ্গুলিহেলনে রাজ্যপাল ভাজুভাই ভালা করে দিলেন সেই সুযোগ অন্য রাজ্যগুলিতে বিরোধীরা পেলনা কেন? বিহারে নির্বাচনে আরজেডি জেডিউ’র থেকে বেশী আসন পেয়েছিল। লালু-নিতিশের মহাজোট ভেঙ্গে যাওয়ার পর আরজেডি’কে সরকার গড়তে ও আস্থা প্রমানের সুযোগ দেওয়া হয়নি। কর্ণাটকে বিরোধীদের প্রতিবাদের পর তেজস্বী যাদবও রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে আর্জি জানিয়েছে।

এই মুহূর্তে বিরোধীদের জোরালো দাবি,- বাকি রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে বিচার একরকমের হলে কর্ণাটকের ক্ষেত্রে দ্বিচারিতা কেন? বাকি রাজ্যগুলিতে সর্বাধিক আসন পাওয়া সত্তেও সরকার গঠনের সুযোগ কেন দেওয়া হোল না। এই দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির রাজ্যপালের দ্বারস্থ হচ্ছে কংগ্রেস ও বাকি দলগুলি। দাবির সুরাহা না মিললে সুপ্রিম কোর্টে কড়া নাড়তে চলেছে কংগ্রেস সহ বিরোধীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *