রক্তের সরণি বেয়ে- আজ আন্তর্জাতিক ছাত্র দিবস।লিখেছেন, দেবাশীষ পাইন।

logo17novআমরা শক্তি আমরা বল

আমরা ছাত্র দল…

দেশ কালের সীমানা ছাড়িয়ে ছাত্ররা সর্বদা অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে।ছাত্রদের প্রতিবাদী সত্তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৭ই নভেম্বর দিনটি আন্তর্জাতিক ছাত্র দিবস হিসাবে পালন করা হয়।

ছাত্র বিপ্লবের শুরুর তিনটি রক্তাক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ১৭ই নভেম্বর।

১)দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর কিছু আগে জার্মান নাজিরা চেকস্লোভেকিয়ার দখল নিয়ে নেয়।স্বাধীন চেকস্লোভেকিয়ার দাবিতে চার্লস বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র-ছাত্রীরা তুমুল বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।এই বিক্ষোভ ‘বোহেমিয়া ও মোরাভিয়ার’ আন্দোলন নামে খ্যাতি লাভ করে।চার্লস বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা জন আপলেটাল ও সঙ্গী অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীরা প্রাগ থেকে মোরাভিয়ায় ফেরার পথে নাজি-জার্মান সেনার হাতে নিহত হয়।এই ঘটনা আন্দোলনের আগুনকে শতগুণ বাড়িয়ে দেয়।নাজিদের অত্যাচারও পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে।প্রায় ১২০০ ছাত্র-ছাত্রীকে গ্রেফতার করে concentration camp এ পাঠিয়ে দেয় যার মধ্যে ৯ জনকে ফাঁসিতে লটকে দেওয়া হয়।

২)গ্রীসে, সামরিক জান্তার অত্যাচারের প্রতিবাদে ১৯৭৩ সালে ১৭ই নভেম্বর এথেন্স পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা জান্তা বিরোধী রেডিও সম্প্রচার শুরু করে।সম্প্রচার চলাকালীন কয়েকটি ট্যাঙ্ক কলেজের দেওয়াল ভেঙে ঢুকে পড়ে ধংশলীলা শুরু করে।ঘটনায় ঠিক কতজন হতাহত হয়েছিল আজও অজানা।এই ঘটনার পরে সামরিক জান্তার সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মুখ সমর শুরু হয় এবং জান্তা সামরিক শাসনের অবসান হয়।

৩) ১৯৩৯ সালের ১৭ই নেভেম্বর চেকস্লোভেকিয়ার ঘটনার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তৎকালীন ছাত্র-ছাত্রীরা কম্যুনিস্ট স্বৈরাচারী শাসনে নিষ্পেষিত জনগনের পাশে দাঁড়াতে বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দেয় এবং গনতন্ত্রের দাবী করে।এই আন্দোলন ভেলভেট আন্দোলন নামে খ্যাতি লাভ করে।আন্দোলনের চেহারা ক্রমে বিশাল আকার ধারন করতে থাকে।রায়ট পুলিশের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত হয় ছাত্র, ছাত্রী ও সাধারন মানুষ।ক্রমে আন্দোলন কম্যুনিস্ট শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে গনতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করে।

১৯৪১ সালে লন্ডনে আন্তর্জাতিক ছাত্র সংস্থা সর্বপ্রথম এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক ছাত্র দিবস হিসাবে ঘোষণা করে।২০০০ সালে জাতি সংঘ দিনটিকে তালিকাভুক্ত করে।চেক প্রজাতন্ত্র ও গ্রীসে এই দিনটি ছুটির স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছে।

দেবাশীষ পাইন

দেবাশীষ পাইন

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *