“যে সহে…সে রহে”—দেবাশীষ সিং

humanityযে সহে সে রহে- কথাটা পূর্ণ বাস্তব  ও মানব গুণাবলীর একক স্বত্বা, এবং এটাই সত্য, আর এ সত্য জন্ম নেবে প্রকৃত সত্য থেকে। পৃথিবীর মানবের নিকট সত্য এবং মিথ্যা আবহমানকাল থেকে চলে আসছে।এ সত্যকে যে মানব পূঁজিকরে পৃথিবীতে বিচরণ করে- সেই মানবই একমাত্র সত্য পুজারী বলে আখ্যায়িত।আমরা যারা লেখার মাধ্যমে সত্য প্রচার না করি, তাহলে সত্যকে কি করে আমরা প্রতিষ্ঠা করবো।সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য যুগে যুগে মহা মানবের আবির্ভাব হয়েছে।আজও তার সত্য প্রভাব পৃথিবীব্যাপী বিরাজমান।পৃথিবীর মানুষকে বুকে জড়িয়ে বলি- এসো তোমরা আমার বুকে, আমি তোমাদের সকল কাজেই ভালবাসা সহ পূর্ণ সহযোগিতা করতে পারি।সকল অন্যায়, হানাহানি, হিংসা-বিদ্বেষ থেকে বিরত থাকি।খুন,ধর্ষণ, অন্যায় অবিচার- এসব কখনও মানুষ জীবনের কাম্য না। মানুষের ধৈর্য, ত্যাগ, সহমর্মিতা ও সহযোগিতা পরস্পরের মহান ব্রত।এই ব্রতে সকলের হৃদয়ে জাগ্রত করতে হবে।শুধু তাই না এই মহান ব্রতের আদর্শে পৃথিবী শুদ্ধ মানবগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।যে প্রাণ যে দেহ সরল সুন্দর-মায় প্রত্যেক মানুষের বুঝবার প্রয়াস বা উপলব্ধি করিবার সুযোগ না পায় তাহলে সে প্রাণে বা সে দেহে সুন্দরের দানা বেঁধে উঠতে পারে না। সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে সত্য, দিন ও রাত্রির অবসান হয়- প্রকৃতি তার রূপ বদলায়, মানব, সুর্য, দিন-রাত্রি বা প্রকৃতির রূপ রস গ্রহণ করে সেটাই সত্য।আর এ সত্যের কোন পরিবর্তন নেই, আবহমান কাল থেকে চলে আসছে-চলছে চলবে।আবার মানুষ জীবনে যা অবশ্যম্ভাবী তাই মানুষ তার ন্যায়নিষ্ঠা সত্য প্রতিষ্ঠায় আপনকে অন্য সকলের মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে সম্ভব করে তোলে। যে মানুষ তার মানবতাকে বিসর্জন দিতে পারে তাকে কি বলা যায়। মানবতা বিসর্জন- মানেই মনুষ্যত্বের বিপর্যয় ডেকে আনা।তাই মানুষ তার মানবতা সর্বক্ষেত্রেই আদর্শিক পটভূমিতে নিরক্ষণ করবে। সত্য মিথ্যা চিরকাল বয়ে আসছে, এখানে মিথ্যাকে প্রাধান্য দিলে সত্যের অপলাপ হবে। সত্য সর্বকালের সত্য। সত্যই নিগুঢ় অর্থে শাস্ত্রের মহামতি। মিথ্যা ভয়ঙ্কর বীভৎস অযাচিত এক শব্দের গঞ্জনা। আর এ গঞ্জনায় মানুষকে অসৎ থাকতে প্রলুব্ধ করে।যার ফলশ্রুতিতে সার্বিক অনুশোচনা ব্যপ্ত হই। মিথ্যা সর্বকালেই বিবর্জিত। এ বিবর্জিত শব্দ বা বাক্য হতে যে মানুষ বা মানুষ জাতি দূরে অবস্থান করতে সক্ষম হইবে তখন মানুষ সম্প্রদায় বিশ্ববরেণ্য অভিহিত হবে। জাতী স্বত্ত্বার প্রধান স্বত্ত্ব সনদ জাতীয়তা বোধ। এই জাতীয়তা বোধকে আমরা আজকের দিনে হারাতে বসেছি। হারানোর একমাত্র কারণ আমি যাহা দেখতে পাই তা হচ্ছে মনে লোভ-লালসা এবং গ্লানীময় জীবন। সমাজে আমরা এমন একটা পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছি যা পরস্পরের মাঝে কোনরূপ সহমর্মীতা বা সহযোগিতা নেই। সহমর্মীতা বা সহযোগিতা মানব জীবনের একছত্র একতা। এই একতার বন্ধন আমাদের সমাজ থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। রক্তকে আমরা বিভক্ত করছি। রক্তের সম্পর্ককে দূরে রাখছি। তারপরেও কথা উঠে মানুষ মানুষের জন্য। সকলের দুঃখে সকলের বিপদে আমরা সবাই সবার জন্য। বিশ্ব মানবতায় সকল মানুষ একই সূত্রে গাঁথা মালা। কি হিন্দু কি মুসলমান কি খৃষ্টান কি বৌধ্য। সকলেই মানুষ হিসাবে আমরা ভাই ভাই। আজকের দিনে এই ভাই এ ভাইয়ে পুনঃমিলনে আবদ্ধ হয়ে আপন প্রবৃত্তির মহাযোগে আদিষ্ট হয়। আর মানুষ সকল সকলের জন্য। আমরা মানুষ! পৃথিবীতে বিচরণ করি, খাওয়া দাওয়া করি, জলে স্থলে ভ্রমণ করি, হাসি, কোন্দল করি, লেখাপড়া করি; বিশ্ব সমাজে নাম ডাক করি, সমাজ জাতির একজন হই। স্থাপত্য শিল্প, বাণিজ্য মায় সকল প্রকারের বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিত্ত সংগ্রহ করি। আনন্দের জন্য, সুখের জন্য নিবাস সৃষ্টি করি, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করি, যা কিছুই করিনা কেন তাহাই নিজ নিজ আপন স্বত্ত্বার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। করুণা বা দয়া আমাদের সকল মানুষের মাঝেই বিরাজমান। পৃথিবীতে মানব স্বত্ত্বার পূর্বপর এক বিদুষস্বত্বার অধিকারী। এই অধিকারী বা দাবীদার দুই সমান। স্নিগ্ধ সমীরণ যেমন মানুষ মন দেহকে সতেজ ও প্রফুল্ল করে ঠিক তেমনিই মানুষ আমরা মানুষগণ যদি বিশ্লেষণ করি তাহলেই একে অপরের শক্তিসম্পন্ন একটা মানুষের বহিঃপ্রকাশ হবে। আমার বিদ্যা আছে, জ্ঞান গরিমা আছে, সম্মান আছে, ধন আছে কিন্তু মন নেই। এখানেই মানবতার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। যে মানুষ তার বিবেক দিয়ে বুদ্ধি দিয়ে জ্ঞান গরিমা দিয়ে বিশ্ব সভায় নিজেকে দাঁড় করাইতে পারবে সেই মানুষ তার প্রজ্ঞার প্রসার ঘটাইতে সক্ষম হবে। আজকের যুগে আমরা হানাহানি মারামারি সংঘাত আরও দুধর্ষ কাজে জড়িয়ে আছে। যখন আমাকে নিয়ে সুন্দর কিছু ভাবব- তখনই আর একজনের কথা ভাবতে হবে। এই ভাবতে হবে  বোধশক্তি। যদি আমার ভেতর থেকে আর একজনের ভেতরে ঘন্টা বাজাতে সক্ষম না হয় তাহলে মনুষ্যত্বের সার্থকতা ঐ মানব ছাড়া আর যে সকল জীব আছে তাদের প্রজ্ঞা নিয়ে ভাবনা করা ভুল হবে না।সম্ভবতই মানুষ জন্মের পর তার দেহে যখন চামড়া দিয়ে আবৃত করা হয় তখনই মানব চেহারা পরিলক্ষিত হয়। আর মানবকে যখন চামড়া দ্বারা আবৃত করা  হবে না তখন শুধুই কঙ্কাল বলে আখ্যায়িত হয়। ইহাকে মানব বলা যায়না, এটা কাঠামো মাত্র। এতে রক্ত মাংস, মেদ মজ্জা চামড়া প্রয়োগ করা হলে রহিম করিম, যদু মধু রূপে একজন বলে আখ্যায়িত হবে। শৌর্য বীর্যে- বিদ্যা বুদ্ধির শক্তি সাহসে, জ্ঞান গরিমায় যার প্রভাব সকল মানুষকে আকৃষ্ট করার প্রয়াস লাভ করবে- তখনই সকল মানুষ তার প্রতি একটা উৎকৃষ্ট ভাবনার ছবি হৃদয়ে বিচরণ করবে।

received_1622156204757541

  দেবাশীষ সিং

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *